| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘তাজরী জাপান থেকে…’ যশোর বোর্ড ২০১৭ – জীবপ্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

তাজরী জাপান থেকে নিয়ে আসা কালো গোলাপের একটি অণুচারা থেকে উদ্ভিদ বিজ্ঞানের গবেষণা ল্যাবে দ্রুত সময়ে হুবহু অনেক চারা তৈরি করে বিক্রি ও বিতরণ করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১১
যেসব আণুবীক্ষণিক জীব মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর রোগ সৃষ্টি করে থাকে সেগুলোকে প্যাথোজেন বলে।
এনজাইম কীভাবে সাবস্ট্রেটের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং বিক্রিয়া ঘটায়-এ সংক্রান্ত একটি মতবাদ হলো তালা-চাবি মতবাদ। এ মতবাদ অনুসারে-
একটি তালা যেমন একটি নির্দিষ্ট চাবি ছাড়া খোলে না, তেমনি একটি নির্দিষ্ট এনজাইম একটি নির্দিষ্ট সাবস্ট্রেট ছাড়া অন্য সাবস্ট্রেটের উপর কাজ করে না। এনজাইমের এক বা একাধিক সক্রিয়স্থান থাকে। সাবস্ট্রেট অণু এনজাইমের সক্রিয় স্থানে যুক্ত হয়ে এনজাইম সাবস্ট্রেট যৌগ গঠন করে। পরে এনজাইম সাবস্ট্রেট যৌগ ভেঙ্গে নতুন বিক্রিয়ালব্ধ পদার্থ সৃষ্টি হয় এবং এনজাইম অপরিবর্তিতভাবে পৃথক হয়ে যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত চারা সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি হলো টিস্যু কালচার প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত চারা উৎপাদন করার বিভিন্ন ধাপের সচিত্র বর্ণনা নিচে উল্লেখ করা হলো-
উদ্দীপকের উল্লিখিত প্রক্রিয়াটির ধাপগুলো উল্লেখ করা হলো-
i. মাতৃউদ্ভিদ বা এক্সপ্লান্ট নির্বাচন।
ii. কালচার মিডিয়াম বা আবাদ মাধ্যম তৈরি।
iii. এক্সপ্লান্ট ও কালচার মিডিয়াম জীবাণুমুক্তকরণ বা নির্জীবকরণ।
iv. মিডিয়াম এ এক্সপ্লান্ট বা টিস্যু স্থাপন।
V. মিডিয়াম এ স্থাপনকৃত এক্সপ্লান্ট থেকে ক্যালাস সৃষ্টি সংখ্যাবৃদ্ধি ক্যালাস থেকে মুকুল সৃষ্টি।
vi. মুকুল মূল উৎপাদক মাধ্যমে স্থানান্তর ও চারা উৎপাদন।
vii. চারা টবে স্থানান্তর এবং
viii. সবশেষে প্রাকৃতিক পরিবেশে তথা মাঠ পর্যায়ে স্থানান্তর।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রযুক্তিটি হলো টিস্যু কালচার প্রযুক্তি। টিস্যু কালচার প্রযুক্তি নিম্নলিখিত বিভিন্নক্ষেত্রে অবদানের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাতে পারে-
i. রোগমুক্ত চারা তৈরি: টিস্যু কালচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রোগমুক্ত সতেজ চারা উৎপাদন করা যায়।
ii . বছরের সবসময় চারা উৎপাদন: একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বছরের সবসময়ই টিস্যু কালচারের মাধ্যমে উদ্ভিদ চারা উৎপাদন সম্ভব। কালচারের মাধ্যমে চারা তৈরি করা হলে উৎপন্ন চারা ভাইরাসমুক্ত
iii. ভাইরাসমুক্ত চারা তৈরি: উদ্ভিদের শীর্ষ মুকুল থেকে টিস্যু হয়ে থাকে।
iv. বিলুপ্ত উদ্ভিদকে সংরক্ষণ: যেসব উদ্ভিদ পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে, টিস্যু কালচারের মাধ্যমে তাদেরকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
V. হোমোজাইগাস উদ্ভিদ সৃষ্টি: পরাগরেণু কালচার করে হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদ তৈরির মাধ্যমে পরবর্তীতে অতি সহজেই হোমোজাইগাস ডিপ্লয়েড উদ্ভিদ তৈরি করা যায়।
vi. মাতৃ উদ্ভিদের সমগুণ সম্পন্ন উদ্ভিদ তৈরি: উদ্ভিদের কচি অঙ্গ বা দৈহিক কোষ থেকে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে চারা তৈরি করা হয়। ফলে উৎপন্ন চারা মাতৃ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য পেয়ে থাকে।
উপরের আলোচনা হতে এটা স্পষ্ট যে, টিস্যু কালচার পদ্ধতি বাংলাদেশের কৃষিতে রোগমুক্ত চারা তৈরি, বছরের সবসময় চারা উৎপাদন, ভাইরাসমুক্ত চারা তৈরি, বিলুপ্ত উদ্ভিদ সংরক্ষণ, মাতৃ উদ্ভিদের সমগুণ সম্পন্ন উদ্ভিদ তৈরি ইত্যাদি ক্ষেত্রে অবদান রেখে কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।