| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘তিনা ও রুনা…’ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০২৫ – কোষ ও এর গঠন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

তিনা ও রুনা কোষের দুটি অঙ্গাণু নিয়ে আলোচনা করছিল। প্রথম অঙ্গাণুটি ফটোফসফোরাইলেশনে সহায়তা করে এবং দ্বিতীয় অঙ্গাণুটিতে শ্বসনের বিভিন্ন পর্যায় সংঘটিত হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
উদ্ভিদদেহে জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝখানে কয়েকস্তর বিশিষ্ট আয়তক্ষেত্রাকার ভাজক কোষ দিয়ে গঠিত টিস্যুই হলো ক্যাম্বিয়াম।
লাইসোসোমের ভেতর বিভিন্ন ধরনের এনজাইম থাকে। অনেক সময় তীব্র খাদ্যাভাবে এর প্রাচীর ফেটে যায় এবং আবদ্ধকৃত এনজাইম ভেতর থেকে বের হয়ে কোষের অন্যান্য ক্ষুদ্রাঙ্গগুলোকে ধ্বংস করে ফেলে। এজন্য লাইসোসোমকে আত্মঘাতী থলিকা বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত দ্বিতীয় অঙ্গাণুটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়া। নিচে মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন ব্যাখ্যা করা হলো-
মাইটোকন্ড্রিয়া জীবকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী ঝিল্লি দ্বারা সীমিত সাইটোপ্লাজমস্থ যে অঙ্গাণুতে ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট ইত্যাদি ঘটে থাকে এবং শক্তি উৎপন্ন হয় সেই অঙ্গাণুকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলে। একে কোষের 'পাওয়ার হাউস' বা শক্তিঘর বলা হয়।
ভৌত গঠন:
১। আবরণী : প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়ন লিপোপ্রোটিন বাইলেয়ারের দুটি মেমব্রেন নিয়ে গঠিত। বাইরের মেমব্রেনটি খাঁজবিহীন, মূলত ভেতরের অংশসমূহকে রক্ষা করাই এর প্রধান কাজ। বাইরের মেমব্রেন ভেদ করে বিভিন্ন ক্ষুদ্র অণু এবং আয়ন ভেতরে প্রবেশ করতে পারে, আবার বের হয়ে যেতেও পারে। এতে কিছু ট্রান্সপোর্ট প্রোটিন থাকে যা প্রয়োজনে সক্রিয় ট্রান্সপোর্টে সহায়তা করে। এতে কোনো ETC, ATP Synthases, ATP তৈরির এনজাইম ইত্যাদি থাকে না। দুটি আবরণীর মধ্যে ব্যবধান ৬-৮ nm |
২। প্রকোষ্ঠ : দুই মেমব্রেনের মাঝখানের ফাঁকা স্থানকে বলা হয় বহিস্থ কক্ষ বা আন্তঃমেমব্রেন ফাঁক এবং ভতরের মেমব্রেন দিয়ে আবদ্ধ কেন্দ্রীয় অঞ্চলকে বলা হয় অভ্যন্তরীণ কক্ষ। অভ্যন্তরীণ কক্ষ জেলির ন্যায় ঘন সমসত্ত্ব ধাত্র দ্বারা পূর্ণ থাকে। একে ম্যাট্রিক্স বলে।
৩। ক্রিস্টি: বাইরের মেমব্রেন সোজা কিন্তু ভেতরের মেমব্রেনটি নির্দিষ্ট ব্যবধানে ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়ে আঙ্গুলের মতো প্রবর্ধক সৃষ্টি করে। এ অংশকে ক্রিস্টি বলে। এগুলো মাইটোকন্ড্রিয়ার ধাত্রকে কতগুলো অসম্পূর্ণ প্রকোষ্ঠে বিভক্ত করে। ক্রিস্টির মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানকে অন্তঃক্রিস্টি ফাঁকা স্থান বলে যা বহিঃপ্রকোষ্ঠের সাথে সংযুক্ত।
৪। অক্সিসোম: মাইটোকন্ড্রিয়ার অন্তঃআবরণীর অন্তর্গাত্রে অতি সূক্ষ্ম অসংখ্য দানা লেগে থাকে। এদের অক্সিসোম বলে। অক্সিসোম বৃন্তক বা অবৃত্তক হতে পারে।
৫। ATP Synthases ও ETC: ক্রিস্টিতে স্থানে স্থানে ATP Synthases নামক গোলাকার বস্তু আছে। এতে ATP সংশ্লেষিত হয়। এছাড়া সমস্ত ক্রিস্টিব্যাপী অনেক ইলেক্ট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন অবস্থিত।
