| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘তালতলা গ্রামের আশেপাশে…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

তালতলা গ্রামের আশেপাশে কোনো মাধ্যমিক স্কুল না থাকায় তিন কিলোমিটার দূরের স্কুলে ভর্তি হয়ে পড়ালেখা চালিয়া যেতে হয় মুশফিককে। উচ্চশিক্ষা শেষে আজ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েও সেই বিগত দিনগুলোর কথা ভুলে যায়নি সে। অনেক দিন লেগে থেকে শিক্ষা বিভাগের অনুমোদন পেয়ে অবশেষে নিজ গ্রামে মুশফিক একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। গ্রামের সজ্জন শহিদুল মাস্টার জায়গা দিয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
"ধান দিয়া কী হইব, মানুষের জান যদি না থাকে?"- উক্তিটি রহিমার।
"ওরা কী করে জানবে যে, ওটা মোদাচ্ছের পিরের মাজার?"-উক্তিটি দ্বারা মহব্বতনগর গ্রামবাসীর ভাঙা কবরটা সম্পর্কে ধারণা না থাকার বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে নাটকীয়ভাবে প্রবেশ করে বাঁশঝাড়ের মধ্যে অবস্থিত ভাঙা কবরটি দেখিয়ে সবাইকে মূর্খ বলে ধমক দেয়। মজিদ দাবি করে- ওই পুরানো ভাঙা কবরটি মোদাচ্ছের নামক এক কামেল পিরের। এতদিন তিনি জঙ্গলের মধ্যে থেকে কষ্ট পেয়ে পেয়ে অবশেষে মজিদকে স্বপ্নাদেশের মাধ্যমে মাজারের খেদমত করতে হুকুম দিয়েছেন। গ্রামের সাধারণ জনগোষ্ঠী সেই কথা শুনে হতবাক হয়ে যায়। কারণ তারা কখনো ভাবেইনি ঝোপঝাড়ে শিয়ালের বাসার মতো কোনো, কবর কামেল পিরের মাজার হতে পারে।
উদ্দীপকটি 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের উচ্চশিক্ষিত যুবক আক্কাসের কথা মনে করিয়ে দেয়।
'লালসালু' উপন্যাসের একমাত্র শিক্ষিত চরিত্র আক্কাস। শহরে পড়াশোনা শেষ করে গ্রামের মানুষকে শিক্ষিত করার মহৎ লক্ষ্য নিয়ে সে মহব্বতনগর গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কিন্তু মজিদের হঠকারিতার কারণে তার সেই উদ্দেশ্য ধূলিসাৎ হয়ে যায়।
উদ্দীপকের মুশফিক গ্রামে স্কুল না থাকায় তিন কিলোমিটার দূরের স্কুলে লেখাপড়া করে। উচ্চশিক্ষা শেষে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে সে আজ তার গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠায় মনস্থির করে। শিক্ষা বিভাগের অনুমোদন নিয়ে অবশেষে মুশফিক গ্রামে মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। গ্রামের সজ্জন শহিদুল মাস্টার জমি দিয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন। 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাসের মধ্যেও মুশফিকের মত শিক্ষানুরাগী মানসিকতা লক্ষ করা যায়। আক্কাসও তার গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। যদিও মজিদের কূটচালের কারণে তা সফল হয় না। এভাবেই সচেতন ও শিক্ষিত লোকের আচরণের দিক দিয়ে মুশফিক 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ায় "মজিদের কূটকৌশলের কারণে উদ্দীপকের তালতলা গ্রামের মতো 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগরে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি" মন্তব্যটি যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ ধূর্ত, ধর্মব্যবসায়ী। মহব্বতনগর গ্রামের অশিক্ষিত, অজ্ঞ, কুসংস্কারাচ্ছন্ন, ভীতু লোকজনকে মাজারকেন্দ্রিক খোদাভীতিতে আচ্ছন্ন করে প্রভাবশালী খালেক ব্যাপারীর সহায়তায় সে নিজের প্রভাব বিস্তার ও আত্মপ্রতিষ্ঠা লাভকরে। এই অপকর্মের বিপরীতে দাঁড়িয়ে শিক্ষিত যুবক আক্কাস সেই গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে মজিদের চক্রান্তে তা ব্যর্থ হয়।
উদ্দীপকে তালতলা গ্রামের আশপাশে কোনো বিদ্যালয় না থাকায় মুশফিকের 'পড়াশোনা করতে যেতে হতো তিন কিলোমিটার দূরের স্কুলে। উচ্চশিক্ষা শেষ করে সে শিক্ষা বিভাগের অনুমোদন নিয়ে সজ্জন শহিদুল মাস্টারের সহযোগিতায় গ্রামে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। কিন্তু 'লালসালু' উপন্যাসের শিক্ষাব্রতী আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার মহৎ উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।
'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের শিক্ষিত ছেলে আক্কাস গ্রামে স্কুল না থাকায় শহরে গিয়ে পড়াশোনা করে গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু ধর্মব্যবসায়ী মজিদ গ্রামের ধর্মান্ধ সাধারণ জনগণকে ভুল বুঝিয়ে আক্কাসের বিচার বসায়। তার প্ররোচনায় এলাকার মানুষ আক্কাসের বিরোধিতা করায় স্কুল প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয় না। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, মজিদের কূটকৌশলই মহব্বতনগর গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা না-পাওয়ার জন্য দায়ী। তাই বলা যায়, আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।