| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ সিলেট বোর্ড ২০১৭ – কোষ বিভাজন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
দুটি হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের মধ্যে জোড় সৃষ্টি হওয়াই হলো সিন্যাপসিস।
কোষ সৃষ্টি, এর বৃদ্ধি এবং পরবর্তীতে বিভাজন এ তিনটি কাজ যে চক্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় তাকে কোষচক্র বলে। কোষচক্র ইন্টারফেজ এবং মাইটোটিক ফেজ নিয়ে গঠিত। ইন্টারফেজ হলো কোষ বিভাজন শুরু করার প্রস্তুতি পর্ব। আর মাইটোটিক ফেজে প্রোফেজ, প্রো-মেটাফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজ ধাপগুলো ঘটে থাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত P চিহ্নিত ধাপটি হলো প্রো-মেটাফেজ। সুতরাং Q চিহ্নিত ধাপটি হলো মেটাফেজ। নিম্নে মেটাফেজ ধাপের চিত্রসহ বর্ণনা দেওয়া হলো-
এ ধাপের শুরুতে নিউক্লিওপর্দা ও নিউক্লিওলাসের সম্পূর্ণ বিলুপ্তি ঘটে। স্পিন্ডল যন্ত্রের গঠন সম্পন্ন হয়। স্পিন্ডল যন্ত্রের দু'মেরুর মধ্যবর্তী অংশকে নিরক্ষীয় অঞ্চল বলে। ক্রোমোসোমগুলোর সেন্ট্রোমিয়ার নিরক্ষীয় অঞ্চল বরাবর আসে এবং ক্রোমোসোমাল তন্তুর সাথে সংযুক্ত থাকে। প্রতি ক্রোমোসোমের সেন্ট্রোমিয়ার অঞ্চল বিপরীত মেরু থেকে আগত দুটি ট্র্যাকশন তন্তুর সাথে যুক্ত হয়। এ পর্যায়ে ক্রোমোসোমগুলো সর্বাধিক কুণ্ডলিত থাকায় বেশি খাটো এবং মোটা দেখায়। শেষ পর্যায়ে সেন্ট্রোমিয়ারের বিভাজন শুরু হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'R' চিহ্নিত ধাপটি হলো মায়োসিস কোষ বিভাজনের প্রোফেজ-১ পর্যায়ের প্যাকাইটিন উপ-পর্যায়। জীবজগতের উন্নয়ন ও বিবর্তনে প্যাকাইটিন উপ-পর্যায়ের ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
প্যাকাইটিন উপ-পর্যায়ে কায়াজমা সৃষ্টি মাধ্যমে ক্রসিংওভার সংঘটিত হয়। হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময়কে বলা হয় ক্রসিংওভার। জীবের জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টিতে এবং জীবজগতের উন্নয়ন ও বিবর্তনে ক্রসিংওভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জীবের সব অদৃশ্য ও দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী একক হলো জিন। জিন-এর অবস্থান ক্রোমোসোমে। জিনগুলো সাধারণ নিয়মে ক্রোমোসোমের DNA অনুসূত্রের একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্ত পর্যন্ত পৃথক ও রৈখিকভাবে পরপর সাজানো থাকে। সাধারণত জনন কোষ মায়োসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়। আবার ক্রসিংওভারের ফলে দুটি হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময়ের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী জিনের আদান-প্রদান ঘটে। এই জিনের আদান-প্রদানের মাধ্যমে ক্রোমোসোমের বৈশিষ্ট্যেরও পরিবর্তন ঘটে। প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে পরবর্তীতে কোষ বিভাজনের শেষে উৎপন্ন অপত্য চারটি কোষেও জিনের বিন্যাসে পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ জীবের জননকোষে জিনের বিন্যাস পরিবর্তিত হয়। ফলে যৌন জননে সৃষ্ট জীবকোষের ক্রোমোসোমেও দেখা যায় জিনের বিন্যাসের | আমূল পরিবর্তন। এভাবে যৌন জননের মাধ্যমে সৃষ্ট জীবে বৈচিত্র্যতা দেখা যায়। এ বৈচিত্র্য ক্রোমোসোমে জিন বিন্যাসের ভিন্নতার কারণেই ঘটে থাকে। এ বৈচিত্র্য সৃষ্টির মাধ্যমে জীবজগতের উন্নয়ন ও বিবর্তন সংঘটিত হয়। আর ক্রসিংওভারের মাধ্যমে ঘটনাগুলো ঘটে প্যাকাইটিন উপ-পর্যায়ে। তাই বলা যায়, জীবজগতের উন্নয়ন ও বিবর্তনে প্যাকাইটিন উপ- পর্যায়ের গুরুত্ব অপরিসীম।