| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ সিলেট বোর্ড ২০২১ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
কাইলোমাইক্রন হল ফ্যাট আর প্রোটিনের যৌথ পোলাইপোপ্রোটি দিয়ে গড়া জটিল কণিকা।
পরিপাকে পিত্তরসের ভূমিকা :
১. এটি অন্ত্রে ক্ষারীয় মাধ্যম সৃষ্টি করে যা বিভিন্ন খাদ্য পরিপাকের জন্য অত্যাবশ্যক।
২. পিত্তলবণ ফ্যাট জাতীয় খাদ্যকে ইমালসিফিকেশনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত করে।
৩.ডিওডেনামের pH ভারসাম্য রক্ষা করে বিভিন্ন এনজাইম ক্রিয়ায় সহায়তা করে।
উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অংশটি হলো পাকস্থলি। পাকস্থলির কার্যকারিতায় স্নায়ুতন্ত্রের গুরুত্ব নিচে আলোচনা করা হলো।
এই কাজ টি দুই ধাপে হয়ে থাকে
● লালারস ক্ষরণ
● গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরণ
লালারস ক্ষরণ : মুখ গহ্বরে অবস্থিত লালাগ্রন্থি থেকে লালারস ক্ষরণ দু'ধরনের প্রতিবর্তী ক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়-
১. সহজাত প্রতিবর্তী : খাদ্য দ্রব্য মুখগহ্বরে প্রবেশের সাথে সাথে সহজাত প্রতিবর্তী ক্রিয়া শুরু হয়। জিহ্বার স্বাদকুড়ির স্নায়ুগ্রন্থিগুলো বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের স্বাদের সংস্পর্শে আসে উদ্দীপ্ত হয় এবং সংবেদী স্নায়ু এ উদ্দীপনাকে মস্তিষ্কে প্রেরণ করে। মস্তিস্কে উদ্দীপনা পৌছানোমাত্র লালরস নিঃসৃত হয়।
২. অর্জিত প্রতিবর্তী : খাদ্য দেখে ঘ্রাণ নিয়ে বা মুখে পুরে নেয়ার চিন্তা করলে লালাগ্রন্থি থেকে রস নিঃসৃত হয়। এটি অর্জিত প্রতিবর্তী ক্রিয়া। বিজ্ঞানী প্যাভলভ এটি প্রমাণ করেন।
গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরণ :
স্নায়ু পর্যায় এর স্থায়ীকাল এক ঘণ্টা। মুখগহ্বরে খাদ্যবস্তুর উপস্থিতি, ঘ্রাণ, স্বাদ, দর্শন এবং গলাধঃকরণ এক প্রকার স্নায়ু উদ্দীপনা সৃষ্টি করে যা মস্তিষ্কের ভেগাস স্নায়ু হতে পাকস্থলিতে পৌছে এবং গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসৃত হয়।
গ্যাস্ট্রিন পর্যায় : এটি পাকস্থলিতে সম্পন্ন হয়। এ সময় স্নায়ু ও হরমোন উভয়ে সম্পৃক্ত হয়। উভয়বিধ ক্রিয়ার ফলে HCI সমৃদ্ধ গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসরণ প্রায় চার ঘণ্টা যাবৎ চলতে থাকে।
আন্ত্রিক পর্যায় : খাদ্যকণা বা কাইম ডিওডেনামে প্রবেশ করে এর প্রাচীরের সংস্পর্শে আসে তখন হরমোনাল ও স্নায়ুবিক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয় । এই উদ্দীপনা মস্তিষ্কে পৌছালে গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরণ বন্ধ হয় এবং কাইমের প্রবেশ ধীরগতি হয় এবং খাদ্য পাকস্থলি থেকে ডিওডেনামে আসা শুরু করে।
সুতরাং উদ্দীপকের এ চিহ্নিত অঙ্গের কার্যকারিতা স্নায়ুতন্ত্রের A উপর নির্ভরশীল।
উদ্দীপকের 'B' চিহ্নিত অঙ্গটির নাম হলো যকৃত। নিচে যকৃতের বিপাকীয় ভূমিকা প্রদান করা হলো-
১. শর্করা বিপাক : যকৃত গ্লাইকোজেনেসিন প্রক্রিয়ার লাইকোজেন এবং ইনসুলিন নিঃসরণের মাধ্যমে শর্করা বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।
২. প্রোটিন বিপাক : যকৃত ডিঅ্যামিনেশন এবং প্লাজমা প্রোটিন উৎপাদনের মাধ্যমে প্রোটিন বিপাকে অংশগ্রহণ করে।
৩. ফ্যাট বিপাক : যকৃত অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটকে ফ্যাটে রূপান্তর করে এবং রক্ত থেকে ক্লোলেস্টেরল সরিয়ে ফ্যাট বিপাকে অংশগ্রহণ করে।
৪. তাপ উৎপাদন : যকৃতের অভ্যন্তরে নানা ধরনের বিক্রিয়া সংঘটিত হওয়ায় এখানে প্রচুর তাপ উৎপাদতি হয়। এই তাপ দেহের সমগ্র সঞ্চালিত হয়ে তাপমাত্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
৫. টক্সিন বা বিষ অপসারণ : যকৃত কোষের অভ্যন্তরে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় এই বিষ প্রশমিত করে।
৬. হরমোন ভাঙ্গন : যকৃত বিভিন্ন হরমোনের কর্মকান্ডে স্থায়ী অভ্যন্তরীণ পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে হরমোন ভাঙ্গন নিয়ন্ত্রণ করে।
এছাড়া যকৃত লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন ও ভাঙ্গন, হিমোগ্লোবিনের ভাঙ্গন, কোলেস্টেরল উৎপাদন, পিত্ত উৎপাদন এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিপাকীয় ভূমিকায় অংশগ্রহণ করে ।