| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘তরুণ নামের জয়মুকুট…’ সিলেট বোর্ড ২০২৩ – আঠারো বছর বয়স, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

তরুণ নামের জয়মুকুট শুধু তাহারই-যাহার শক্তি অপরিমাণ, গতিবেগ ঝঞ্ঝার ন্যায়, তেজ নির্মেঘ আষাঢ় মধ্যাহ্নের মার্তণ্ডপ্রায়, বিপুল যাহার আশা, ক্লান্তিহীন যাহার উৎসাহ, অটল যাহার সাধনা, মৃত্যু যাহার মুঠিতলে। তরুণ অরুণের মতোই যে তারুণ্য তিমির-বিদারী, সে যে আলোর দেবতা। রঙের খেলা খেলিতে খেলিতে তাহার উদয়, রঙ ছড়াইতে ছড়াইতে তাহার অস্ত। যৌবন-সূর্য যেথায় অস্তমিত, দুঃখের তিমির-কুন্তলা নিশীথিনীর সেই তো লীলাভূমি।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৯
‘আঠারো বছর বয়স' বিপদের মুখে অগ্রণী।
তারুণ্যশক্তি কোনো বাধা মানে না। তরুণরা দেহ ও মনের জরাজীর্ণতা পেছনে ফেলে দুর্বার গতিতে সামনে এগিয়ে যায়। তারা দুর্লঙ্ঘ পর্বত, বিপদসংকুল পথ পার হয়ে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে চায় । 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য এদেশের বুকে আঠারো নেমে আসার প্রত্যাশা করেছেন। কবি আশা করেন, এই বয়সের তরুণরা এই দেশটাকে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণময় করে গড়ে তুলবে। অত্যাচার, উৎপীড়ন প্রতিহত করবে। তরুণরা মহৎ সৃষ্টির আনন্দে উদ্বেলিত হবে।
উদ্দীপকে বর্ণিত তরুণদের সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা ‘আঠারো বছর বয়স' কবিতার ভাবার্থের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে বয়ঃসন্ধিকালের বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরেছেন। এ বয়সি তরুণেরা অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত। তাই তারা শত আঘাত- সংঘাতের মধ্যেও রক্তশপথ নিয়ে মানুষের কল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। এরা স্থবিরতা, নিশ্চলতা, জরাজীর্ণতাকে অতিক্রম করে দুর্বার গতিতে। তাই আলোচ্য কবিতায় কবি প্রগতি ও অগ্রগতির পথে এ বয়সি তরুণদের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছেন ।
উদ্দীপকে কবি দুরন্ত-দুর্বার তারুণ্যের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। যাদের শক্তি অপরিমাণ, গতিবেগ ঝঞ্ঝার ন্যায়, তেজ নির্মেঘ আষাঢ় মধ্যাহ্নের মার্তণ্ডপ্রায়, যাদের আশা বিপুল, যাদের উৎসাহ ক্লান্তিহীন, যাদের সাধনা অটল, যাদের মুঠিতলে মৃত্যু। তারা আলোর দেবতার মতো রঙের খেলা খেলতে খেলতে উদিত হয়, রঙ ছড়াতে ছড়াতে তারা অস্তমিত হয়। আর তারুণ্যের এসব বৈশিষ্ট্যই 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় সদ্য যৌবনে উত্তীর্ণ তরুণদের মধ্যে কবি প্রত্যক্ষ করেছেন। এভাবেই উদ্দীপক ও 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার ভাবার্থের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকে ‘আঠারো বছর বয়স' কবিতার ভাবার্থ পরিপূর্ণভাবে ফুটে উঠেছে।
‘আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি আঠারো বছর বয়সকে দুর্বার ও নির্ভীক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এ বয়সের তরুণেরা সমাজজীবনের নানা বিকার, অসুস্থতা ও সর্বনাশের অভিঘাতকে রুখে দিতে পারে। তাই আলোচ্য কবিতায় কবি জাতীয় জীবনে এ বয়সি তরুণদের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছেন ।
উদ্দীপকে কবি তরুণদের বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরেছেন যাদের শক্তি অপরিমাণ, গতিবেগ ঝঞ্ঝার ন্যায়, তেজ নির্মেঘ আষাঢ় মধ্যাহ্নের মার্তণ্ডপ্রায়, যাদের আশা বিপুল, যাদের উৎসাহ ক্লান্তিহীন, যাদের সাধনা অটল, যাদের মুঠিতলে মৃত্যু। তারা আলোর দেবতার মতো রঙের খেলা খেলতে খেলতে উদিত হয়, রঙ ছড়াতে ছড়াতে তারা অস্তমিত হয়। তরুণরা অরুণের মতোই তিমির-বিদারী, তারা আলোর দেবতা। যৌবন-সূর্য যেখানে অস্তমিত, দুঃখের তিমির-কুন্তলা নিশীথিনীর সেটাই লীলাভূমি বলে কবি বলেছেন। 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় ঠিক একই চেতনার বহিঃপ্রকাশ লক্ষ করা যায়।
‘আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বলা হয়েছে, এ বয়সের আছে সমস্ত দুর্যোগ আর দুর্বিপাক মোকাবিলা করার অদম্য শক্তি। কবি তাই সমস্যাপীড়িত এ দেশে আঠারোর তারুণ্যকে প্রত্যাশা করেছেন। অর্থাৎ, আলোচ্য কবিতা ও উদ্দীপকের কবিতাংশ উভয় ক্ষেত্রেই সমাজজীবনের ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। পাঠ্য কবিতার কবি প্রত্যাশা করেছেন আঠারো বছর বয়সি তরুণেরা যেন দেশের চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়ায়। আর উদ্দীপকের কবিতাংশের তরুণেরা সত্যের পথে এগিয়ে যেতে নিজেদের জড়তা, ভীরুতা ও দ্বিধাকে ধ্বংস করেছে। সুতরাং, উভয় কবিতায় যে তারুণ্যের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে, তা স্পষ্ট।