| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘তার কুলজোড়া জল,…’ a – পদ্মা, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

তার কুলজোড়া জল, বুকভরা ঢেউ, প্রাণভরা উচ্ছ্বাস। স্বপ্নের ছন্দে সে বহিয়া যায়।
ভোরের হাওয়ায় তার তন্দ্রা ভাঙ্গে, দিনের সূর্য তাকে তাতায়; রাতের চাঁদ ও তারারা তাকে নিয়া ঘুম পাড়াইতে বসে, কিন্তু পারে না…. তিতাস শাহী মেজাজে চলে। তার সাপের বক্রতা নাই, কৃপণের মতো কুটিলতা নাই। কৃষ্ণপক্ষের ভাঁটায় তার বুকের খানিকটা শুষিয়া নেয়, কিন্তু কাঙাল করে না। শুক্লপক্ষের জোয়ারের উদ্দীপনা তাকে ফোলায়, কিন্তু উদ্বেল করে না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৭
'পদ্মা' কবিতায় প্রতিটি পঙ্ক্তিতে রয়েছে ১৮ মাত্রা।
➤ ধ্বংসযজ্ঞের ভেতর দিয়েও পদ্মা নদীর কল্যাণময়ী রূপ ও কর্মচঞ্চলময় প্রাণের স্পন্দন জেগে ওঠার বিষয়টি উক্তিটির মধ্যে ফুটে উঠেছে।
➤ প্রমত্ত পদ্মার ভয়ংকর রূপ দেখে দুরন্ত জলদস্যুও ভীত হয়ে ওঠে। বর্ষাকালে স্ফীত জলস্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায় ঘরবাড়ি, সাজানো সংসার এমনকি জীবন পর্যন্ত। আবার পলিতে প্লাবিত উর্বর দুই পাড় ভরে ওঠে ফসলের সমারোহে। জেগে ওঠে প্রাণের স্পন্দন, কর্মচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে জনজীবন। এমন কল্যাণময়ী রূপের মধ্য দিয়ে পদ্মার পরিপূর্ণ আহ্বান জেগে ওঠে।
সারকথা: প্রবল স্ফীত স্রোতে পদ্মা নদী যেমন সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায় তেমন পর্যাপ্ত ফসল ও করে তোলে। জীবনদায়িনী সবুজের সমারোহে জীবন পূর্ণ
➤ উদ্দীপকের সঙ্গে 'পদ্মা' কবিতার ভয়ংকর ও প্রমত্ত রূপের দিক থেকে বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়েছে।
➤ নদীমাতৃক বাংলাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য নদ-নদী আলাদা বৈশিষ্ট্যে বিশেষিত। প্রচন্ড ভয়ংকর প্রমত্ত নদীর বিপরীতে শান্ত-সুন্দর নদীও আমাদের দেশে অনেক রয়েছে।
➤ উদ্দীপকে বর্ণিত তিতাস শাহি মেজাজের নদী। শুক্লপক্ষের জোয়ারে সে ফুলে ওঠে কিন্তু উদ্বেলিত হয় না। সাপের মতো তিতাসে বক্রতা নেই। তার বুকভরা ঢেউ কূলভরা জল কিন্তু সে প্রবল উচ্ছ্বাসে ভয়ংকর হয়ে ওঠে না। অন্যদিকে 'পদ্মা' কবিতায় বর্ণিত পদ্মা নদী প্রচন্ড ভয়ংকর ও প্রমত্ত। সমুদ্র ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জলদস্যুও পদ্মার তরঙ্গভঙ্গে ভীত হয়ে ওঠে। বর্ষাকালে তার স্ফীত জল ভাসিয়ে নিয়ে যায় মানুষের ঘরবাড়ি, সংসার-সম্পদ ও জীবন। পদ্মার এই ভয়ংকর ও প্রমত্ত রূপ উদ্দীপকের তিতাস নদীতে পাওয়া যায় না। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে 'পদ্মা' কবিতার ভয়ংকর ও প্রমত্ত রূপের দিক থেকে বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
সারকথা: পদ্মা ভয়ংকর নদী। এর তীব্র স্রোত দুই পাড় প্লাবিত করে সমূহ ক্ষতি ও ধ্বংস বয়ে আনে। অন্যদিকে তিতাস শান্ত, পরিপূর্ণ ও উচ্ছ্বাসে ভরা শাহি হ মেজাজের কুটিলতাহীন নদী।
➤ "উদ্দীপকে উল্লিখিত তিতাস নদীর যেসব বৈশিষ্ট্য রয়েছে সেসব ছাড়াও 'পদ্মা' কবিতায় পদ্মা নদীর আরও বৈচিত্র্যময় রূপ রয়েছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ প্রতিটি নদীর কিছু পৃথক বৈশিষ্ট্য থাকে যা অন্য নদী থেকে আলাদা হয়। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে অন্যসব নদী থেকে আলাদা হয়ে সে নদীর গতিপথ চলমান থাকে যুগ থেকে যুগান্তর।
➤ উদ্দীপকে বর্ণিত তিতাস নদী পরিপূর্ণ জল, ঢেউ আর উচ্ছ্বাসে ভরপুর। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কর্মচঞ্চল মানুষের সঙ্গে এ নদীও চঞ্চল হয়ে ওঠে। তার কোনো বক্রতা নেই, কুটিলতা নেই, প্রবল জোয়ারে ফুলে উঠে তীরে আঘাত করে গ্রাম বা লোকালয় ভাসিয়ে নিয়ে যায় না। 'পদ্মা' কবিতায় পদ্মা নদীও তিতাসের মতোই জনজীবনে বয়ে আনে প্রাণের স্পন্দন। কিন্তু পদ্মা কুটিলতা ও বক্রতায় ভরপুর। সংগ্রামী মানুষ তার দুই পাড়ে লাঙল চালিয়ে কঠিন শ্রমের শস্যদানা উৎপাদন করে। সে প্রবল স্রোতে যেমন দুকূল ভাসিয়ে নিয়ে যায় তেমন সেই দুই কূলে পলিতে পূর্ণ করে উর্বর করে দেয়।
➤ পদ্মা ভয়ংকর, প্রমত্ত, খরস্রোতা বিস্ময়কর ও বৈচিত্র্যময় এক নদী যাকে সমুদ্রভ্রমণের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জলদস্যুও ভয় পায়। সেই সঙ্গে পদ্মা জনজীবনে কর্মচঞ্চলতা, ফসলের সম্ভার ও জীবনের পরিপূর্ণ আহ্বান জাগাতেও সমান পারদর্শী যা তিতাস নদীতে সম্পূর্ণভাবে দেখা যায় না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের তিতাস নদীর বৈশিষ্ট্যের থেকেও পদ্মা অধিক বৈচিত্র্যময় নদী।
সারকথা: নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রত্যেক নদনদী জনজীবনের ওপর তাদের রূপবৈচিত্র্যের মাধ্যমে সরাসরি প্রভাব ফেলে। এসব নদ-নদী যেমন শস্যসম্ভারে জনজীবন পূর্ণ করে তেমন প্রবল স্রোত ও জলোচ্ছ্বাসে সর্বস্ব ভাসিয়ে জীবন বিপর্যন্ত করে দেয়।