| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘তোমাদের জীববিজ্ঞান সিলেবাসে…’ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৪ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

তোমাদের জীববিজ্ঞান সিলেবাসে এমন একটি প্রাণী আছে যার মুখোপাঙ্গ এবং দর্শন প্রক্রিয়া ভিন্ন ধরনের।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
কোনো প্রাণীর জীবনচক্রের প্রাথমিক দশা থেকে পূর্ণাঙ্গ দশায় পৌছাতে যেসব দৈহিক পরিবর্তন সাধিত হয় তাই হলো রূপান্তর।
Cnidaria জাতীয় প্রাণীদের এপিডার্মিস ও গ্যাস্ট্রোডার্মিসের মাঝখানে অবস্থিত জেলির মতো আঠালো, স্থিতিস্থাপক, পাতলা, বর্ণহীন অকোষীয় স্তরটির নাম হলো মেসোগ্লিয়া। মেসোগ্লিয়া এপিডার্মিস ও গ্যাস্ট্রোডার্মিসের কোষগুলোর ভিত্তিতল হিসেবে কাজ করে। এর স্থিতিস্থাপকতা প্রাণীর কর্ষিকা ও দেহের সংকোচন ও প্রসারণে সহায়তা করে। এছাড়া এটি প্রাণীর দৈহিক কাঠামো গঠন করে।
উদ্দীপকের প্রাণীটি হলো ঘাসফড়িং। উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম অঙ্গটি হলো মুখোপাঙ্গ । নিচে ঘাসফড়িংয়ের মুখোপাঙ্গের চিহ্নিত চিত্র দেওয়া হলো-
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি হলো ঘাসফড়িং, যার দর্শন অঙ্গের গঠনগত ও কার্যকরী একক হলো ওমাটিডিয়াম। প্রাণীটিতে আলোকের তীব্রতার উপর ভিত্তি করে দর্শন কৌশলের ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
ঘাসফড়িং অন্ধকারে ওমাটিডিয়ামের রেটিনাল সিথের রঞ্জক কণিকা সংকুচিত হয়ে কর্নিয়ার দিকে ঘনীভূত হয় এবং ক্রিস্টালাইন কোণ আবৃত হয়ে পড়ে। উলম্ব আলোকরশ্মি ওমাটিডিয়ামের কর্নিয়ার ভেতর প্রবেশ করে র্যাবডোমে পৌঁছে প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে। পাশাপাশি পাশের ওমাটিডিয়ামে আপতিত রশ্মিও তির্যকভাবে র্যাবডোমে পৌঁছে প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে। ফলে একটি ওমাটিডিয়ামে দুটি প্রতিবিম্ব তৈরি হয়। বস্তুর বিভিন্ন অংশের প্রতিবিম্বগুলো একে অপরের উপর আপতিত হয়ে সম্পূর্ণ বস্তুর অস্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।
আবার আলোতে প্রতিটি ওমাটিডিয়ামের রেটিনাল সিথের রঞ্জক কণিকা নিচের দিকে ছড়িয়ে যায়। ফলে প্রতিটি ওমাটিডিয়াম কালো পর্দা দ্বারা
পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে যায়। তখন শুধু উলম্ব আলোকরশ্মি কণিকা দিয়ে প্রবেশ করে র্যাবডোমে প্রতিবিম্ব তৈরি করে। তির্যক রশ্মি আপতিত হতে পারে না। এক্ষেত্রে বস্তুর স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি করে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, দিনের উজ্জ্বল আলো ও স্তিমিত আলো দুই ক্ষেত্রেই ঘাসফড়িংয়ের দৃষ্টিশক্তি সমভাবে কার্যকর থাকে না।