কোনো মৌলের একটি পরমাণু, কার্বন-12 পরমাণুর ভরের অংশের তুলনায় যতগুণ ভারী তাকে ঐ মৌলের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর বলে।
সুতরাং কোনো মৌলের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর
জার্মান বিজ্ঞানী ডোবেরাইনার 1817 সালে একটি সূত্র প্রকাশ করেন। যা ডোবেরাইনার ত্রয়ী সূত্র নামে পরিচিত। সূত্রটি নিম্নরূপ-
রাসায়নিকভাবে সদৃশ এমন তিনটি মৌলের মধ্যে দ্বিতীয়টির পারমাণবিক ভর প্রায় প্রথম ও দ্বিতীয় মৌলের পারমাণবিক ভরের যোগফলের অর্ধেক বা তার নিকটবর্তী।
ডোবেরাইনারের ত্রয়ী সূত্রের ব্যাখ্যা: লিথিয়াম (Li) সোডিয়াম (Na) ও পটাশিয়াম (K) এর রাসায়নিক ধর্মের মিল থাকায় লিথিয়াম (Li) ও পটাশিয়ামের (K) পারমাণবিক ভরের (7+39) যোগফলের অর্ধেক 23 যা সোডিয়ামের পারমাণবিক ভর।
উদ্দীপকের K মৌলটি হলো ক্লোরিন (Cl), কারণ C1 পর্যায় সারণির ও নং পর্যায়ের ও গ্রুপ-17 এর মৌল। C1 মৌলটির দ্বিপরমাণুক অণু গঠনে রাসায়নিক বন্ধন নিচে চিত্রসহ বর্ণনা করা হলো-
Cl এর ইলেকট্রন বিন্যাস,
ইলেকট্রন বিন্যাস হতে দেখা যায়, CI এর শেষ কক্ষপথে টি ইলেকট্রন বিদ্যমান। ফলে অষ্টক পূরণের জন্য এর একটি ইলেকট্রন প্রয়োজন। এক্ষেত্রে দুটি ক্লোরিন (CI) পরমাণু পরস্পর একটি করে ইলেকট্রন শেয়ার করে নিকটবর্তী নিষ্ক্রিয় গ্যাস এর ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করে এবং অণু গঠন করে।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় পর্যায়ের 'X' মৌলটি হলো কার্বন (C) এবং তৃতীয় পর্যায়ের 'Y' ও 'Z' মৌল দুইটি যথাক্রমে ক্লোরিন ও সোডিয়াম। সুতরাং 'ZY' অর্থাৎ NaCl পানিতে দ্রবীভূত হলেও 'XY' অর্থাৎ যৌগটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
পানি একটি পোলার যৌগ। পানির অণুতে বিদ্যমান হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের মধ্যে তড়িৎ ঋণাত্মকতার পার্থক্য অধিক হওয়ায় এদের মধ্যে পোলারায়ন ঘটে। ফলে অক্সিজেন (O) পরমাণুটি আংশিক ঋণাত্মক এবং হাইড্রোজেন পরমাণুটি আংশিক ধনাত্মক চার্জপ্রাপ্ত হয়।
এখন NaCl কে পানিতে দ্রবীভূত করলে যৌগটি প্রথমে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নে বিয়োজিত হবে। এক্ষেত্রে NaCl এর ধনাত্মক প্রান্ত পানির অণুর ঋণাত্মক প্রান্ত বা অক্সিজেন দ্বারা আকর্ষিত হবে। অপরদিকে, ঋণাত্মক প্রান্তে পানির ধনাত্মক বা হাইড্রোজেন প্রান্ত দ্বারা আকর্ষিত হবে। আকর্ষণের কারণে যৌগের ধনাত্মক ও ঋণাত্মক প্রান্ত পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পানির পোলার অণু বিপরীত প্রান্ত দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকে এবং পানিতে দ্রবীভূত হয়। এক্ষেত্রে, 'Like dissolves like' নীতি অনুসৃত হয়। এভাবে NaCl পানিতে দ্রবীভূত হয়।
অপরদিকে একটি সমযোজী যৌগ। C ও CI পরস্পরের সাথে ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। সমযোজী যৌগ পোলার দ্রাবকের সংস্পর্শে আসলেও ধনাত্মক ও ঋণাত্মক প্রান্তের সৃষ্টি হতে পারে না। ফলে পোলার দ্রাবকের ধনাত্মক ও ঋণাত্মক প্রান্ত দ্বারা আকৃষ্ট হয় না। একারণে পোলার দ্রবকে দ্রবীভূত হয় না। সুতরাং NaCl যৌগটি পানিতে দ্রবীভূত হলেও যৌগটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না।
