| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘তন্ময় তার গ্রামে…’ মাইলস্টোন কলেজ ২০২৬ – জনমত ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

তন্ময় তার গ্রামে ‘পঞ্চব্যঞ্জন’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ সন্ধ্যায় এখানে মিলিত হয়। সেখানে তারা চায়ের আড্ডার পাশাপাশি পত্রপত্রিকা পড়া, টেলিভিশনে খবরাখবর জানার সুযোগ পায়। সামাজিক সচেতন ব্যক্তি হিসেবে তন্ময় সবাইকে উপদেশ দেয় যাতে আগামী নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারে। কিন্তু অধিকাংশই স্বল্পশিক্ষিত হওয়ায় রেডিয়ো শুনে, টেলিভিশন দেখে সময় কাটায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
'The Politics' গ্রন্থটি গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল-এর লেখা।
রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলতে কোনো দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের মনোভাব, মূল্যবোধ, বিশ্বাস, অনুভূতি ও দৃষ্টিভঙ্গির সমষ্টিকে বোঝায়।
মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড তার 'The Civic Culture' গ্রন্থে রাজনৈতিক সংস্কৃতি শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন। তার মতে, 'রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো রাজনৈতিক ব্যবস্থার সদস্যদের রাজনীতি সম্পর্কে মনোভাব এবং দৃষ্টিভঙ্গির রূপ ও প্রতিকৃতি।' অর্থাৎ কোনো দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে সে দেশের জনগণ কীভাবে গ্রহণ করছে সেটার ধরনই হলো রাজনৈতিক সংস্কৃতি। রাজনৈতিক সংস্কৃতির মাধ্যমে একটি সমাজের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে। একটি দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার গতি প্রকৃতি দেখে সে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। কোনো অঞ্চলের মানুষ রাজনৈতিক বিষয়ে কী চিন্তা করে তা রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যদিয়েই প্রকাশিত হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত তন্ময়ের কার্যক্রম আমার পাঠ্যবইয়ের 'জনমত' (Public Opinion) গঠনের বিষয়টিকে নির্দেশ করে।
জনমত হলো কোনো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের সুচিন্তিত ও কল্যাণকামী অভিমত। এটি গণতন্ত্রের প্রাণ। জনমত গঠনের বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে, যেমন- সংবাদপত্র, রেডিয়ো, টেলিভিশন, সভা-সমিতি ইত্যাদি। এসব মাধ্যমের সাহায্যে জনগণ দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে সচেতন হয় এবং নিজেদের মতামত গঠন করে। রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী জনমত গড়ে ওঠে যা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রভাব বিস্তার করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, তন্ময় 'পঞ্চব্যঞ্জন' নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছে, যেখানে গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে সংবাদপত্র পড়া এবং টেলিভিশনে খবরাখবর দেখার সুযোগ পায়। তন্ময় তাদের যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে উপদেশ দেয়। এই যে সংবাদপত্র পড়া, খবর দেখা এবং আলোচনার মাধ্যমে সচেতন হওয়া এগুলো মূলত জনমত গঠনেরই প্রক্রিয়া। তন্ময়ের এই কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামের সাধারণ মানুষ রাজনৈতিকভাবে সচেতন হচ্ছে এবং জাতীয় বিষয়ে তাদের একটি দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হচ্ছে। সুতরাং বলা যায়, তন্ময়ের এই উদ্যোগটি জনমত গঠনের বিভিন্ন মাধ্যম ও প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত।
উদ্দীপকে বর্ণিত মাধ্যমগুলো তথা সংবাদপত্র, রেডিয়ো, টেলিভিশন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য সচেতন জনমত অপরিহার্য। সংবাদপত্র, রেডিয়ো ও টেলিভিশন জনগণের সামনে প্রার্থীদের যোগ্যতা, দলের কর্মসূচি এবং দেশের সমস্যাগুলো তুলে ধরে। এর ফলে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন প্রার্থীর তুলনামূলক বিচার-বিশ্লেষণ করার সুযোগ পায় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার ও প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড এসবের মাধ্যমেই জনগণের কাছে পৌঁছায়।
উদ্দীপকের 'পঞ্চব্যঞ্জন', সংগঠনের মাধ্যমে গ্রামের মানুষ সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের সাথে যুক্ত হচ্ছে। যদিও তারা স্বল্পশিক্ষিত, তবুও রেডিয়ো ও টেলিভিশনের মাধ্যমে তারা সমসাময়িক রাজনীতি ও প্রার্থীদের সম্পর্কে জানতে পারছে। তন্ময়ের মতো সচেতন ব্যক্তির পরামর্শ তাদের এই তথ্যগুলোকে বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করছে। এই মাধ্যমগুলো ব্যবহারের ফলে গ্রামের মানুষ কেবল অভাবে ভোট না দিয়ে প্রার্থীর যোগ্যতা বিচার করার সক্ষমতা অর্জন করছে, যা একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ।
পরিশেষে বলা যায়, সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া জনমতকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। এগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেয় এবং জনগণের দাবি-দাওয়া তুলে ধরে। যখন জনগণ এসব মাধ্যমের সাহায্যে সঠিক তথ্য পায়, তখন তাদের পক্ষে যোগ্য ও সৎ প্রার্থী নির্বাচন করা সহজ হয়। উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের মাধ্যমগুলো জনমত গঠন ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।