‘তোতা-কাহিনি’ গল্পে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা ও তোতাপাখিকে জোরপূর্বক শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে তার প্রাণহানির ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। রাজা ও পণ্ডিতরা তাকে, বইয়ের পাতায় মুখস্থ বিদ্যা শেখাতে গিয়ে তার ডানা ছেঁটে দেয়, তাকে শিকলে বেঁধে রাখে। অবশেষে যত্ন ও খাবারের অভাবে পাখিটি মারা যায়। এ গল্পে সমাজের সেই শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে যেখানে শিক্ষার্থীর প্রকৃত বিকাশ ও সুস্থতার চেয়ে পণ্ডিতদের উপস্থিতি ও পুরস্কারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আমাদের শিক্ষাই আমাদের নির্জীব করেছে বলে 'রই পড়া' প্রবন্ধে বলা হয়েছে।
লাইব্রেরি আমাদের মানসিক বিকাশে সহায়তা করে বলে এটি একরকম আমাদের মনের হাসপাতাল বলে অভিহিত করা হয়েছে।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক লাইব্রেরিকে মনের হাসপাতাল বলেছেন। হাসপাতালে যেমন মানুষের দেহের রোগের চিকিৎসা করা হয় তেমনই মনের রোগ নিরাময়ের জন্য লাইব্রেরির ভূমিকা অনস্বীকার্য। লাইব্রেরিতে লোকে স্বেচ্ছায়, সচ্ছন্দচিত্তে স্বশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পায়। প্রত্যেক মানুষই এখানে আত্মশক্তি ও রুচি অনুসারে নিজের মনকে আপন চেষ্টায় আত্মার রাজ্যে, জ্ঞানের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। লাইব্রেরি মানুষের মনের দাবি পূরণ করে। মনের স্বতঃস্ফূর্ততা ও আত্মতৃপ্তি একমাত্র লাইব্রেরিই প্রদান করতে পারে। সংঘাতপূর্ণ সমাজের ক্লেদাক্ত মানুষের মনকে সুস্থ-সবল করতে এবং জরা-ব্যাধিমুক্ত রাখতে লাইব্রেরির গুরুত্ব অপরিসীম।
উদ্দীপকে 'বই পড়া' প্রবন্ধের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটিপূর্ণ দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় ত্রুটিপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন- এ শিক্ষাব্যবস্থায় ছাত্রদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বিদ্যা গেলানো হয়। এর ফলে তারা প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পায় না। প্রকৃত শিক্ষায় তারা শিক্ষিত হতে পারে না।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটিপূর্ণ দিকের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তাঁর মতে, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থী না বুঝে মুখস্থ করে পরীক্ষায় পাশ করে। শিক্ষকরা তাদের জোর করে বিদ্যা গেলান। এতে করে শিক্ষা শুধু ব্যর্থ হয় না, অনেক স্থলে মারাত্মক আকার ধারণ করে। যেমনটি ঘটেছে উদ্দীপকের তোতা পাখির বেলায়। রাজা ও পণ্ডিতরা তাকে বইয়ের পাতায় মুখস্থ বিদ্যা শেখাতে গিয়ে তার ডানা ছেঁটে দেয়, তাকে শিকলে বেঁধে রাখে। অবশেষে যত্ন ও খাবারের অভাবে পাখিটি মারা যায়। তোতাপাখিটির মৃত্যু ও তোতাপাখিটিকে শিক্ষাদানের পদ্ধতি আমাদের আলোচ্য প্রবন্ধের ত্রুটিপূর্ণ দিকটিকেই নির্দেশ করে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে আলোচ্য প্রবন্ধের প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতির ত্রুটিপূর্ণ দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকে স্বেচ্ছায় বই পড়ে জ্ঞান অর্জনের দিকটি না থাকায়, "উদ্দীপকে মানুষের স্বশিক্ষিত হওয়ার প্রসঙ্গটি অনুপস্থিত”- মন্তব্যটি যথার্থ।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক মানুষের স্বশিক্ষিত হওয়ার জন্য লাইব্রেরিতে স্বেচ্ছায় বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। লাইব্রেরিতে বই পড়ার মাধ্যমে মানুষ জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়। মানুষকে যথার্থ মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে হলে মানবজীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য সামনে রেখে শিক্ষা অর্জন করতে হয়। সুশিক্ষিত হওয়ার ক্ষেত্রে বই পড়া ও লাইব্রেরির গুরুত্ব অপরিসীম।
উদ্দীপকে তোতাপাখিকে জোর করে পুস্তকের পাতা মুখের মধ্যে পুরে দিতে গিয়ে তাকে প্রাণহীন করা হয়েছে। এ বিষয়টি 'বই পড়া' প্রবন্ধে বর্ণিত আমাদের স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের জোর করে বই মুখস্থ করানোর মধ্য দিয়ে প্রাণহীন করার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষা এবং সার্টিফিকেট অর্জনের লক্ষ্যে প্রশ্ন মুখস্থ করে পরীক্ষার খাতায় উগরে দিয়ে আসার মধ্য দিয়ে প্রকৃত শিক্ষা অর্জিত হয় না। এতে করে তাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক চিন্তা গঠিত হয় না। স্বশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিতই থাকে। তাই লেখক এ প্রবন্ধে মানুষের স্বশিক্ষিত হওয়ার জন্য স্বেচ্ছায় বেশি বেশি বই পড়ার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি লাইব্রেরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। স্বশিক্ষিত হওয়ার এ প্রসঙ্গটি উদ্দীপকে নেই।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার ক্ষেত্রে বই পড়ার উপযোগিতা ও পাঠকের মানসিকতা ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি এখানে প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের অন্তরায় নির্দেশ করে তা থেকে উত্তরণের জন্য বই পড়তে বলেছেন। তিনি মনে করেন লাইব্রেরিতে স্বেচ্ছায় বেশি বেশি বই পড়ার মাধ্যমে মানুষ স্বশিক্ষিত হয়ে উঠতে পারে। অথচ উদ্দীপকে শুধু জোর করে তোতাপাখিকে শিক্ষাদানের কথা ও পরিণতি নির্দেশ করা হয়েছে। এ কারণে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
