| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘তারেক তার বন্ধুদের…’ a – জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

তারেক তার বন্ধুদের সাথে শিক্ষা সফরে গিয়েছিল কুমিল্লার ময়নামতিতে। এখানকার বনাঞ্চলের উদ্ভিদের সাথে পরিচিত হওয়ার সময় শিক্ষক বললেন এটি একটি বিশেষ ধরনের বনাঞ্চল। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে আরও একটি বিশেষ ধরনের বনাঞ্চল আছে যা বাংলাদেশের ঐতিহ্য। [রাজশাহী বোর্ড ২০১৫]
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১২
একটি নির্দিষ্ট স্থানে একটি সময়ে বসবাসকারী একই প্রজাতির একদল জীবকে বলা হয় পপুলেশন বা জীবগোষ্ঠী।
সাফারি পার্ক হলো সরকার ঘোষিত এলাকা, যার চারদিকে স্থায়ী বেষ্টনীর ব্যবস্থা থাকে এবং এর মধ্যে দেশি-বিদেশি বন্যপ্রাণীর বংশবৃদ্ধি ও অবাধ বিচরণের সুযোগ থাকে। সাফারি পার্ক -চিড়িয়াখানার সম্পূর্ণ বিপরীত এবং একে "Zoo without cages" বলা হয়। সাফারি পার্কে বন্য প্রাণীরা উন্মুক্ত থাকে কিন্তু দর্শনার্থী থাকে সুরক্ষিত। সাফারি পার্কে বিদেশী প্রজাতির প্রাণী প্রদর্শন করা হয়। বাংলাদেশে ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক নামে দুটি পার্ক রয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত দ্বিতীয় বনাঞ্চলটি হলো পৃথিবী খ্যাত ঐতিহ্য সুন্দরবন। নিচে সুন্দরবনের তিনটি উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম লিখা হলো-
| সাধারণ নাম | বৈজ্ঞানিক নাম |
| ১. সুন্দরী | Heritiera fomes |
| ২. কেওড়া | Sonneratia apetala |
| ৩. গোলপাতা | Nipa fruticans |
উদ্দীপকে উল্লেখিত বনাঞ্চল দুটির একটি হলো কুমিল্লার ময়নামতি যা শালবন বিহার নামে পরিচিত। একে পত্রঝরা বনও বলা হয়। অন্যটি হলো বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে পৃথিবীর ঐতিহ্য সুন্দরবন। একে ম্যানগ্রোভ বনও বলা হয়। নিচে বনাঞ্চল দুটির তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো-
পত্রঝরা বনে অধিকাংশ উদ্ভিদ পর্ণমোচী হয়, শীতকালে এদের পাতা ঝরে যায়। অপরদিকে ম্যানগ্রোভ বনের উদ্ভিদ মাঝারি উচ্চতার এবং চিরসবুজ। এছাড়া ম্যানগ্রোভ বনের নিম্নাঞ্চল জোয়ারের পানিতে সিক্ত হয় কিন্তু শালবন উঁচু অঞ্চলে হওয়ায় জোয়ারের পানিতে সিক্ত হয় না। শালবনের মাটি লাল, অম্লীয়, শীতকালে শুষ্ক এবং বর্ষাকালে কর্দমাক্ত থাকে, কিন্তু ম্যানগ্রোভ বনের মাটি ধূসর বা গাঢ় ধূসর, ক্ষারীয় হয় এবং মাটিতে অক্সিজেনের অভাব থাকে। আবার শালবন উঁচু, নিচু অংশে বিভক্ত যাকে চালা ও বাইদ বলে, কিন্তু ম্যানগ্রোভ বন অসংখ্য নদী-উপনদী ও চ্যানেল দ্বারা ছোট ছোট অংশে বিভক্ত থাকে। বিশেষ করে শালবনে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১২৫ সে.মি. থেকে ১৭৫ সে.মি. পর্যন্ত হয়; বিপরীত দিকে ম্যানগ্রোভ বনে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২০০ সে.মি. পর্যন্ত হয়। এছাড়াও ম্যানগ্রোভ বনে উদ্ভিদের অভিযোজনের জন্য বিশেষ বৈশিষ্ট্য শ্বাসমূল, ঠেসমূল ও স্তন্তমূল ইত্যাদি দেখা যায় কিন্তু শালবনের উদ্ভিদে এসব বৈশিষ্ট্য দেখা যায় না। শালবনের বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অপেক্ষাকৃত কম থাকে যেখানে ম্যানগ্রোভ বনের বাতাসে বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে। অতএব উপরিউক্ত আলোচনা থেকে দেখা যায় উদ্দীপকের বনাঞ্চল দুটির মধ্যে বৈশিষ্ট্যমূলক যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।