জলজ উদ্ভিদের বড় বড় বায়ুকুঠুরিযুক্ত প্যারেনকাইমা কোষই হলো অ্যারেনকাইমা।
মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ত্বকের টিস্যুকে ট্রানজিশনাল আবরণী বলা হয়। কারণ মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ত্বকে স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যু আছে, যার স্তরের সংখ্যা মিনিটের মধ্যে পাল্টে যেতে পারে। কখনো দেখা যায় তিন-চারটি স্তর, আবার পরক্ষণেই দেখা যায় সাত-আটটি। তাই মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ত্বকের টিস্যুকে ট্রানজিশনাল আবরণী বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গানুটি হচ্ছে কোষপ্রাচীর।
কোষপ্রাচীর মৃত বা জড়বস্তু দ্বারা গঠিত। এর রাসায়নিক গঠন বেশ জটিল যা সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, লিগনিন, গ্লাইকো-প্রোটিন, পেকটিন, সুবেরিন ইত্যাদি রাসায়নিক পদার্থের সমন্বয়ে গঠিত। তবে ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর প্রোটিন, লিপিড ও পলিস্যাকারাইড দ্বারা গঠিত। ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন নির্মিত। একটি বিকশিত কোষপ্রাচীর তিনটি স্তরে বিভক্ত। যথা-
i. প্রাথমিক প্রাচীর, ii. গৌণ প্রাচীর এবং iii. মধ্যপর্দা
প্রাথমিক কোষপ্রাচীরটি একস্তরবিশিষ্ট। মধ্য পর্দার উপর প্রোটোপ্লাজম থেকে নিঃসৃত কয়েক প্রকারের রাসায়নিক দ্রব্য জমা হয়ে ক্রমশ গৌণপ্রাচীর সৃষ্টি হয়। এ প্রাচীর গঠনকালে মাঝে মাঝে ছিদ্র তৈরি হয়, যাকে কূপ বলে। কোষপ্রাচীর কোষকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
উদ্দীপকের চিত্র Y ও Z দ্বারা মূলত ফ্লোয়েম ও জাইলেম টিস্যুকে বোঝানো হয়েছে। জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে উদ্ভিদ তার পরিবহণ কাজ সম্পন্ন করে।
উদ্ভিদে পরিবহণ বলতে মাটি থেকে শোষিত পানি ও খনিজ লবণ এবং পাতায় প্রস্তুতকৃত খাদ্যের চলাচলকে বোঝায়। জাইলেম ভেসেলের মাধ্যমে পানি এবং খনিজ লবণ উদ্ভিদের পাতায় পৌঁছায়। প্রস্বেদন টান, কৈশিক শক্তি এবং মূলজ চাপের ফলে কোষরস উদ্ভিদের পাতায় পৌঁছে যায় বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন। এভাবে পাতায় পানি পৌঁছালে সেখানে খাদ্য প্রস্তুত হয়। প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন এলাকায় পরিবহণের দায়িত্ব গ্রহণ করে ফ্লোয়েম টিস্যু। এ খাদ্য ফ্লোয়েমের সিভনলের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈব যৌগ ফ্লোয়েম টিস্যুর মাধ্যমে বিপরীত দিকে একই সাথে চলাচল করে। উদ্ভিদের নিচের দিকের যৌগগুলো নিচের দিকে, উপরে সংশ্লেষিত যৌগগুলো উপরের দিকে এবং উদ্ভিদের মাঝামাঝি এলাকায় সংশ্লেষিত পদার্থগুলো উপরে বা নিচে যেকোনো দিকে প্রবাহিত হয়।
তাই আলোচনা থেকে বলা যায় যে, Y ও Z অর্থাৎ ফ্লোয়েম ও জাইলেম টিস্যু পানি, খণিজ লবণ এবং উৎপাদিত খাদ্য উদ্ভিদ দেহের উর্ধ্ব ও নিম্নমুখী পরিবহণে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
