| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘তিস্তাপাড়ে আজকাল নাকি…’ ঢাকা বোর্ড ২০২৪ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

তিস্তাপাড়ে আজকাল নাকি ফসলি জমির অভাব। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী জমিতে মেশিন বসিয়ে উত্তোলন করে নেয় ভূগর্ভস্থ পাথর। এখানে ফসলের তুলনায় পাথরের মূল্য বেশি। তাই দিনে দিনে মেশিনের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় আর পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এলাকার সচেতন জনগোষ্ঠী দেশের স্বার্থে এই কাজে বাধা দিলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাদের বিরোধ হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এখানে অনধিক তিনটি মেশিন বসানোর অনুমতি দিলেও বাস্তবে শতাধিক মেশিনে পাথর উত্তোলন করে ব্যবসায়ীরা এতে একদিকে খাদ্য উৎপাদন যেমন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। এই রকম চলতে থাকলে একদিন হয়তো শোনা যাবে মাটির নিচে তলিয়ে গেছে তিস্তাপাড়ের বিশাল জনপদ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
মোহনলালের তথ্যমতে, নবাব সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে সৈন্যসংখ্যা পঞ্চাশ হাজারের বেশি।
"আমাদের কারও অদৃষ্ট মেঘমুক্ত থাকবে না শেঠজি।"- কথাটি মিরজাফর জগৎশেঠকে উদ্দেশ করে সিরাজউদ্দৌলা সম্পর্কে ভীত হয়ে বলেছেন।
নবাব সিরাজউদ্দৌলার অধিকাংশ অমাত্য ও সেনাপতি অর্থ ও ক্ষমতার লোভে নবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। মিরজাফর আলি খান নিজেই নবাব হওয়ার লোভে হাত মেলান রাজা রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ প্রমুখ বিশ্বাসঘাতক ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে। নবাবের খালা ঘসেটি বেগমও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। ক্লাইভের সঙ্গে তারা হাত মেলান। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মিরজাফরের বাড়িতে এক বৈঠক বসে। সেখানে সিরাজউদ্দৌলা সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে মিরজাফর প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন। কেননা নবাব সিরাজ সিংহাসনে স্থির হতে পারলে এসব চক্রান্তকারীর অর্থাৎ তাদের কারও ভাগ্যই মেঘমুক্ত থাকবে না বলে মিরজাফর মনে করেছেন।
উদ্দীপকের সচেতন জনগোষ্ঠী 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলা চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে।
দেশপ্রেমিক মানুষ সব সময় দেশ ও জনগণের জন্য চিন্তা করেন। দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেন। দেশপ্রেমিকের প্রদর্শিত পথে চললে জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, অসাধু ব্যবসায়ীদের স্বার্থান্বেষী কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করেন সচেতন জনগোষ্ঠী। অধিক লাভের জন্য ফসলি জমিতে মেশিন বসিয়ে ভূগর্ভস্থ পাথর উত্তোলন করে অসাধু ব্যবসায়ীরা, যাতে করে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এলাকার সচেতন জনগোষ্ঠী দেশের স্বার্থে এই কাজে বাধা দিলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাদের বিরোধ বাধে। তাদের এই আদর্শের মিল রয়েছে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলার আদর্শের সঙ্গে। তারা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজ চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করেছে উদ্দীপকে। নবাব সিরাজ ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক নেতা। তিনি সব সময় দেশ ও জনগণের মঙ্গল চিন্তা করতেন। ইংরেজ বেনিয়ারা এ দেশের মানুষের জান-মালের হুমকি হয়ে উঠলে তিনি কঠোর হাতে তাদের দমনের উদ্যোগ নেন। এ দেশ থেকে ইংরেজদের বিতাড়িত করে জাতিকে একটি দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনের নিশ্চয়তাদানে সচেষ্ট ছিলেন। নবাবের এই আদর্শের সঙ্গে উদ্দীপকের সচেতন জনগোষ্ঠীর আদর্শের মিল পরিলক্ষিত হয়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের সচেতন জনগোষ্ঠী 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজ চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে।
"প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের অসাধু ব্যবসায়ী আর 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ইংরেজ বেনিয়াদের চরিত্র অভিন্ন।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
অধিক লাভের আশায় অনেকেই ভারতবর্ষে বাণিজ্য করতে আসে। সেই ধারাবাহিকতায় ইংরেজরাও এ দেশে এসেছে। বাণিজ্যের নামে তারা বাংলার বুকে অরাজকতা চালিয়েছে।
উদ্দীপকের অসাধু ব্যবসায়ীদের কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অন্যায়ের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। তারা অধিক লাভের জন্য ফসলি জমি থেকে মেশিন বসিয়ে পাথর উত্তোলন করে। এতে করে পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। একদিকে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকাণ্ডে তাদের অসৎ উদ্দেশ্যের দিকটি ফুটে উঠেছে। বাণিজ্যের নামে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি লুটতরাজ শুরু করে ধীরে ধীরে বাংলার মানুষকে নিঃস্ব করে ফেলে। নিতান্ত কম দামে পাইকারি পণ্য ক্রয় করে অত্যন্ত চড়া দামে খুচরা বিক্রি করে তারা ফুলে-ফেঁপে ওঠে।
উদ্দীপকের অসাধু ব্যবসায়ী শ্রেণি এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উভয়ের কর্মকাণ্ডেই তাদের অসৎ উদ্দেশ্যের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। সাধারণ মানুষের ক্ষতি করে তারা লাভবান হতে চেয়েছে। নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য তারা সাধারণ মানুষকে শোষণ করেছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, উদ্দীপকের অসাধু ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে বর্ণিত ইংরেজ বেনিয়াদের উদ্দেশ্য অভিন্ন। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।