| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘তিন স্ত্রীর সাথে…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

তিন স্ত্রীর সাথে সংসার করেন আব্বাস আলী দফাদার। গত মাসে তিনি প্রথম স্ত্রীর অর্ধেক বয়সি আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে এনেছেন। এই অল্প বয়সের বউকে আব্বাস আলী কোনো পরপুরুষের সামনে যেতে দেন না। কথার অন্যথা হলে বউকে নানাভাবে শাসন করেন। একদিন পাশের বাড়িতে টেলিভিশন দেখার অপরাধে ছোট বউকে তিনি শীতের রাতে ঘরের বাইরে বেঁধে রাখেন। এ ঘটনায় বড় বউ খুব কষ্ট পায় এবং সারারাত না ঘুমিয়ে কাটায়। কিন্তু কমবয়সি মেয়েটাকে ঘরে ডেকে নেবার সাহস সে পায় না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
মজিদকে প্রথম দেখে জমিলার দুলার বাপ (বরের বাবা) বলে মনে হয়েছিল।
মজিদ তার দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলাকে শাস্তি দিতে জোর করে মাজারের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় জমিলা নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে মজিদের মুখে থুথু দিয়েছিল।
মজিদের আদেশে নামাজ পড়তে গিয়ে জমিলা জায়নামাজেই ঘুমিয়ে পড়ে। বিষয়টি লক্ষ করে মজিদ জমিলার ওপর ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ওঠে। জমিলাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য সে তার হাত ধরে টানতে টানতে মাজারের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু জমিলা মাঝ উঠোনে এসে আর সামনে এগোতে চায় না। সে সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে মজিদের বজ্রমুষ্ঠি থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। যখন অনেক চেষ্টা করেও হাত ছাড়াতে পারে না তখন সে হঠাৎ সোজা হয়ে মজিদের কাছে এসে তার মুখে থুথু নিক্ষেপ করে।
উদ্দীপকের আব্বাস আলী দফাদার 'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদের প্রতিনিধিত্ব করে।
'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদ। তার প্রথম স্ত্রী রহিমার সন্তান ধারণের অক্ষমতার কথা বলে কৌশলে সে দ্বিতীয় বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। রহিমার নিঃসন্তান হওয়ার অজুহাতে মেয়ের বয়সি জমিলাকে বিয়ে করে মনের বাসনা পূরণ করে সে। কিশোরী জমিলা মজিদের কথামতো না চললে রাতের বেলা মাজারে একা বেঁধে রাখাসহ তাকে নানাভাবে শাস্তি প্রদান করে। আর এসকল আচরণের মাধ্যমে মজিদ চরিত্রের নিষ্ঠুর ও ঘৃণ্য দিকটির পরিচয় পাওয়া যায়।
উদ্দীপকের আব্বাস আলী দফাদারের মাঝেও বিয়ে করার বাসনা চরিতার্থ করার মানসিকতা প্রতিফলিত হয়েছে। তিন স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রথম স্ত্রীর অর্ধেক বয়সি আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করেন। এই অল্পবয়সি স্ত্রীকে আব্বাস আলী কোনো পরপুরুষের সামনে যেতে বা তাদের সাথে কথা বলতে দেন না। তার কথার অবাধ্য হলে নানাভাবে স্ত্রীকে শাস্তি দেন। মজিদও প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও অল্পবয়সি জমিলাকে বিয়ে করে ও তার কথা না মানলে নানাভাবে শাস্তি দেয়। তাই বলা যায়, বিয়ে করার বাসনাও নিষ্ঠুর মানসিকতার দিক থেকে উদ্দীপকের আব্বাস আলী দফাদার চরিত্রটি 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে।
'লালসালু' উপন্যাসে কিশোরী জমিলার প্রতি মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমার মাতৃহৃদয়ের আকুলতা প্রকাশ পেয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদের প্রথম স্ত্রীর নাম রহিমা। সে নরম স্বভাব ও ভীতু প্রকৃতির মেয়ে। মজিদের প্রতি তার সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভয় রয়েছে। রহিমা নিঃসন্তান হওয়ায় মজিদ সন্তান লাভের আকাঙ্ক্ষায় অল্পবয়সি জমিলাকে বিয়ে করে। সম্পর্কে সতীন হলেও জমিলার সহজ-সরল ও চপল স্বভাব রহিমার নারীহৃদয়ে মাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। রহিমা জমিলাকে সতীন না ভেবে খুব সহজেই সন্তান স্নেহে আপন করে নেয়। নিঃসন্তান রহিমা যেন জমিলার মাঝেই সন্তানের ছায়া দেখতে পায়।
উদ্দীপকের আব্বাস আলী দফাদার তিন স্ত্রী বর্তমান থাকা সত্ত্বেও প্রথম স্ত্রীর অর্ধেক বয়সি একটি মেয়েকে বিয়ে করে আনেন। অল্পবয়সি স্ত্রীকে আব্বাস আলী কোনো পরপুরুষের সাথে কথা বলতে দেন না। বরং তার কথার অবাধ্য হলে তাকে নানাভাবে শাস্তি প্রদান করেন। একবার পাশের বাড়িতে টেলিভিশন দেখার অপরাধে আব্বাস আলী ছোট বউকে শীতের রাতে ঘরের বাইরে বেঁধে রাখেন। এ ঘটনায় বড় বউ মনে খুব কষ্ট পায়। কেননা সে ছোট বউকে সতীন হিসেবে না ভেবে সন্তানের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছে।
'লালসালু' উপন্যাসে রহিমা চরিত্রের মাঝে এক অকৃত্রিম মাতৃমূর্তি প্রতিফলিত হয়েছে। এজন্য সে জমিলাকে সতীনের দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে নিজের মেয়ে হিসেবে দেখেছে। মজিদ যতবার জমিলাকে শাস্তি দিয়েছে ঠিক ততবার রহিমার মাতৃহৃদয়ে কষ্ট অনুভূত হয়েছে। উপন্যাসের রহিমার এমন মানসিকতা উদ্দীপকের আব্বাস আলীর প্রথম স্ত্রীর মাঝেও লক্ষ করা যায়। সেও ছোট বউয়ের প্রতি আব্বাস আলীর অন্যায়-অত্যাচার ও শাস্তিতে ব্যথিত হয়ে ওঠে। এদিক থেকে 'লালসালু' উপন্যাসের রহিমা ও উদ্দীপকের আব্বাস আলীর প্রথম স্ত্রী একই মানসিকতার মানুষ। অতএব বলতে পারি, 'রহিমার মাতৃহৃদয় ব্যাকুল হয়ে ওঠে কন্যা সদৃশ সতীনটির জন্য'- 'লালসালু' উপন্যাসের এই মন্তব্যটি উদ্দীপকের আলোকে যথার্থ।