৬। DNA ও রাইবোসোম : মাইটোকন্ড্রিয়ার- নিজস্ব বৃত্তাকার DNA এবং রাইবোসোম রয়েছে। এটিও আদি কোষীয় বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। এরা ম্যাট্রিক্স-এ থাকে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রথম অঙ্গাণুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট। জীবজগতে অস্তিত্ব রক্ষায় ক্লোরোপ্লাস্টের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. খাদ্য প্রস্তুত : উদ্ভিদের ক্লোরোপ্লাস্টে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সরল শর্করা তৈরি হয়। এ সকল শর্করা হতে পরবর্তীতে বিভিন্ন বিপাকীয় পদ্ধতিতে স্নেহ, আমিষ, অ্যামিনো অ্যাসিড ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জৈব যৌগ সৃষ্টি হয় যেগুলো বিভিন্ন খাদ্যরূপে উদ্ভিদদেহে সঞ্চিত থাকে।
২. প্রাণীর খাদ্য : প্রাণীরা নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে না। এরা খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল। উদ্ভিদদেহের ক্লোরোপ্লাস্টে তৈরিকৃত শর্করা ও খাদ্যরূপে সঞ্চিত বিভিন্ন যৌগকে প্রাণীরা ভক্ষণের মাধ্যমে গ্রহণ করে।
৩. শক্তির উৎস: পৃথিবীর সকল জীবদেহের বিভিন্ন বিপাকীয় কাজে ব্যবহৃত সকল শক্তির একমাত্র উৎস হলো আলোকশক্তি। কেবল উদ্ভিদই ক্লোরোপ্লাস্টে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলোকশক্তিকে রাসায়নিক স্থিতিশক্তি হিসেবে বিভিন্ন খাদ্যে আবদ্ধ করে। উদ্ভিদ ও প্রাণীর বৃদ্ধি এবং সকল শারীরবৃত্তীয় কাজে ব্যবহৃত শক্তি খাদ্যের মাধ্যমেই পেয়ে থাকে।
৪. প্রাণীর শ্বসন: প্রাণীর শ্বসন কাজে ব্যবহৃত অক্সিজেনের একমাত্র উৎস হলো উদ্ভিদের ক্লোরোপ্লাস্টে সংঘটিত সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট অক্সিজেন। এছাড়া প্রাণীর শ্বসনে সৃষ্ট উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করে বায়ুমণ্ডলে ও ভারসাম্য রক্ষা করে।
৫. পরিবেশ দূষণ রোধ: প্রাণীর শ্বসন এবং মানুষের বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কাজে সৃষ্ট পরিবেশে দূষণ সৃষ্টি করছে। ভূপৃষ্ঠে বিস্তৃত বৃক্ষরাজি ও সমুদ্রের ফাইটোপ্লাঙ্কটন ক্লোরোপ্লাস্টে সংঘটিত সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ গ্রহণ করে পরিবেশ দূষণ রোধ করছে এবং পৃথিবীকে প্রাণী তথা মানুষের বসবাসের যোগ্য রাখছে।
৬. ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা : ক্লোরোপ্লাস্টে সংঘটিত সালোকসংশ্লেষণের সময় উদ্ভিদ প্রচুর সৌরশক্তি শোষণ করায় ভূ-পৃষ্ঠের তপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে থাকে।
৭. মানবসভ্যতা বিকাশে : ক্রমবিকশিত মানবসভ্যতা খাদ্য, বস্ত্র, ওষুধ, জ্বালানি, জীবাশ্ম-জ্বালানি, কাগজ, আসবাবপত্র ইত্যাদির উপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল। আর এসব কিছুই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আসে উদ্ভিদজগৎ থেকে। উদ্ভিদদেহের সব কিছুই মূলত সালোকসংশ্লেষণের ফসল। এভাবে হাজার বছর ধরে গড়ে উঠা মানবসভ্যতা উদ্ভিদের ক্লোরোপ্লাস্টে সংঘটিত সালোকসংশ্লেষণের উপর নির্ভরশীল।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, ক্লোরোপ্লাস্টে সংঘটিত সালোকসংশ্লেষণ প্রাণিকুলের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য।