| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ সিলেট বোর্ড ২০২২ – সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূুহ, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা হলেন মন্টেস্কু।
প্রজাতন্ত্র হলো এমন একটি সরকার ব্যবস্থা যেখানে সর্বোচ্চ ক্ষমতা ভোগ করে জনগণ বা জনগণের একাংশ। অর্থাৎ যে শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকার প্রথম জনগণের দ্বারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন, তাকে প্রজাতন্ত্র বলে। যেমন বাংলাদেশ একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। প্রজাতন্ত্রের রাজা বা রানী কোন পথ থাকে না। প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রগুলোর সাধারণত সার্বভৌম রাষ্ট্র হয়ে থাকে। তবে অনেক উপরাষ্ট্রীয় অঞ্চলও (যেখানে প্রজাতান্ত্রিক ধাঁচের সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত) প্রজাতন্ত্র নামে চিহ্নিত হয়ে থাকে।
উদ্দীপকের সংসদীয় ও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের চিত্র ফুটে উঠেছে।
আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের মধ্যকার সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে গণতান্ত্রিক সরকারকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ও রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার। যে শাসনব্যবস্থা শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য সংসদ বা আইনসভার নিকট দায়ী থাকে তাকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার বলে। এ ধরনের সরকারে একজন নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধান থাকেন আর প্রধানমন্ত্রী হন প্রকৃত নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী। অন্যদিকে, যে শাসনব্যবস্থা শাসন কার্য পরিচালনার ভার রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত থাকে এবং তিনি সাধারণত আইনসভা নিকট দায়ী থাকেন না তাকে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলে। এ ধরনের রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান প্রকৃত শাসক ও সরকার প্রধান। এ ধরনের রাষ্ট্রের মন্ত্রিগণ তাদের কাজের জন্য আইনসভার নিকট নন বরং রাষ্ট্রপতির কাছে দায়ী থাকেন।
উদ্দীপকের 'ক' সরকারের রাষ্ট্রপ্রধান নামসর্বস্ব, প্রধানমন্ত্রী সরকার প্রধান এবং মন্ত্রিসভা তার কাজের জন্য আইনসভার নিকট দায়ী।এরূপ তথ্যগুলো সংসদীয় সরকার ব্যবস্থাকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে, 'খ' সরকারের রাষ্ট্রপ্রধান প্রকৃত শাসক। রাষ্ট্রপতি সরকার প্রধান এবং মন্ত্রিসভা তার কাজের জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট দায়ী। এরূপ তথ্যগুলো রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারকে তুলে ধরে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে সংসদীয় ও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার চিত্র ফুটে উঠেছে।
'ক' সরকারটির সাথে তথা সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের সাথে বাংলাদেশের সাদৃশ্য রয়েছে।
যে শাসন ব্যবস্থায় শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য সংসদ বা আইনসভার নিকট দায়ী থাকে,মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার বলে। সংসদের শাসন ব্যবস্থায় একজন নামমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান থাকেন। সরকার পরিচালনার প্রকৃত ক্ষমতা থাকে আইনসভার আস্থাভাজন মন্ত্রিসভার হাতে। আর প্রধানমন্ত্রী হলেন মন্ত্রিসভার নেতা, সংগঠক ও সরকার প্রধান। মন্ত্রিসভা যতক্ষণ পর্যন্ত আইনসভার আস্থাভাজন থাকবে, ততক্ষণ শাসনক্ষমতা পরিচালনা করতে পারবে। কিন্তু আইনসভার অনাস্থা প্রকাশ পেলে মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করবে। মন্ত্রিসভার সদস্য আইনসভার সদস্য। মন্ত্রিগণ ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে সংসদের নিকট জবাবদিহি করেন। বাংলাদেশে এ ধরনের সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থায় বিদ্যমান। বাংলাদেশে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান থাকায় এ ব্যবস্থা মন্ত্রিপরিষদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থায় মন্ত্রিপরিষদকে কেন্দ্র করেই সরকারের সকল কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। আর বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা কেন্দ্রবিন্দু হলো প্রধানমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশের সরকার প্রধান। সংবিধান অনুসারে প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদ তাদের কর্মকান্ডের জন্য জাতীয় সংসদের নিকট দায়ী থাকেন এবং জাতীয় সংসদের আজ তা হারালে মন্ত্রিপরিষদকে পদত্যাগ করতে হবে।
সুতরাং বলা যায় 'ক' সরকারব্যবস্থার সাথে তথা সংসদীয় সরকারব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের সরকারব্যবস্থার মিল রয়েছে।