| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ট্র্যাজেডি বিয়োগাত্মক সাহিত্য।…’ যশোর বোর্ড ২০২৫ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

ট্র্যাজেডি বিয়োগাত্মক সাহিত্য। ট্র্যাজেডিতে মহৎ চরিত্রের পতন ঘটে। ‘ইডিপাসে’ আমরা দেখি ইডিপাসের পতন। সেটা ছিল নিয়তি নির্ধারিত। ‘ওথেলো’ নাটকে নিজের ভুলে স্ত্রীকে অবিশ্বাস করে নিজের নির্মম পরিণতি ডেকে আনে। ওথেলোর অধীনস্থ সৈনিক ইয়াগো তার স্ত্রীর সহযোগিতায় ওথেলোর মনে স্ত্রী সম্পর্কে সন্দেহ ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
ইংরেজদের পক্ষে মোট সৈন্যসংখ্যা ছিল তিন হাজার।
“দেশবাসীকে আশ্বাস দিচ্ছি যে, তাঁদের দুর্ভোগের অবসান হয়েছে।”- সিরাজউদ্দৌলা সম্পর্কে এই উক্তিটি সিংহাসনে আরোহণ করে নতুন নবাব মিরজাফর করেন।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে প্রধান সেনাপতি মিরজাফর নবাবের পক্ষে যুদ্ধ না করে ইংরেজদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নবাব সিরাজের পতন ঘটান এবং নিজে নবাব হন। এরপর মিরজাফর ক্লাইভের হাত ধরে সিংহাসনে বসে দরবারে সবার উদ্দেশ্যে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন। বিশ্বাসঘাতক মিরজাফরের মতে, নবাব সিরাজের শাসন দেশবাসীর জন্য দুর্ভোগের ছিল। মিরজাফর নবাব হওয়ার ফলে সেই দুর্ভোগের অবসান হয়েছে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বাস দিয়েছেন।
উদ্দীপকের ইয়াগো হিসেবে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ঘসেটি বেগম, মিরজাফর, উমিচাঁদরে চিহ্নিত করা যায়।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার দেশপ্রেম এবং তাঁর নিকটাত্মীয় ও রাজ-অমাত্যদের বিশ্বাসঘাতকতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। নবাব আলিবর্দির মৃত্যুর পর সিরাজউদ্দৌলা বাংলার মসনদে বসার পর থেকেই ষড়যন্ত্রের শিকার হন। খালা ঘসেটি বেগম তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করে নিজে নবাব হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে চান মিরজাফর। তাই ষড়যন্ত্র করে নবাবের পক্ষে যুদ্ধ না করে পলাশিতে ইংরেজদের জয়লাভের সুযোগ করে দিয়েছেন এবং নিজে নবাব হয়েছেন। ধূর্ত ও স্বার্থপর উমিচাঁদ ইংরেজদের কথা নবাবের কাছে এবং নবাবের কথা ইংরেজদের কাছে বলে দুই পক্ষের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে গভীর ষড়যন্ত্র করেছে।
উদ্দীপকে ওথেলোর অধীন সৈনিক ইয়াগো ওথেলোর মনে স্ত্রী সম্পর্কে সন্দেহ ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে। ফলে ওথেলো তা বিশ্বাস করে নিজের করুণ পরিণতি ডেকে এনেছেন। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও নবাব সিরাজ তাঁর অধীন সেনাপতি মিরজাফরকে কোরান স্পর্শ করে শপথ করিয়ে বিশ্বাস করে পলাশির যুদ্ধে নিজের পরাজয় ও করুণ পরিণতি ডেকে আনেন। রাজ অমাত্যদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জেনেও তা প্রতিকার না করাই নবাবের করুণ পরিণতির কারণ। উদ্দীপকে ইয়াগো যেমন ষড়যন্ত্র করে ওথেলোর জীবনে সর্বনাশ ডেকে আনে, 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ঘসেটি বেগম, মিরজাফর, উমিচাঁদ ব্যক্তিবর্গ নবাব সিরাজের জীবনে করুণ পরিণতি সৃষ্টি করে। তাই উদ্দীপকে ইয়াগো যেন ঘসেটি বেগম, মিরজাফর ও উমিচাঁদের প্রতিরূপ।
"নিয়তি ও বিশ্বাসঘাতকতা হচ্ছে ট্র্যাজেডির মূল।"- উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের আলোকে মন্তব্যটিকে যথার্থ বলা যায়, কেননা, উদ্দীপকের ইডিপাসের পতন ছিল নিয়তি নির্ধারিত আর সিরাজউদ্দৌলার ট্র্যাজেডির মূলে ছিল বিশ্বাসঘাতকতা।
সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকটি করুণরসাত্মক বা ট্র্যাজেডি ভাবাপন্ন। নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র সিরাজের ব্যক্তিত্ব ও প্রজ্ঞা ট্র্যাজেডির শিল্পমানকে স্পর্শ করেছে। এক অপরিসীম যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে নাটকটি। ট্র্যাজেডি সদৃশ বেদনাবহতা এই নাটকে বিদ্যমান।
উদ্দীপকে ট্র্যাজেডি নাটক সম্পর্কে বলা হয়েছে যাতে মহৎ চরিত্রের পতন ঘটে। বিখ্যাত 'ইডিপাস' নাটকে ইডিপাসের পতন ছিল নিয়তি নির্ধারিত। আবার 'ওথেলো' নাটকে ওথেলোর অধীনস্থ সৈনিক ইয়াগোর বিশ্বাসঘাতকতার কারণে ওথেলো স্ত্রীকে অবিশ্বাস করে নিজের নির্মম পরিণতি ডেকে এনেছে। এখানে ওথেলোর ট্র্যাজেডির মূলে আছে বিশ্বাসঘাতকতা। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও বিশ্বাসঘাতকতা, পরিলক্ষিত হয়, যা নবাব সিরাজের পতন ডেকে এনেছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ট্র্যাজেডিতে মহৎ চরিত্রের পতন ঘটে। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে সিরাজ ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক মহৎ চরিত্রের নবাব। রাজ অমাত্যদের বিশ্বাসঘাতকতায় তাঁর পতন ঘটেছে। নিকটজনদের পরিত্যাগ করতে না পারা কিংবা কঠোর শাস্তি। প্রদান করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁর চরিত্রে error of judgement বা বিবেচনাগত ভুল অন্বিত হয়েছে। এভাবেই 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকটি ট্র্যাজেডি সদৃশ বৈশিষ্ট্যে উন্নীত হয়েছে। উদ্দীপকেও ওথেলো বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়ে বিবেচনাগত ভুলের মাধ্যমে ট্র্যাজেডির শিকার হয়েছে। 'সিরাজউদ্দৌলা' এবং 'ওথেলো' শেকসপিয়রীয় ট্র্যাজেডিকে ধারণ করেছে। আর প্রাচীন গ্রিক ট্র্যাজেডির নিয়তিনির্ভর পতন দেখা যায় উদ্দীপকের ইডিপাস চরিত্রে। সুতরাং "নিয়তি ও বিশ্বাসঘাতকতা ট্র্যাজেডির মূল"- বিষয়টি উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে প্রতীয়মান হয়েছে।