যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বিক্রিয়ক পদার্থ বিক্রিয়া করে উৎপাদে পরিণত হয় আবার উৎপাদ পদার্থগুলো বিক্রিয়া করে পুনরায় বিক্রিয়ক পদার্থে পরিণত হয় তাকে উভমুখী বিক্রিয়া বলা হয়।
অক্সিজেনের ইলেকট্রন বিন্যাস হলো-
ইলেকট্রন বিন্যাস থেকে দেখা যায়, অক্সিজেনের শেষ কক্ষপথে 6টি ইলেকট্রন রয়েছে অর্থাৎ এর যোজ্যতা ইলেকট্রন 6।
কিন্তু অক্সিজেন অন্য পরমাণুর সাথে যুক্ত হওয়ার সময় ২টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে অথবা ২টি ইলেকট্রন শেয়ার করে অর্থাৎ অক্সিজেনের যোজনী 2। তাই অক্সিজেনের যোজনী ও যোজ্যতা ইলেকট্রন সমান নয়।
উদ্দীপকের Mg এর বামের ও ডানের X, Y ও Z মৌল তিনটি যথাক্রমে Na, Al ও CI। এ মৌল তিনটির ইলেকট্রন আসক্তির ক্রম নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো-
ইলেকট্রন আসক্তি হলো গ্যাসীয় অবস্থায় কোনো মৌলের এক মোল গ্যাসীয় পরমাণুতে এক মোল ইলেকট্রন প্রবেশ করিয়ে এক মোল ঋণাত্মক আয়নে পরিণত করতে নির্গত শক্তির পরিমাণ। একই পর্যায়ের যতই বাম থেকে ডানে যাওয়া যায় মৌলসমূহের পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে নিউক্লিয়াসে ধনাত্মক চার্জ বৃদ্ধি পায় এবং সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরে একটি করে ইলেকট্রন যুক্ত হয়। কিন্তু শক্তিস্তরের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় না। ফলে একই পর্যায়ের বাম থেকে ডান দিকে গেলে নিউক্লিয়াস কর্তৃক সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়। এতে পরমাণুর আকার হ্রাস পায়। ফলে একই পর্যায়ের যতই বাম থেকে ডান দিকে যাওয়া যায় মৌলসমূহের ইলেকট্রন আসক্তি ততই বৃদ্ধি পায়।
যেহেতু মৌল তিনটির মধ্যে Na এর আকার সবচেয়ে বড় ও CI এর আকার সবচেয়ে ছোট এবং Al তাদের মধ্যবর্তী মৌল। সুতরাং মৌল তিনটির ইলেকট্রন আসক্তির ক্রম হবে, Na < Al < Cl.
উদ্দীপকের ও মৌল দুইটি যথাক্রমে সোডিয়াম ও ক্লোরিন। এ মৌলদ্বয় অত্যন্ত সক্রিয় অথচ এ সক্রিয়তার কারণ ভিন্ন। তা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো-
Na গ্রুপ-1 এর মৌল যা ক্ষার ধাতু। ক্ষার ধাতুসমূহ সর্বশেষ শক্তিস্তরে ১টি মাত্র ইলেকট্রন থাকে, যা ত্যাগ করে একক ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। সোডিয়াম তথা ক্ষার ধাতুসমূহের সক্রিয়তা পানির সাথে বিক্রিয়ায় বুঝা যায়।
এখানে, সোডিয়াম পানির সাথে এত তীব্রভাবে বিক্রিয়া করে যে, সংযোগের সময় আগুন ধরে যায়। আবার, ক্লোরিন গ্রুপ-17 এর মৌল যা হ্যালোজেন নামে পরিচিত। এদের সর্বশেষ কক্ষপথে 7টি ইলেকট্রন থাকে। ফলে এরা 1টি ইলেকট্রন গ্রহণ বা শেয়ারের মাধ্যমে ঋণাত্মক আয়ন/যৌগ গঠন করে। ক্লোরিন তথা হ্যালোজেনসমূহের সক্রিয়তা পানির সাথে বিক্রিয়ায় বুঝা যায়।
সুতরাং Na ও Cl মৌল দুইটির সক্রিয়তার কারণ ভিন্ন।
