A. Nayan
A. Nayan
29 May 2026 (4 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘তপুর বয়স ছয়…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪ – পল্লিসাহিত্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
📘 ক্লাস: 9-10🎓 গ্রুপ: general📚 বই: বাংলা📖 ৮ম অধ্যায় : পল্লিসাহিত্য - মুহম্মদ শহীদুল্লাহ🔢 সৃজনশীল নং:🏫 বোর্ড: ময়মনসিংহ বোর্ড📅 সাল: ২০২৪⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

তপুর বয়স ছয় বছর। সে রাত হলেও ঘুমাতে চায় না। তপুর মা সুরাইয়া বেগম চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে শাশুড়িকে বলেন, ‘মা আপনি তপুকে একটু ঘুম পাড়ান, আমি জি-বাংলার সিরিয়ালটা দেখে আসি।’ তপুর দাদি বলেন, ‘আসো দাদুভাই, তোমাকে ডালিম কুমারের গল্প বলি।’ কিন্তু তপু বলে, ‘না, আমি ডরিমন কার্টুন দেখবো।’ দাদি ভাবেন- আমাদের অতীত জীবনের গল্পগুলো যদি বাঁচিয়ে রাখা যেত তাহলে কতই না ভালো হতো। তিনি আফসোস করে বলেন, ‘কী যুগ আইলোরে, জি-বাংলা আর ডরিমন সব খাইলো রে!’

উত্তর:

'ভূয়োদর্শন' অর্থ প্রচুর দেখা ও শোনার মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা।

উত্তর:

পল্লির গানগুলো যুগ যুগ ধরে লালিত পল্লিমানুষের মূল্যবান জীবনালেখ্য বলে এগুলো অমূল্য রত্নবিশেষ।

পল্লিজীবনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত পল্লিগানগুলো বহু যুগ ধরে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে আছে। এ গানগুলোর কথায়, সুরে এবং গায়কিতে কত প্রেম আছে তার তুলনা নেই। পল্লির প্রকৃতি, জীবন এবং মানুষের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান ও দর্শনের প্রকাশ ঘটে এসব গানে। বিচিত্র এসব গানের মধ্যে রয়েছে জারি, সারি, বাউল, কীর্তন, ভাটিয়ালি, রাখালি, মারফতি, মুর্শিদি, কবিগান, পালাগান ইত্যাদি। বৈচিত্র্যপূর্ণ এ বিপুল সংগীত ভান্ডারের তুলনা সারা পৃথিবীতে নেই। এগুলো অমূল্য রত্নের মতোই আমাদের নিজস্ব সম্পদ।

উত্তর:

উদ্দীপকের তপু ও তার মায়ের মানসিকতায় 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধে উল্লিখিত আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রোতে গা ভাসানোর দিকটি ফুটে উঠেছে।

পল্লিসাহিত্যের নানা উপকরণ পল্লির মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। কিন্তু আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে মানুষ পল্লির সংস্পর্শ থেকে দিন দিন দূরে সরে যাচ্ছে। ফলে শহরের মানুষের কাছে পল্লির জীবনাচরণ আরও বেশি অজানা থেকে যাচ্ছে।

উদ্দীপকের তপুর মা দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল নন। তিনি নিজে যেমন বিদেশি সিলিয়ালে আসক্ত তেমনি ছেলেকেও বিদেশি কার্টুন ডরিমনের মতো নানা বিষয়ে আগ্রহী করে তুলেছেন। ফলে ছোট্ট তপু দাদীর কাছে ডালিম কুমারের গল্প শোনার পরিবর্তে ডরিমন দেখার আবদার করে। আলোচ্য 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধেও প্রাবন্ধিক এ দিকটির কথা উল্লেখ করে আক্ষেপ করেছেন। তাঁর মতে, আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রোতে পল্লিসাহিত্যের বিভিন্ন উপাদান বিস্মৃতির অতল গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে, যেমনটি তপুর মা ও তপুর আচরণেও পরিলক্ষিত হয়। তাদের এই মনোভাব 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধের আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রোতে গা ভাসানোর দিকটিকে মনে করিয়ে দেয়।

উত্তর:

"উদ্দীপকের দাদির চিন্তা-চেতনাই পারে 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধের লেখকের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করতে।"- উক্তিটি যথার্থ।

পল্লিসাহিত্য মানে গ্রামের মানুষের সৃষ্ট সাহিত্য। এমন সাহিত্য আমাদের দেশের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। একসময় আমাদের পল্লিসাহিত্য যথেষ্ট সমৃদ্ধ ছিল। কিন্তু কালের আবর্তে সংরক্ষণ ও প্রসারের অভাবে অমূল্য এই সাহিত্য আঙ্গিকটি আজ বিলুপ্তির পথে। এক্ষেত্রে সচেতনতা ও সংরক্ষণের মানসিকতাই পারে ধ্বংসের হাত থেকে পল্লিসাহিত্যকে রক্ষা করতে।

উদ্দীপকের দাদি পল্লিসাহিত্য ভালোবাসেন। এ কারণেই তিনি নাতি তপুকে ডালিম কুমারের কাহিনি শুনিয়ে ঘুম পাড়াতে চান। কিন্তু বিদেশি কার্টুন দেখে অভ্যস্ত তপুর এ ধরনের কাহিনির প্রতি কোনো আগ্রহ নেই। তাই সে ডালিম কুমারের কাহিনির পরিবর্তে ডরিমন কার্টুন দেখার জন্য আবদার করতে থাকে। নাতির এ ধরনের আবদার শুনে এবং নিজেদের সাহিত্য-সম্পদের করুণ দশা দেখে দাদি তাই মর্মাহত হন। পল্লিসাহিত্যের প্রতি ভালোবাসাই তার এই আক্ষেপের কারণ।

'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধে বাংলার মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত পল্লিসাহিত্যের বিভিন্ন উপাদানের বর্ণনা করা হয়েছে। এসব উপাদানের মধ্য দিয়ে আমাদের অতীত ঐতিহ্য ও গৌরব প্রকাশ পায়। বাংলা পল্লিসাহিত্য যেমন- মৈমনসিংহ গীতিকা, প্রবাদ, পল্লিগান, উপকথা, রূপকথা, ছড়া ইত্যাদি বিষয় প্রাবন্ধিক সংগ্রহ ও সংরক্ষণের গুরুত্ব নিয়ে প্রবন্ধে আলোচনা করেছেন। এগুলোকে সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আর এক্ষেত্রে সর্বাগ্রে প্রয়োজন পল্লিসাহিত্যের প্রতি অনুরাগ ও সচেতনতা। উদ্দীপকের দাদীর মাঝেও এ বিষয়টি ভালোভাবে লক্ষ করা যায়। এ দিক বিবেচনায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।

10 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘তপুর বয়স ছয়…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪ – পল্লিসাহিত্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”