| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’তোমরা যেখানে সাধ…’ সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ২০২৬ – প্রত্যাবর্তনের লজ্জা, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও- আমি এই বাংলার পারে রয়ে যাব;
দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরী ডানা শালিখের সন্ধ্যায় হিম হয়ে আসে
ধবল রোমের নিচে তাহার হলুদ ঠ্যাং ঘাসে অন্ধকারে
নেচে চলে একবার- দুইবার- তারপর হঠাৎ তাহারে
বনের হিজল গাছ ডাক দিয়ে নিয়ে যায় হৃদয়ের পাশে;
দেখিব মেয়েলি হাত সকরুণ-শাদা শাঁখা ধূসর বাতাসে
শঙ্খের মতো কাঁদে; সন্ধ্যায় দাঁড়ালে সে পুকুরের ধারে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৬
কবির চোখের পাতায় শীতের বিন্দু জমবে।
"দারুণ ভয়ের মতো ভেসে উঠবে আমাদের আটচালা"- বাড়ি ফিরে যাওয়া কবির কাছে একই সাথে লজ্জা ও ভয়ের বোঝাতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতায় কবি রেলস্টেশনে পৌছাতে পৌঁছাতেই ট্রেন ছেড়ে দেয়। এতে তিনি হতাশ হয়ে তাঁর বাবা-মায়ের কথা মনে করেন। বাবা তাঁকে স্টেশনে আসার সময় তাড়া দিচ্ছিলেন। তিনি তাঁর প্রস্তুতি দেখেই অনুমান করেছিলেন যে শেষ ট্রেন ধরতে পারবেন না। আর মাও চেয়েছিলেন কবি যেন বই নিয়ে রাত কাটিয়ে দেন যাতে সময়মতো গিয়ে রেলগাড়ি ধরতে পারেন। কিন্তু তিনি ট্রেন ধরতে না পেরে বাড়িতে ফিরে আসেন। কবি তাঁর এ বাড়ি ফেরাকে লজ্জা হিসেবে দেখেছেন। ফলে বাড়ির কাছাকাছি গিয়ে তাঁদের আটচালা ঘরটি দেখে কবির মধ্যে ভয় কাজ করে।
শিকড় তথা জন্মস্থানের প্রতি নিবিড় টানের দিক থেকে উদ্দীপকটি 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতার সাথে সম্পর্কিত।
'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতায় জন্মস্থানের প্রতি কবির গভীর টান ফুটে উঠেছে। তিনি জন্মস্থানের সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক ছিন্ন করে শহরে যেতে চান না। কেননা জন্মস্থানের আলোয় তিনি নিজেকে যতটা *প্রকাশ করতে পারেন, অন্য কোথাও তা পারেন না। তাই যান্ত্রিকতাপূর্ণ কৃত্রিম জীবন থেকে মুক্তি পেতে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই শেষ ট্রেনটি হারান।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবির গভীর স্বদেশপ্রেম ও আত্মিক টান প্রকাশ পেয়েছে। তিনি অন্যদের মতো দূরে চলে যেতে চান না; তিনি বাংলার মাটিতে থেকেই এর নিসর্গসৌন্দর্য উপভোগ করতে চান। বিভিন্ন অনুষঙ্গের বর্ণনার মাধ্যমে বাংলার গ্রামীণ প্রকৃতির শান্ত ও স্নিগ্ধ রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। মূলত উদ্দীপকের কবিতাংশে বাংলার প্রকৃতি, মানুষ ও পরিবেশের সঙ্গে কবির গভীর মমত্ববোধ এবং এদেশ ছেড়ে অন্য কোথাও না যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে। 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতার কবিও জন্মস্থানের মায়া ছেড়ে শহুর জীবনে যেতে চান না। জন্মস্থানের প্রতি এরূপ টানই উদ্দীপকের সাথে 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতার সাদৃশ্য নির্মাণ করেছে।
"চিত্রকল্পটি একটি বিশেষ দিকের ইঙ্গিত থাকলেও 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতার প্রেক্ষাপট ভিন্ন"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতায় কবি শহরগামী শেষ ট্রেনটি ধরতে গিয়ে ব্যর্থ হন। ট্রেন ধরতে না পারার হতাশায় তাঁর মনে পড়ল বাবা-মায়ের কথাগুলো। তারা বিভিন্নভাবে কবিকে সতর্ক করেছেন যেন ট্রেন ধরতে কবি ব্যর্থ না হন। কিন্তু কবির মনে ছিল একধরনের অনিচ্ছা, যার কারণে তিনি কারও উপদেশ গ্রাহ্য করেননি। মূলত তাঁর মধ্যে যান্ত্রিক জীবনের মোহ ভেঙে গ্রামীণ জীবনে ফিরে আসার আকুতি কাজ করেছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে স্বদেশের প্রতি গভীর টান পরিলক্ষিত হয়। পৃথিবীর অন্যান্য দেশ ছেড়ে তিনি আজীবন বাংলার বুকেই থাকতে চান। বাংলার নিসর্গ সৌন্দর্য তাঁকে মুগ্ধ করে রাখে। ফলে অন্যরা চলে গেলেও তিনি এই বাংলায় থেকে যেতে চান। 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতার কবিরও জন্মভূমির প্রতি গভীর টান লক্ষ করা যায়।
'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতার কবির কাছে শহর বা নাগরিক জীবনের তুলনায় মাতৃতুল্য গ্রামীণ জীবনই পরম স্বস্তির। তাই তিনি বিভিন্ন অজুহাতে নগরজীবনে যেতে চান না। তিনি মায়ের আশ্রয়ে শহরমুখী জীবনযাত্রায় খাপ খাওয়াতে না পারার ব্যর্থতাকে মুছে ফলতে চান। উদ্দীপকের কবি নির্দ্বিধায় এদেশের বুকে থেকে যেতে চান, তিনি অন্য কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন না। কিন্তু 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতায় কবি দুই রকম জীবন অভিজ্ঞতা লাভের পর গ্রামীণ জীবনকে বেছে নিতে চান। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যৌক্তিক।