| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘তথ্য-১: হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র…’ Combined ২০২৬ – চলন ও অঙগচালনা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

তথ্য-১: হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র নিরেট অস্থির প্রধান উপাদান।
তথ্য-২: ভারসাম্য রক্ষায় কানের ভূমিকাই প্রধান।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৭
স্নায়ুতন্ত্রে নিউরনগুলোর মাঝে অবস্থিত যোজক টিস্যু সদৃশ যেসব কোষ স্নায়ু উদ্দীপনা পরিবহন করে না, বরং নিউরনকে অবলম্বন, পুষ্টি ও সুরক্ষা প্রদান করে, তাদের নিউরোগ্লিয়া বা গ্লিয়াল কোষ বলে। মানব মস্তিষ্কের মোট কোষের প্রায় অর্ধেকই হলো নিউরোগ্লিয়া।
মানব মস্তিষ্কের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সেরেব্রাম এবং সেরেবেলামের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
উদ্দীপকের অনুকল্প-২ এ উল্লিখিত অঙ্গটি হলো মানুষের কান। মানুষের কান শ্রবণের পাশাপাশি দেহের ভারসাম্য রক্ষায় প্রধান ভূমিকা পালন করে। মূলত কানের অন্তঃকর্ণের 'ভেস্টিবুলার অ্যাপারেটাস' () ভারসাম্য রক্ষার কাজটি নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করে। নিচে ভারসাম্য রক্ষায় এর ভূমিকার বিবরণ দেওয়া হলো:
অন্তঃকর্ণের ইউট্রিকুলাস এবং স্যাকুলাস অংশদ্বয় এবং তিনটি অর্ধবৃত্তাকার নালি মিলে ভেস্টিবুলার অ্যাপারেটাস গঠন করে।
১. অর্ধবৃত্তাকার নালির ভূমিকা: ইউট্রিকুলাস থেকে তিনটি অর্ধবৃত্তাকার নালি বের হয়, যাদের স্ফীত গোড়াকে অ্যাম্পুলা () বলে। অ্যাম্পুলার ভেতরে সংবেদী রোমযুক্ত কোষ এবং এর উপরে 'কিউপুলা' নামক জেলির মতো আবরণ থাকে। মানুষ যখন মাথা ঘোরায়, তখন নালির ভেতরের এন্ডোলিম্ফ তরলও নড়াচড়া করে। এই তরলের ধাক্কায় কিউপুলা হেলে পড়ে এবং সংবেদী রোমগুলো উদ্দীপ্ত হয়।
২. ম্যাকুলার ভূমিকা: ইউট্রিকুলাস ও স্যাকুলাসের প্রাচীরে 'ম্যাকুলা' () নামক সংবেদী অঙ্গ থাকে। ম্যাকুলার সংবেদী কোষগুলোর রোম একটি জেলি সদৃশ আবরণে প্রোথিত থাকে, যেখানে ক্যালসিয়াম কার্বনেট নির্মিত অটোলিথ () দানা থাকে। অভিকর্ষের প্রভাবে বা দেহের অবস্থান পরিবর্তনে অটোলিথ দানাগুলোর অবস্থানের পরিবর্তন ঘটে, যা নিচের রোমকোষগুলোকে উদ্দীপ্ত করে।
৩. স্নায়বিক উদ্দীপনা পরিবহন ও মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া: রোমকোষগুলোতে সৃষ্ট এই উদ্দীপনা ভেস্টিবুলার স্নায়ুর (অডিটরি স্নায়ুর শাখা) মাধ্যমে মস্তিষ্কের সেরেবেলাম অংশে পৌঁছায়। সেরেবেলাম এই প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এবং সেই অনুযায়ী মোটর স্নায়ুর মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন ঐচ্ছিক পেশিতে নির্দেশ পাঠায়।
ফলশ্রুতিতে পেশির প্রয়োজনীয় সংকোচন-প্রসারণ ঘটে এবং মানুষ কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পড়ে না গিয়ে তার দেহের ভারসাম্য ও সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখতে সক্ষম হয়।