| ㅤ | A. Nayan29 Oct 2026 (3 hours ago) |
সৃজনশীলঃ ‘তিন বন্ধুর মধ্যে…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩ – যৌক্তিক বিভাগ, যুক্তিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র (এইচএসসি)

তিন বন্ধুর মধ্যে ত্রিভুজের শ্রেণিবিভাগ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। প্রথম বন্ধু ত্রিভুজকে সমবাহু ও সমদ্বিবাহু এই দুই ভাগে ভাগ করল। দ্বিতীয় বন্ধু ত্রিভুজকে সমদ্বিবাহু, সমবাহু, বিষমবাহু ও বর্গক্ষেত্রে ভাগ করল। তৃতীয় বন্ধু বলল, কোনো পদকে ভাগ করতে হলে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা বস্তুকে তার বিভিন্ন অঙ্গে ভাগ করাকে অঙ্গগত বিভাগ বলে।
যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে। যৌক্তিক বিভাগের নিয়মগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি নিয়ম হলো- যৌক্তিক বিভাগে একই সময়ে একটি মাত্র মূলনীতি অনুসরণ করতে হয়, একের অধিক নয়। যদি যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম লঙ্ঘন করে একই সময়ে একের অধিক মূলনীতি অনুসরণ করা হয় তাহলে যৌক্তিক বিভাগ ত্রুটিপূর্ণ হয়। যৌক্তিক বিভাগের এ ত্রুটিকে সংকর বিভাগ অনুপপত্তি -বলে। তাই যৌক্তিক বিভাগে একই সময়ে একাধিক মূলনীতি গ্রহণ করার কারণে সংকর বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে থাকে।
প্রথম বন্ধুর বক্তব্যে অব্যাপক বিভাগ এবং দ্বিতীয় বন্ধুর বক্তব্যে অতিব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে।ব্যাখ্যা করা হলো-
যৌক্তিক বিভাগ হলো কোনো একটি শ্রেণিবাচক পদের যে ব্যক্ত্যর্থ রয়েছে যৌক্তিক বিভাগে সেই ব্যক্ত্যর্থকে বিশ্লেষণ করা হয়। এক্ষেত্রে একটি মূলনীতির ভিত্তিতে কোনো জাতি বা শ্রেণিবাচক পদকে তার অন্তর্গত উপজাতিরা উপশ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। যৌক্তিক বিভাগের তৃতীয় নিয়ম অনুযায়ী বিভক্ত উপশ্রেণিগুলোর একত্রিত ব্যক্ত্যর্থ বিভাজ্য মূল শ্রেণিটির ব্যক্ত্যর্থের সমান হতে হবে অর্থাৎ মূল শ্রেণিটিকে যেসব উপশ্রেণিতে ভাগ করা হয় তাদের সকলের একত্রিত ব্যক্ত্যর্থ মূল শ্রেণিটির ব্যক্ত্যর্থের সমান হতে হবে। তা না হলে বিভাগ প্রক্রিয়াটি ত্রুটিপূর্ণ হবে। যদি উপশ্রেণিগুলোর একত্রিত ব্যক্তার্থ বিভাজ্য শ্রেণির ব্যক্ত্যর্থের চেয়ে কম হয় তাহলে অব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি ঘটবে। অর্থাৎ যৌক্তিক বিভাগে কোনো উপশ্রেণি যদি বাদ পড়ে যায় তাহলে শ্রেণির ব্যক্ত্যর্থ সমান হবে না এবং অব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি হবে। উদ্দীপকে প্রথম বন্ধুর বক্তব্যে ত্রিভুজের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাতে কেবল মাত্র সমবাহু ও সমদ্বিবাহু এই দুই ভাগে ভাগ করেছে। কিন্তু এখানে বিষমবাহু ত্রিভুজটি বাদ পড়ায় প্রথম বন্ধুর বক্তব্যে অব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে। তদ্রুপ-দ্বিতীয় বন্ধুর বক্তব্যেও বিভাগ প্রক্রিয়ার তৃতীয় নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। অর্থাৎ এখানে ত্রিভুজের যে বিভক্ত করা হয় তার অন্তর্গত উপশ্রেণির সঙ্গে উক্ত শ্রেণির অতিরিক্ত বর্গক্ষেত্র উপশ্রেণিকে ধরা হয়েছে। যার ফলে এখানে অতিব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে।
তৃতীয় বন্ধুর বক্তব্যে যৌক্তিক বিভাগের নিয়মের ধারণার প্রতিফলন ঘটেছে। যৌক্তিক বিভাগের দুটি নিয়ম বিশ্লেষণ করা হলো-
কোনো একটি নীতি বা সূত্রের ওপর ভিত্তি করে একটি জাতি বা উচ্চতর শ্রেণিকে তার অন্তর্গত উপজাতি বা নিম্নতর শ্রেণিতে বিভক্ত করার প্রক্রিয়াকে যৌক্তিক বিভাগ বলে। যৌক্তিক বিভাগে সবসময় একটি মাত্র নীতি বা নিয়ম অনুসরণ করে। এই মূলনীতির ভিত্তিতেই সমস্ত বিভাগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ বিভাজন প্রক্রিয়াটি সবসময় সার্বিক থেকে বিশেষের দিকে গমন করে। উদ্দীপকে তৃতীয় বন্ধু কোনো পদকে ভাগ করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করার ইঙ্গিত দিয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়ম হলো যৌক্তিক বিভাগের মূলসূত্র একই সময় একটি মাত্র হবে। অর্থাৎ কোনো জাতিবাচক পদের যৌক্তিক বিভাগ করতে তার অন্তর্গত উপজাতিসমূহে বিভক্ত করতে একই সময়ে একটি মাত্র মূলসূত্র গ্রহণ করতে হবে। যেমন- মানুষ জাতিকে সভ্যতা, শিক্ষা, সততা ইত্যাদি মূলসূত্র অনুসারে সভ্য মানুষ, সৎ মানুষ ও শিক্ষিত মানুষ ইত্যাদি উপজাতিতে ভাগ করা যায়। এ নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংকর বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে। অর্থাৎ একই সাথে একাধিক মূলসূত্র গ্রহণ করে কোনো জাতি বা শ্রেণিকে বিভক্ত করলে সংকর বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে। লৌকিক বিভাগের অন্য আর একটি নিয়ম হলো মৌলিক বিভাগে উপশ্রেণিগুলো পরস্পর বিচ্ছিন্ন হতে হবে। যৌক্তিক বিভাগের অর্থ হলো একটি জাতিকে তার অন্তর্গত উপপদ্ধতিসমূহে ভাগ করা। শ্রেণিগুলোকে বিভক্ত করতে গিয়ে খেয়াল রাখতে হবে যে, শ্রেণিগুলো যেন একটি অপরটির সাথে মিশে না যায়। এ নিয়ম লঙ্ঘন করলে পরস্পরাঙ্গী বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে। অর্থাৎ কোনো জাতিকে বিভক্ত করা হলে যদি উপজাতিগুলো পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হয় তাহলে উক্ত বিভাগটি ভ্রান্ত হবে। এরূপ ভ্রান্ত বিভাগই হচ্ছে পরস্পরাঙ্গী বিভাগ।
যেমন- শিক্ষা ও সভ্যতা এই দুই নীতির ভিত্তিতে মানুষকে ভাগ করা হলে শিক্ষিত ও সৎ এই উপশ্রেণি দুটো পরস্পর বিচ্ছিন্ন হবে না।