ভূণথলির গর্ভযন্ত্রের বিপরীত দিকের কোষ তিনটিকে একত্রে প্রতিপাদ কোষ বলে।
স্ব-পরাগায়নে পরাগরেণুর অপচয় কম হয়। কারণ এ পরাগায়ন প্রক্রিয়া একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে ঘটে। এক্ষেত্রে পরাগায়নের জন্য বাহকের উপর নির্ভর করতে হয় না। ফলে পরাগরেণুর অপচয় কম হয়।
চিত্রের B অংশটি হলো পরাগধানী। পরাগধানীতে পুংজনন কোষ তথা পুংগ্যামেট সৃষ্টি হয়। নিচে পুংগ্যামেট সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি চিত্রসহ ব্যাখ্যা করা হলো-
পরাগরেণু পুংগ্যামেট সৃষ্টির প্রথম কোষ। প্রথম দিকে পরাগরেণুতে একটি নিউক্লিয়াস থাকে, পরে এ নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে দুইটি অসম নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে। এদের বড়টিকে নালি নিউক্লিয়াস এবং ছোটটিকে জনন নিউক্লিয়াস বলে। সাধারণত এই দুই নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট অবস্থায় পরাগরেণু পরাগধানী থেকে বের হয়ে আসে ও পরাগায়ন ঘটে।
এরপর পরাগরেণুর জার্মপোর বৃদ্ধি পেয়ে নালি সৃষ্টি করে, এ নালিকে পরাগনালি বা পোলেন টিউব বলে। পরাগরেণুর মধ্যে জনন নিউক্লিয়াস বিভক্ত হয়ে দুইটি পুংগ্যামেট বা শুক্রাণু সৃষ্টি করে। পরাগনালির ভিতরে প্রথমে নালি নিউক্লিয়াস প্রবেশ করে এবং পরে জনন নিউক্লিয়াস বা এর থেকে সৃষ্ট পুংগ্যামেট প্রবেশ করে।
উদ্দীপকের চিত্রে প্রদর্শিত ও প্রক্রিয়া দুটি হলো যথাক্রমে স্ব-পরাগায়ন এবং পর-পরাগায়ন। স্ব-পরাগায়ন এবং পর-পরাগায়নের বেশ কিছু সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। নিচে উভয় প্রক্রিয়ার সুবিধা ও অসুবিধা বিশ্লেষণ করা হলো-
সুবিধা : স্ব-পরাগায়নের ফলে পরাগরেণুর অপচয় কম হয়। এ ধরনের পরাগায়নের জন্য বাহকের উপর নির্ভর করতে হয় না এবং পরাগায়ন নিশ্চিত হয়। স্ব-পরাগায়নের ফলে নতুন উদ্ভিদে বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটে না, ফলে এ পরাগায়নের মাধ্যমে কোনো প্রজাতির চরিত্রগত বিশুদ্ধতা বজায় রাখা সম্ভব। অন্যদিকে পর-পরাগায়নের ফলে নতুন চরিত্রের সৃষ্টি হয়, বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়, বীজ অধিক জীবনীশক্তি সম্পন্ন হয় এবং নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়। এই প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট নতুন উদ্ভিদর অভিযোজন ক্ষমতা অনেক বেশি হয়।
অসুবিধা : স্ব-পরাগায়নের ফলে সৃষ্ট বীজের জীবনীশক্তি কম হয়। এ ধরনের পরাগায়নের ফলে নতুন প্রজন্মের উদ্ভিদে অভিযোজন ক্ষমতা কমে যায় এবং দ্রুত কোনো প্রজাতির বিলুপ্ত ঘটতে পারে। অপরদিকে পর-পরাগায়ন বাহক নির্ভর প্রক্রিয়া হওয়ায় পরাগায়নের নিশ্চয়তা থাকে না, এতে প্রচুর পরাগরেণুর অপচয় ঘটে। পর-পরাগায়নে প্রজাতির বিশুদ্ধতা নষ্ট হয়।
