| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ত্বক মানবদেহে প্রথম…’ a – মানবদেহের প্রতিরক্ষা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

ত্বক মানবদেহে প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর হিসেবে কাজ করে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের ক্ষেত্রে এনজাইম, এসিড, ম্যাক্রোফেজ এবং নিউট্রোফিল বিশেষ ভূমিকা পালন করে। [যশোর বোর্ড ২০১৬ ]
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১০
ভ্যাক্সিন হলো রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের নিষ্ক্রিয় পরিদ্রুত সাসপেনশন।
আমরা এমন পরিবেশে বাস করি যা অগণিত জীবাণুতে পরিপূর্ণ। এসব জীবাণু মানুষের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি বিঘ্নিত করতে ও ক্ষতি সাধনে সক্ষম। ক্ষতিকর এসব অণুজীব ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব থেকে দেহকে রক্ষার জন্য দেহের মধ্যে যে নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে তাকে রোগ প্রতিরোধ বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ইমিউনিটি বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দেহের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরটি হলো ত্বক। প্রতিরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
১. মানবত্বকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সবসময়ই থাকে; কিন্তু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ত্বকে বাঁচতে পারে না। এর কারণ হচ্ছে ত্বকের স্বেদ গ্রন্থি ও ঘাম গ্রন্থি থেকে যথাক্রমে যে তেল ও ঘাম ক্ষরিত হয় তা ত্বককে এসিডিক (pH 3.0-5.0) করে তুলে। অন্যদিকে ত্বকে যেসব অক্ষতিকর বা উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে সেগুলোও যে প্রকার এসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য ত্যাগ করে সেসব পদার্থও ত্বকের ক্ষতিকর জীবাণু দমনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
২. ত্বক কেটে গেলে বা পুড়ে গেলে ব্যাকটেরিয়ার প্রবেশ ও অভ্যন্তরীণ টিস্যুতে সংক্রমণের আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। কাটা স্থান দিয়ে নির্গত রক্ত জমাট বেঁধে শুধু রক্তক্ষরণ বন্ধ করে না, বাইরে থেকে অণুজীব প্রবেশেও বাধা দেয়। দ্রুত ও আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে এ প্রাকৃতিক চিকিৎসা সত্যিই আশ্চর্যজনক।
৩. দেহের সিক্ত অংশগুলো সবসময় কোনো না কোনো ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে। অনেক অংশ আবার ব্যাকটেরিয়ানাশকও বহন করে, যেমন- অশ্রু, নাসিকাঝিল্লি ও লালায় লাইসোজাইম, সিমেনে স্পার্মিন, দুধে ল্যাক্টোপার অক্সিডেজ ইত্যাদি।
৪. কানের ভেতরে সেরুমিনাস গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত সেরুমেন বা কানের মোম কানের গভীরে ধুলা-বালি, ব্যাকটেরিয়া ও ছোট পোকার প্রবেশ প্রতিরোধ করে। সেরুমিনাস গ্রন্থি এক ধরনের ত্বকীয় গ্রন্থি।
অতএব দেখা যায় যে, ত্বক মানব দেহের প্রতিরক্ষায় অপরিসীম ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত শেষের অংশটি হলো ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের ক্ষেত্রে এনজাইম, এসিড, ম্যাক্রোফেজ এবং নিউট্রোফিল বিশেষ ভূমিকা পালন করে। নিচে অংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা হলো-
মানুষের মুখের লালাতে পেপটাইড যৌগ (লাইসোজাইম) রয়েছে। এরা Staphylococcus, Streptococcus, Bacillus ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া বিরোধী যৌগ। তবে যেসব ব্যাকটেরিয়া লালার এনজাইম সহনশীল তারা পাকস্থলিতে পৌছালে পাকস্থলির HCI এসিড ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমের পানিকে বাইরে বের করে কোষ সংকুচিত করে ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। তাছাড়া পাকস্থলিতে প্রোটিনধর্মী যেসব এনজাইম (যেমন- পেপসিন) রয়েছে তারাও ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। যেসব ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলিতেও মারা যায় না তারা ক্ষুদ্রান্ত্রের প্যানেথ (Paneth) কোষ হতে নিঃসৃত ব্যাকটেরিয়া বিরোধী পেপটাইডধর্মী এনজাইম ক্রিয়ায় মারা যায়। ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে Macrophage তিন ধরনের কাজ করে থাকে। যথা- Macrophage ক্ষণপদের মতো গঠন সৃষ্টি করে জীবাণুকে ফ্যাগোসোম নামক গহ্বরে আবদ্ধ করে ফেলে পরবর্তীতে লাইসোসোমের সাথে একীভূত হয় যা Phagolysosome গঠন করে। লাইসোসোমের এনজাইম ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। ম্যাক্রোফেজ T-Lymphocyte কে ব্যাকটেরিয়ার প্রকৃতি সম্বন্ধে তথ্য সরবরাহ করে থাকে।
নিউট্রোফিল তিনটি প্রধান উপায়ে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের কাজ করে থাকে। যেমন-
এরা অপসোনাইজেশন প্রক্রিয়ায় অপসোনিন প্রোটিনের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে প্রবেশিত জীবাণুকে চিহ্নিত করে। ফ্যাগোসাইটের সাইটোপ্লাজম জীবাণু দ্বারা পরিপাকের দ্রবণীয় অংশ শোষণ করে এবং জীবাণুকে মেরে ফেলে। নিউট্রোফিল সাইটোকাইন নিঃসৃত করে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। নিউট্রোফিল প্রোটিন ও ক্রোমাটিনের সমন্বয়ে Neutrophil Extacellular Traps বা, NETS নামক ফাঁদ তৈরি করে যা ছাঁকনির মতো কাজ করে ব্যাকটেরিয়াকে আবদ্ধ ও ধ্বংস করে ফেলে।