| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘তথ্যপ্রযুক্তির কারণে ‘ক’…’ রাজশাহী কলেজ ২০২৬ – ই, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

তথ্যপ্রযুক্তির কারণে ‘ক’ রাষ্ট্রে সরকারি সেবাসমূহ জনগণের কাছে দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে। তথ্য সংগ্রহের জন্য জনগণকে আর কোথাও ছুটে যেতে হয় না। ফলে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
On Liberty-গ্রন্থটির লেখক হলেন জন স্টুয়ার্ট মিল।
ইন্টারনেট হলো বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত অসংখ্য কম্পিউটারের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশাল নেটওয়ার্ক। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তথ্য ও যোগাযোগের অনেক সুবিধা পাওয়া যায়।
১৯৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস এর UCLA (University of California, Los Angeles) ল্যাবরেটরিতে ইন্টারনেটের যাত্রা শুরু হয়। ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, নোটবুক, ট্যাব, স্মার্টফোন ইত্যাদির মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয় । ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মানুষ দ্রুত, অপেক্ষাকৃত কম খরচে এবং সহজে একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করতে পারছে। তথ্যের প্রাপ্তি ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশ্বে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করেছে ইন্টারনেট।
উদ্দীপকের ‘ক’ রাষ্ট্রের জনগণ ই-গভর্ন্যান্স (E-Governance) ব্যবস্থার সুফল ভোগ করছে।
ই-গভর্ন্যান্স হলো এমন একটি আধুনিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা, যেখানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (ICT) মাধ্যমে সরকারি সেবাসমূহ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এর ফলে নাগরিকরা সরাসরি সরকারি দপ্তরে না গিয়েও অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে সরকারি সেবা দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছাচ্ছে এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য কোথাও যেতে হচ্ছে না। এতে সময় ও অর্থ উভয়েরই সাশ্রয় হচ্ছে। এসব বৈশিষ্ট্য ই-গভর্ন্যান্স ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতার সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই ব্যবস্থায় নাগরিকরা ঘরে বসেই আবেদন করা, তথ্য জানা, ফি প্রদান এবং সেবার অগ্রগতি অনুসরণ করতে পারে। ফলে প্রশাসনিক জটিলতা কমে, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায় এবং সেবার মান উন্নত হয়।
অতএব, স্পষ্টভাবে বলা যায় যে উদ্দীপকের ‘ক’ রাষ্ট্রের জনগণ ই-গভর্ন্যান্স ব্যবস্থার সুফল ভোগ করছে, যা আধুনিক ও দক্ষ রাষ্ট্র পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যবস্থা অর্থাৎ ই-গভর্নেন্স দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক - কথাটির সাথে আমি একমত।
সরকারি কার্যক্রমের তথ্য ও বিভিন্ন সেবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌছানোর ব্যবস্থাই হলো ই-গভর্নেন্স। দুর্নীতি সুশাসনের পথে বড় বাধা। নীতি ও আইনবিরুদ্ধ আচরণই হলো দুর্নীতি। ই-গভর্নেন্সে দুর্নীতির সুযোগ অনেক কমে যায়। কেননা, ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থায় সরকারের শাসন সংক্রান্ত প্রায় সব বিষয় (কিছু স্পর্শকাতর বিষয় ছাড়া) জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকে। ফলে রাষ্ট্রের কোথায় কী হচ্ছে, সরকার কী করছে সে সম্পর্কে জনগণ সহজেই একটা ধারণা পায়। এ কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন খুব কম বিষয়ই জনগণের কাছ থেকে গোপন করতে পারেন। এজন্য ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থা চালু থাকলে সাধারণত সরকার যা খুশি তাই করতে পারে না। এর ফলে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায় এবং আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা দূর হয়। এ কারণে অনিয়ম-দুর্নীতির পথ সংকীর্ণ হয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। ই-গভর্নেন্সের মাধ্যমে প্রশাসনের কাজের ওপর সহজেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যায়। ফলে স্বচ্ছ, উন্মুক্ত প্রশাসনে আমলাদের পক্ষে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য দুর্নীতির পথে যাওয়া দুঃসাধ্য হয়। ওপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, দুর্নীতি নির্মূল করতে ই-গভর্নেন্সের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ । তাই বলা যায়, ই-গভর্নেন্স দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক।