| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘”তরুণ নামের জয়-মুকুট…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫ – আঠারো বছর বয়স, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

“তরুণ নামের জয়-মুকুট শুধু তাহারই- যাহার শক্তি অপরিমাণ, গতিবেগ ঝঞ্ঝার ন্যায়, তেজ নির্মেঘ আষাঢ় মধ্যাহ্নের মার্তণ্ডপ্রায়, বিপুল যাহার আশা, ক্লান্তিহীন যাহার উৎসাহ, বিরাট যাহার ঔদার্য, অফুরন্ত যাহার প্রাণ, অটল যাহার সাধনা, মৃত্যু যাহার মুঠিতলে।”
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৯
'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি কবির 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
"তাজা তাজা প্রাণে অসহ্য যন্ত্রণা" বলতে প্রাণবন্ত তরুণদের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় তরুণরা দেশ ও মানবতার কল্যাণে বিপদ মোকাবেলায় এগিয়ে আসে। চারপাশের নানা অন্যায়-অত্যাচার, শোষণ-বঞ্চনা, উৎপীড়ন-নিপীড়ন, সামাজিক অনাচার-বৈষম্য ইত্যাদি দেখে প্রাণবন্ত তরুণেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। চারপাশের সকল নেতিবাচকতার বিরুদ্ধে বয়ঃসন্ধিকালে মানুষের মাঝে যে বিক্ষুব্ধ মনোভাব পরিলক্ষিত হয় সেটিকেই প্রশ্নোক্ত পঙ্ক্তিতে তুলে ধরা হয়েছে।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হচ্ছে তারুণ্যের সম্ভাবনাময় বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি মানুষের বয়ঃসন্ধিকালের বৈশিষ্ট্যগুলোকে নিয়ে রচিত হয়েছে। এ বয়স মানবজীবনের এক উত্তরকালীন পর্যায়। এ বয়সে মানুষ কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণ করে। অন্যের উপর থেকে নির্ভরশীলতা পরিহার করে নিজের পায়ে তাকে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিতে হয়।
উদ্দীপকে তারুণ্যের সম্ভাবনাময় বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে- যার শক্তি, অপরিমাণ, গতিবেগ ঝঞ্ঝার ন্যায়, মধ্য আকাশের সূর্যের মতো যার প্রতাপ, যার উৎসাহ ক্লান্তিহীন, যার প্রাণ অফুরন্ত, সাধনা অটল এবং মৃত্যুকে যে ভয় করে না- তাকে তরুণ বলে অভিহিত করা যায়। 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায়ও তারুণ্যের সম্ভাবনাময় এ বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে। নতুন শক্তিতে উদ্যম তরুণরা স্থবিরতা, নিশ্চলতা ও জরাজীর্ণতাকে অতিক্রম করে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলে। তাই বলা যায়, তারুণ্যের সম্ভাবনাময় বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরার দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার সাদৃশ্য বিদ্যমান।
"উদ্দীপকে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বর্ণিত তারুণ্যের সকল বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়নি"- 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার বক্তব্য বিষয়ে পর্যালোচনা করে বলা যায়- মন্তব্যটি যথার্থ।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় মানবজীবনের বয়ঃসন্ধিকালের বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এ বয়সে মানুষ যৌবনে পদার্পণ করে আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে ওঠে। পরনির্ভরশীলতা পরিহার করে মানুষ এ সময় স্বাধীনভাবে জীবনের মুখোমুখি দাঁড়ায়।
উদ্দীপকে তারুণ্যশক্তির কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে- যারা মৃত্যুকে পরোয়া না করে অফুরন্ত প্রাণশক্তি নিয়ে ক্লান্তিহীনভাবে ইতিবাচক জীবনের পথে এগিয়ে যায় তারাই তরুণ। প্রগতি ও অগ্রগতির পথে নিরন্তন ধাবমানতাই তারুণ্যের বৈশিষ্ট্য। এগুলো মূলত তারুণ্যের সম্ভাবনাময় বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে। তবে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় তারুণ্যের কিছু নেতিবাচক দিকও তুলে ধরেছেন যেগুলো উদ্দীপকে ফুটে ওঠেনি।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায়ও বয়ঃসন্ধিকালের বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে। তবে উদ্দীপকের তুলনায় কবিতায় বর্ণিত বৈশিষ্ট্যসমূহ আরো বেশি ব্যাপক ও বিস্তৃত। কবিতায় বলা হয়েছে-কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণের এ বয়সটি উত্তেজনার। উত্তেজনার বশে সব বাধাবিপত্তি পেরিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে তরুণরা মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত হয়। তবে এ বয়সটি একই সঙ্গে দুশ্চিন্তারও কারণ হয়। জীবনের এই সন্ধিক্ষণে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, রাজনৈতিক নানা জটিলতাকে অতিক্রম করতে হয়। একটু ভুলে জীবনে নেমে আসে বিপর্যয়। তাই সার্বিক পর্যালোচনায় বলা যায়, উদ্দীপকে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বর্ণিত তারুণ্যের সকল বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়নি।