| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘তিরানার বিষয় শিক্ষক…’ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ২০২৬ – পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

তিরানার বিষয় শিক্ষক বলেছেন মানবিক বিভাগে পৌরনীতির সাথে সম্পর্কিত একটি বিষয় রয়েছে। সেই বিষয়টি সীমিত সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে অসীম অভাব দূর করা যায় সেই সম্পর্কে আলোচনা করে থাকে। এছাড়াও সম্পদ, উৎপাদন ব্যবস্থা, বাজেট প্রভৃতি বিষয়ও এই বিষয়ের অন্তর্গত।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
"ইতিহাস ব্যতীত পৌরনীতি ভিত্তিহীন এবং পৌরনীতি ব্যতীত ইতিহাস মূল্যহীন"- এই বিখ্যাত উক্তিটি করেছেন জন সিলি।
নাগরিকতার সাথে জড়িত সকল বিষয় নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তাকে পৌরনীতি বলে। পৌরনীতি মূলত নাগরিকতাবিষয়ক বিজ্ঞান। নাগরিকের উত্তম জীবন প্রতিষ্ঠা করাই পৌরনীতির লক্ষ্য। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের খ্যাতিমান লেখক ই. এম. হোয়াইট বলেন, 'নাগরিকতার সাথে জড়িত সকল বিষয় নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তাকে পৌরনীতি বলে।’
উদ্দীপকে আলোচিত বিষয়টি হলো অর্থনীতি, যা অসীম অভাব ও সীমিত সম্পদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে মানুষের আচরণ ও সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করে।
পৌরনীতি ও অর্থনীতি উভয়ই সমাজের মানুষের কল্যাণ সাধনের লক্ষ্যে কাজ করে। একটি রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করতে দুর্নীতিমুক্ত শাসন কাঠামোর পাশাপাশি সুদৃঢ় অর্থনৈতিক সামর্থ্য প্রয়োজন, কারণ সুশাসন ছাড়া প্রকৃত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাজেট ও উৎপাদন ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো সফলভাবে পরিচালনার জন্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দক্ষতার প্রয়োজন হয়, যা পৌরনীতি থেকে অর্জিত হয়। অর্থাৎ, সীমিত সম্পদ দিয়ে নাগরিকের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করতে পৌরনীতি ও অর্থনীতির সমন্বিত জ্ঞান একটি দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উদ্দীপকে আলোচিত পৌরনীতি ও অর্থনীতি উভয় বিষয় পাঠ করা একজন ব্যক্তির সুনাগরিক হওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক।
পৌরনীতি নাগরিককে তার অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করার মাধ্যমে বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযমের মতো সুনাগরিকতার গুণাবলি অর্জনে সাহায্য করে। এটি দেশপ্রেম জাগ্রত করে এবং জাতীয় ইতিহাস ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করে।
অন্যদিকে, অর্থনীতি পাঠের মাধ্যমে নাগরিকরা সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং অভাব ব্যবস্থাপনার কৌশল শিখতে পারে, যা সুখী ও স্বাবলম্বী জীবন গঠনে প্রয়োজন। সম্পদ বণ্টন, বাজেট ও বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে সচেতন নাগরিকরাই দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।
অর্তএব বলা যায়, পৌরনীতির রাজনৈতিক চেতনা এবং অর্থনীতির বাস্তবমুখী জ্ঞান সম্মিলিতভাবে একজন নাগরিককে দক্ষ ও দেশপ্রেমিক মানুষে রূপান্তরিত করে। সুতরাং, সমৃদ্ধ রাষ্ট্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এই দুটি বিষয়ের জ্ঞান অর্জন সুনাগরিকতার অপরিহার্য শর্ত।