| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘তিনটি ভ্রূণীয় স্তরের…’ Combined ২০২৬ – মানবদেহের প্রতিরক্ষা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

তিনটি ভ্রূণীয় স্তরের পরিণতির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মানব শিশু তৈরি হয়। অপরদিকে সদ্য ভূমিষ্ঠ মানব শিশু জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রোটিন নির্মিত অ্যান্টিবডির আশ্রয় নেয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১০
খাদ্যের সন্ধান, প্রজনন বা প্রতিকূল পরিবেশ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রাণীদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে নির্দিষ্ট নিয়মে দলবদ্ধ স্থানান্তরকে পরিযান () বলে।
প্রাণীর আচরণবিদ্যায় বা হলো এক ধরণের জন্মগত ও সুনির্দিষ্ট আচরণ। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. এটি প্রজাতির সকল সদস্যের মধ্যে একইভাবে ঘটে, অর্থাৎ এটি একটি ছকে বাঁধা বা অপরিবর্তনশীল () আচরণ।
২. এটি সম্পূর্ণ জন্মগত বা বংশগত (), তাই এটি কোনো প্রাণী পরিবেশ থেকে শেখে না।
৩. একবার আচরণটি শুরু হলে তা সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে, মাঝপথে সাধারণত থামে না।
৪. এটি একটি সুনির্দিষ্ট সংকেত উদ্দীপক () দ্বারা প্ররোচিত বা ট্রিগার হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত স্তর তিনটি হলো ভ্রূণীয় স্তর- একটোডার্ম, মেসোডার্ম এবং এন্ডোডার্ম। একটি মানব ভ্রূণের পরিস্ফুটনের সময় এই তিনটি স্তর থেকে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরি হয়। নিচে ছকের সাহায্যে এদের পরিণতি উপস্থাপন করা হলো:
ভ্রূণীয় স্তর
যেসব অঙ্গ বা তন্ত্র গঠিত হয় (পরিণতি)
১. একটোডার্ম (Ectoderm)
-
ত্বক (এপিডার্মিস), চুল, নখ ও লোম।
-
সম্পূর্ণ স্নায়ুতন্ত্র (মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড)।
-
চোখের লেন্স, কর্নিয়া ও রেটিনা।
-
দাঁতের এনামেল এবং মুখগহ্বরের আবরণী।
-
পিটুইটারি গ্রন্থি ও অ্যাড্রেনাল মেডুলা।
২. মেসোডার্ম (Mesoderm)
-
কঙ্কালতন্ত্র (অস্থি ও তরুণাস্থি) এবং পেশিতন্ত্র।
-
রক্ত সংবহনতন্ত্র (হৃৎপিণ্ড, রক্ত ও রক্তনালি)।
-
রেচনতন্ত্র (বৃক্ক) ও প্রজননতন্ত্র।
-
ত্বকের ভেতরের স্তর (ডার্মিস)।
-
দেহের বিভিন্ন অঙ্গের আবরণী (প্লুরা, পেরিকার্ডিয়াম)।
৩. এন্ডোডার্ম (Endoderm)
-
পরিপাক নালির অন্তরাবরণী।
-
শ্বসনতন্ত্রের অন্তরাবরণী (ট্রাকিয়া, ব্রঙ্কাস, ফুসফুস)।
-
যকৃৎ এবং অগ্ন্যাশয়।
-
থাইরয়েড, প্যারাথাইরয়েড ও থাইমাস গ্রন্থি।
-
মূত্রথলির ভেতরের স্তর।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রোটিন নির্মিত উপাদানটি হলো 'অ্যান্টিবডি' বা ইমিউনোগ্লোবিউলিন। সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু মায়ের শালদুধ (কোলোেস্ট্রাম) থেকে IgA অ্যান্টিবডি পেয়ে থাকে।
অ্যান্টিবডি সরাসরি কোনো জীবাণু বা প্যাথোজেনকে ধ্বংস করে না, বরং এরা জীবাণুকে চিহ্নিত করে বা নিষ্ক্রিয় করে অন্যান্য শ্বেত রক্তকণিকার কাজকে সহজ করে দেয়। অ্যান্টিবডি প্রধানত নিচের প্রক্রিয়াগুলোর মাধ্যমে কাজ করে:
১. স্তূপীকরণ বা অ্যাগ্লুটিনেশন (Agglutination): অ্যান্টিবডিগুলো জীবাণুর (যেমন- ব্যাকটেরিয়া) পৃষ্ঠের অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অনেকগুলো জীবাণুকে একত্রে দলা পাকিয়ে বা স্তূপীকৃত করে ফেলে। ফলে জীবাণুগুলো ছড়াতে পারে না এবং ম্যাক্রোফেজ সহজেই দলা পাকানো জীবাণুগুলোকে গিলে খেয়ে (ফ্যাগোসাইটোসিস) ধ্বংস করতে পারে।
২. প্রশনম বা নিউট্রালাইজেশন (Neutralization): অনেক সময় অ্যান্টিবডি ব্যাকটেরিয়ার নিঃসৃত ক্ষতিকর টক্সিন (বিষ) বা ভাইরাসের চারপাশে শক্ত আবরণ তৈরি করে। এর ফলে এরা সুস্থ কোষের সাথে যুক্ত হতে পারে না এবং এদের ক্ষতিকর প্রভাব প্রশমিত বা নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।
৩. অপসোনাইজেশন (Opsonization): অ্যান্টিবডি জীবাণুর পৃষ্ঠে যুক্ত হয়ে এর আবরণকে এমনভাবে পরিবর্তন করে দেয় যেন তা ফ্যাগোসাইটিক কোষের (নিউট্রোফিল ও ম্যাক্রোফেজ) কাছে অত্যন্ত সুস্বাদু বা আকর্ষণীয় মনে হয়। এর ফলে ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন হয়।
৪. কমপ্লিমেন্ট সিস্টেম সক্রিয়করণ (Activation of Complement System): অ্যান্টিবডি জীবাণুর সাথে যুক্ত হয়ে রক্তে থাকা নিষ্ক্রিয় 'কমপ্লিমেন্ট প্রোটিন'গুলোকে সক্রিয় করে তোলে। এই সক্রিয় প্রোটিনগুলো জীবাণুর কোষঝিল্লিতে ছিদ্র তৈরি করে পানি ঢুকিয়ে জীবাণুর কোষকে ফাটিয়ে ধ্বংস (Lysis) করে দেয়।
এভাবেই প্রোটিন নির্মিত অ্যান্টিবডি নানামুখী কৌশলে মানবদেহকে (ও সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুকে) জীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।