| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ সিলেট বোর্ড ২০২১ – টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
মূলের বাইরের ত্বককে এপিব্লেমা বলে।
1905 সালে Blackman, Law of minimum এর উপর ভিত্তি করে সীমাবদ্ধতার ফ্যাক্টর সূত্র প্রস্তাব করেন। তার মতে কোনো বিক্রিয়া একাধিক প্রভাবক দ্বারা প্রভাবিত হলে সর্বাপেক্ষা কম মাত্রার প্রভাবক দ্বারা বিক্রিয়াটির হার নির্ধারিত হয়। Blackman কম মাত্রার প্রভাবকটিকে Limiting Factor বা সীমা নির্ধারণকারী প্রভাবক নামে অভিহিত করেছেন। যেমন, তাপমাত্রা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণকারী একটি ফ্যাক্টর।
উদ্দীপকে উল্লিখিত P এবং Q হলো যথাক্রমে ফ্লোয়েম এবং জাইলেম। জাইলেম ও ফ্লোয়েম নিয়ে গঠিত উদ্ভিদের সংবহনে অংশগ্রহণকারী টিস্যুগুচ্ছকে ভাস্কুলার বান্ডল বা পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ বলে। সাধারণত কাণ্ডে বিদ্যমান জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যু একই ব্যাসার্ধে থেকে বান্ডল গঠন করে, কিন্তু মূলে এরা পৃথক ব্যাসার্ধে থেকে বান্ডল গঠন করে। নিচে ভাস্কুলার বান্ডল বা পরিবহন টিস্যুতন্ত্রের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা করা হলো— জাইলেম ও ফ্লায়েমের পারস্পরিক অবস্থানের ভিত্তিতে ভাস্কুলার বান্ডলকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়-
১. সংযুক্ত ভাস্কুলার বান্ডল : জাইলেম ও ফ্লোয়েম একই ব্যাসার্ধের উপর একই গুচ্ছে অবস্থান করলে তাকে সংযুক্ত ভাস্কুলার বান্ডল বলে। এটিকে আবার দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা- (i) সমপার্শ্বীয় : যে সংযুক্ত ভাস্কুলার বাড়লে জাইলেম ও ফ্লোয়েম একত্রে সংযুক্তভাবে একই ব্যাসার্ধে অবস্থান করে এবং ফ্লোয়েম বাইরের দিকে ও জাইলেম ভেতরের দিকে বিন্যস্ত থাকে তাকে সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। জাইলেম ও ফ্লোয়োমের মধ্যে যখন ক্যাম্বিয়াম নামক ভাজক টিস্যু উপিস্থত থাকে তাকে মুক্ত সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে এবং ক্যাখিয়াম যখন অনুপস্থিত থাকে, তখন তাকে বন্ধ সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে।
(ii) সমদ্বিপার্শ্বীয় : যে সংযুক্ত ভাস্কুলার বান্ডলে একই ব্যাসার্ধের মাঝখানে জাইলেম এবং তার দু'পাশে (বাইরের ও ভিতরের দিকে) ক্যাম্বিয়াম ও ফ্লোয়েম থাকে। তখন তাকে সমদ্বিপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে।
২. অরীয় ভাস্কুলার বান্ডল : যে ভাস্কুলার বান্ডল জাইলেম এবং ফ্লোয়েম একত্রে একটি বান্ডলের সৃষ্টি না করে পৃথক পৃথকভাবে ভিন্ন • ভিন্ন বান্ডলের সৃষ্টি করে এবং জাইলেম বান্ডল ও ফ্লোয়েম বান্ডল ভিন্ন। "ভিন্ন ব্যাসার্ধে পাশাপাশি অবস্থান করে তাকে অরীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে।
৩. কেন্দ্রিক ভাস্কুলার বান্ডল : জাইলেম এবং ফ্লোয়েম টিস্যুর যেকোনো একটি কেন্দ্রে থাকে এবং অন্যটি তাকে চারদিক থেকে ঘিরে রাখে তাকে কেন্দ্রিক ভাস্কুলার বান্ডল বলে। এটিকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা—
i. হ্যাড্রোসেন্ট্রিক : এক্ষেত্রে জাইলেম কেন্দ্রে থাকে এবং ফ্লোয়েম তাকে সম্পূর্ণরূপে ঘিরে রাখে।
ii. লেপ্টোসেন্ট্রিক : এক্ষেত্রে ফ্লোয়েম কেন্দ্রে থাকে এবং জাইলেম তাকে ঘিরে রাখে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'M' হলো- বদ্ধ সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডল যা একবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ডে পাওয়া যায় এবং N হলো অরীয় ভাস্কুলার বান্ডল যা পুষ্পক উদ্ভিদের মূলে পাওয়া যায়। সুতরাং কাণ্ড ও মূলের মধ্যে পার্থক্য নিচে উল্লেখ করা হলো-
কাণ্ড
১. কাণ্ডত্বকের বাইরে কিউটিকল থাকে।
২. কাণ্ডরোম সাধারণত বহুকোষী হয়। কখনো কখনো এককোষী হয়।
৩. কাণ্ডত্বকে সাধারণত পত্ররন্ধ্র থাকে।
৪. কর্টেক্স অপেক্ষাকৃত ছোট।
৫. অধঃত্বক উপস্থিত।
৬. অন্তঃত্বক থাকলে (একবীজপত্রী উদ্ভিদ কাণ্ডে অনুপস্থিত) সাধারণত ঢেউ খেলানো, কোষের পার্শ্বপ্রাচীর স্থূল নয়।
৭. পেরিসাইকল বহুস্তরবিশিষ্ট বা অনুপস্থিত ।
৮. কাণ্ডের ভাস্কুলার বান্ডল সংযুক্ত (সমপার্শ্বীয় অথবা সমদ্বিপার্শ্বীয়)।
৯. জাইলেম এন্ডার্ক । অর্থাৎ মেটাজাইলেম পরিধির দিকে এবং প্রোটোজাইলেম কেন্দ্রের দিকে থাকে।
মূল
১. মূলত্বকের বাইরে কিউটিকল থাকে না।
২. মূলরোম হয় ।
৩. মূলত্বকে সাধারণত পত্ররন্ধ্র থাকে না।
৪. কর্টেক্স অপেক্ষাকৃত বড় ।
৫. অধঃত্বক অনুপস্থিত।
৬. অন্তঃত্বক বিদ্যমান এবং বৃত্তাকার, কোষের পার্শ্বপ্রাচীর স্থূল ।
৭. পেরিসাইকল একস্তরবিশিষ্ট, সর্বদা উপস্থিত। যুক্ত ৮. মূলের ভাস্কুলার বান্ডল সবসময়ই অরীয়
৯. জাইলেম এক্সার্ক ।