তিয়াশা স্কুলের পড়া শেষ করে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন কল্প-কাহিনি পড়ে। স্কুলের সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে তার রয়েছে সরব উপস্থিতি। তার গৃহশিক্ষক এ বিষয় নিয়ে প্রায়ই বকাবকি করেন। তিনি তিয়াশাকে বলেন, “গল্প পড়ে সময় নষ্ট করে কোনো লাভ নেই। তোমার পরীক্ষায় কি এসব পড়বে? আমার দেওয়া উত্তরপত্রগুলো পড়ো। নিশ্চিত এ-প্লাস পাবে।”
মনোরাজ্যে দান গ্রহণসাপেক্ষ।
“ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়”- কথাটির মাধ্যমে প্রাবন্ধিক স্বাস্থ্য এবং ব্যাধির বৈশিষ্ট্যসমূহ সামনে রেখে মানুষের ভালো ও মন্দ বৈশিষ্ট্য অর্জনের বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছেন।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক বলেছেন- ব্যাধিই সংক্রামক তথা রোগ-ব্যাধি সংক্রমিত হওয়ার বা ছড়িয়ে যাওয়ার বিষয়। আর স্বাস্থ্য ছড়িয়ে যায় না, তা ছড়ানোর বিষয় নয়। মানুষকে তা অনেক যত্নে অর্জন করতে হয়। ইংরেজ সভ্যতার পাশাপাশি থেকে আমরা সেই সভ্যতার ভালো বৈশিষ্ট্যগুলো আয়ত্ত না করে খারাপ বৈশিষ্ট্যগুলো ধারণ করেছি। ডেমোক্রেসিকে আয়ত্ত করেছি তার দোষগুলোকে আত্মসাৎ করে, যা আমাদের মধ্যে রোগের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে আমাদের মানসিকতার উৎকর্ষ সাধিত হয়নি। এ' দিকটি বোঝাতেই প্রাবন্ধিক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত শিক্ষকের মধ্যে 'বই পড়া' প্রবন্ধের শিক্ষার ফল লাভের প্রতি গুরুত্বের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক বই পড়াকে সর্বশ্রেষ্ঠ শখ বললেও আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে তিনি একে শখ হিসেবে বই পড়ার পরামর্শ দিতে রাজি নন। কেননা আমাদের এই রোগ-শোক, দুঃখ-দারিদ্র্যের দেশে শিক্ষার ফল লাভের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। যে শিক্ষায় নগদ কোনো ফল কিংবা আর্থিক দিক না থাকে তা এখানে সাদরে গ্রহণ করা হয় না।
উদ্দীপকে বর্ণিত শিক্ষক তিয়াশার বিভিন্ন ধরনের বই পড়াকে সময়ের অপচয় মনে করেন। তার মতে যেগুলো পরীক্ষায় এ-প্লাস পাওয়ার জন্য কাজে লাগবে সেগুলোই তিয়াশার পড়া উচিত। ওই শিক্ষকের এমন মনোভাব 'বই পড়া' প্রবন্ধের শিক্ষার ফল লাভ বা নগদ বাজারদরের প্রতি গুরুত্বের দিকটিকে নির্দেশ করে। লেখক এ প্রবন্ধে বলেন, সমাজে এমন কিছু নির্বোধ লোক আছে যারা মনে করে, যে শিক্ষা পাশ করা কিংবা ভালো ফলাফল করতে কাজে লাগে সেটি গুরুত্বপূর্ণ। তারা মনে করে অযথা সাহিত্যচর্চার কোনো প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ যে শিক্ষার ফল নগদ পাওয়া যায় তারা সে শিক্ষার পক্ষপাতী।
"উদ্দীপকে বর্ণিত তিয়াশার চেতনা 'বই পড়া' প্রবন্ধের প্রত্যাশিত জগতের জন্য উপযুক্ত করে তুলবে।”- মন্তব্যটি যথার্থ। কারণ উক্ত প্রবন্ধে লেখক শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরের বই পড়ে বিচিত্র বিষয়ে জ্ঞানার্জনের কথা বলেছেন।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক মানুষের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি ও এর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন সাহিত্যচর্চা হলো শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ। সাহিত্য মানুষের মনকে সরল, সরাগ ও সমৃদ্ধ করতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর এটি সহজ করার জন্য চাই বেশি বেশি লাইব্রেরি। কেননা লাইব্রেরিতে মানুষ স্বেচ্ছায় বহু বিচিত্র বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে জ্ঞানী হতে পারে।
উদ্দীপকে বর্ণিত তিয়াশার মধ্যে নানান ধরনের বই পড়ার আগ্রহ লক্ষ করা যায়। সে স্কুলের পড়া শেষ করে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন কল্পকাহিনি পড়ে। স্কুলের সহশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গেও সে জড়িত। 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখক তিয়াশার মতো মানুষদেরই প্রত্যাশা করেছেন যারা পাঠ্যবইয়ের বাইরেও নানান ধরনের বই পড়তে আগ্রহী হবে এবং প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করতে সমর্থ হবে। তাঁর প্রত্যাশিত জগতে মানুষ শিক্ষার নগদ ফল লাভের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করবে।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক বই পড়ার গুরুত্ব ও এর প্রতি মানুষের অনাগ্রহী হওয়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। এগুলোর মাধ্যমে তিনি মূলত মানুষের মধ্যে এমন একটি জগত সৃষ্টি করতে চেয়েছেন যেখানে মানুষ প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হবে। তিনি মনে করেন এমন জগৎ তৈরি করার লক্ষ্যে মানুষের জন্য স্বেচ্ছায় সাহিত্যচর্চার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। আর এর জন্য তিনি বেশি বেশি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। কেননা লাইব্রেরিতে মানুষ স্বেচ্ছায় বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতে পারে। উদ্দীপকের তিয়াশার চেতনায়ও আলোচ্য প্রবন্ধের লেখকের মনোভাবই লক্ষণীয়। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
