| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘তপু ভাগ্যান্বেষণে ঘুরতে…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

তপু ভাগ্যান্বেষণে ঘুরতে ঘুরতে এসে হাজির হয় রাজধানী ঢাকায়। মিটফোর্ডে এক ফুটপাতে হোটেলে খেতে গিয়ে দেখতে পায় পাশের নর্দমায় অনেকগুলো ওষুধ পড়ে আছে। হোটেলবয়ের কাছে জানতে পারে এগুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বলে কোম্পানির লোক ফেলে গেছে। তার মাথায় বিদ্যুৎ খেলে যায়। সে ঐ ওষুধগুলো কুড়িয়ে নতুন প্যাকেটে মুড়ে কম দামে বিক্রি করতে থাকে। সাধারণ মানুষ কম দামে পেয়ে সরল বিশ্বাসে তার কাছ থেকে ওষুধ কিনে প্রতারিত হতে থাকে। আর তপু অল্পদিনে ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বনে যায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
ডোমপাড়া থেকে ঢোলকের শব্দ ভেসে আসে।
হাসুনির মাকে তার বাবা প্রহার করার কারণ হলো ঘরের খবর বাইরে বলা।
হাসুনির নানা ও নানি দুজনে মিলে সারাক্ষণ সংসারে কলহ করে। এ কারণে হাসুনির মা বিরক্ত হয় এবং ঘরের শান্তি ফিরে পাওয়ার উদ্দেশ্যে মজিদের স্ত্রীকে বাবা-মায়ের কলহের কথা বলে দেয়। মজিদের মাধ্যমে যখন হাসুনির মায়ের বুড়ো বাপ বিষয়টি জানতে পারে, তখন খুব অপমান বোধ করে এবং অপমানের জ্বালা কমানোর জন্যই হাসুনির মাকে প্রহার করে।
উদ্দীপকের তপুর মাঝে ভণ্ডামি ও প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা লাভে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের চরিত্র ফুটে উঠেছে।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ ভাগ্যান্বেষণে বেরিয়েছিল। ঘুরতে ঘুরতে সে চলে আসে মহব্বতনগর গ্রামে। নাটকীয় ভঙ্গিমায় প্রবেশ করে গ্রামের সবাইকে সে এটা বিশ্বাস করিয়ে ফেলে যে, সে মোদাচ্ছের পীরের খাদেম। পীরের স্বপ্নাদেশেই সে এই গ্রামে এসেছে বলে গ্রামের লোকদের জানায়। অশিক্ষিত সরল মানুষগুলো তার কথা বিশ্বাস করে।
উদ্দীপকের তপুর ঘটনা ভিন্ন ভিন্নতায় হলেও উপন্যাসের মজিদের কথা মনে করিয়ে দেয়। কেননা, ভিন্ন প্রেক্ষাপটে হলেও তপুও মানুষকে ঠকায়। সরল মানুষকে ঠকিয়ে সে নিজের স্বার্থ হাসিল করে। মানুষকে ঠকিয়ে তপু অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠা পেয়ে যায়। একইভাবে উপন্যাসের মজিদও মহব্বতনগর গ্রামে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল। তাই, বলা যায় যে, উদ্দীপকের তপুর মাঝে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের চরিত্র ফুটে উঠেছে।
প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও উদ্দীপকের তপু ও 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ উভয়ই প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা লাভের চেষ্টা করায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসের প্রেক্ষাপটে দেখা যায় মজিদ শঠ ও প্রতারক একটি চরিত্র। মহব্বতনগর গ্রামের মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে ব্যবহার করে সে ধর্মব্যবসা শুরু করে। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল নিজের স্বার্থ সিদ্ধি ও অর্থলাভ।
উদ্দীপকের তপু উপন্যাসের মজিদের মতোই কটবুদ্ধির অধিকারী। তাই সুযোগ মতো মানুষের সরল বিশ্বাসকে কাজে লাগায় সে। মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে ব্যবসায় মাতে। প্রতারণার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে তপু একসময় সফল হয়।
আলোচ্য উপন্যাস ও উদ্দীপকের বিশ্লেষণে দেখতে পাই, ভাগ্যান্বষণে তপু রাজধানী ঢাকায় আসে। আর উপন্যাসের মজিদ যায় মহব্বতনগর গ্রামে। অথচ দুজনের ঘটনার ক্ষেত্র আলাদা। তাই পাল্টে যায় প্রেক্ষাপটও। কিন্তু দুজনেই ভণ্ড ও প্রতারক। ভন্ডামি করে তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে নেয়। তাদের লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠা লাভ। সেটা তারা পূরণ করে। তাই, উদ্দীপক ও আলোচ্য উপন্যাসের বিশ্লেষণে বলা যায়, 'প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও তপু ও মজিদের লক্ষ্য এক।'- মন্তব্যটি যথার্থ।