A. Nayan
A. Nayan
19 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘তুড়ি মেরে উড়িয়ে…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩ – বহিপীর, নাটক, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
🏫 বোর্ড: কুমিল্লা বোর্ড📅 সাল: ২০২৩⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

তুড়ি মেরে উড়িয়ে দাও সমাজের ভ্রুকুটি, নিজের মতো গড়ে নাও নিজের রীতিনীতি, মানুষ হয়ে বাঁচো এবার, জীবন ভালোবাসো, প্রতিবাদই পরিবর্তন; মুক্তপ্রাণে হাসো।

উত্তর:

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম গল্পগ্রন্থের নাম নয়নচারা।

উত্তর:

জমিদার পুত্র হাশেমের বাবার জমি নিলামে উঠবে-এতে বাবার অনেক কষ্ট হবে। তাকে টাকা দিতে পারবে না। দুঃখে নিশ্চয় বুক ফেটে যাচ্ছে-এটি ভেবে হাশেম প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।

হাতেম আলির জমিদারি নিলামে উঠবে। জমি বাঁচানোর জন্য শহরে গিয়ে কোনো টাকা সংগ্রহ করতে পারেনি। তাহেরা খোদেজাকে বলছে, আপনার ছেলে হাশেম যে কাঁদছে। ছেলে বলে সে জমিদারি যাচ্ছে বলে কাঁদছে না। কান্না এসেছে বাবার চোখে পানি নেই কিন্তু দুঃখে বুক নিশ্চয় ফেটে যাচ্ছে। বাবা বলে, আমি আমার ছেলেকে ছাপাখানা করার পয়সা কখনো দিতে পারব না। তখন হাশেম বলে, আমি পয়সা চাই না, ছাপাখানাও চাই না।

উত্তর:

উদ্দীপকের প্রথম দুই চরণের ভাবের সাথে ‘বহিপীর’ নাটকের প্রতিবাদী চেতনার সাদৃশ্য রয়েছে।

‘বহিপীর’ নাটকের হাশেম আলির মধ্যে অন্যায়ের পরিবর্তে ন্যায়ের মানসিকতা লক্ষ করা যায়। তাহেরাকে জোর করে বুড়ো পিরের সাথে বিয়ে দেওয়া সে মেনে নিতে পারেনি। তাই সে তাহেরাকে নিয়ে নতুন পথে যাত্রা করে এবং তাহেরাকে বৃদ্ধ পিরের থেকে রক্ষা করেছে। তাহেরাও এ অবস্থায় বিয়ে মেনে নেয়নি। এই কাজের মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রতিবাদী মানসিকতা ফুটে উঠেছে। তাহেরা ও হাশেম উভয়ই সমাজে প্রচলিত নিয়মকে ভ্রুকুটি করে নতুন নিয়ম চালু করেছে। এমন নয়া নীতির ভাবনা উদ্দীপকের প্রথম দুই চরণেও লক্ষণীয়।

উদ্দীপকের প্রথম দুই চরণে সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার ও ধর্ম ব্যবসায়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। সমাজে বহু কুসংস্কার রয়েছে। যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ঠকে যায়। প্রতারণার স্বীকার হয় নিজের অজান্তেই। পূর্বে যেমন কুসংস্কার বিরাজমান ছিল তেমনি আজও আছে। এর মাধ্যমে এবং মানুষের ধর্মভীরুতার সুযোগ নিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করেছে একশ্রেণির মানুষ। তাই উদ্দীপকের প্রথম দুই চরণে বলা হয়েছে- তুড়ি মেরে উড়িয়ে দাও সেই ভ্রুকুটি বা কুসংস্কার। ধর্মকে আশ্রয় করে যারা নিজের ফায়দা লুটে নেয় তাদের প্রতিহত করা এখন সময়ের দাবি। নিজের মতো করে নিজের বিবেক খাটিয়ে নিজের কল্যাণকর রীতিনীতি প্রতিষ্ঠা করার ভাবনা ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরা ও হাশেম আলি চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উত্তর:

উদ্দীপকের বক্তব্যে 'বহিপীর' নাটকের আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে- মন্তব্যটি যথার্থ।

'বহিপীর' নাটকের অন্যতম চরিত্র জমিদার হাতেম আলি। তিনি একজন ক্ষয়িষ্ণু জমিদার। তিনি তার বজরায় চড়ে বন্ধু আনোয়ারের কাছে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথমধ্যে ঝড়ের কবলে পড়েন এবং তার বজরায় অনেককেই আশ্রয় দেন।

উদ্দীপকে নতুন সমাজ গঠনের জন্য পুরাতন ধ্যানধারণা পরিহারের কথা বিধৃত হয়েছে। নতুন নিয়ম, নিজের মতো করে চলার, জীবনকে ভালোবাসার কথা, মুক্তপ্রাণে হাসা আর অন্যায়ের প্রতিবাদ করার বিষয়গুলো ফুটে উঠেছে। নতুন সমাজ প্রতিষ্ঠার, নতুন দিনের প্রত্যাশার কথাও আছে। যাতে সমাজের কল্যাণ হয়। নতুন নিয়ম-নীতি অন্যায়ের প্রতিবাদ করার বিষয় 'বহিপীর' নাটকেও আছে।

'বহিপীর' নাটকের বিষয় পরিসর আরো ব্যাপক ও বিস্তৃত। এ নাটকে বহিপীরকে ঘিরে বিভিন্ন চরিত্র আবর্তিত হয়েছে। যেমন- তাহেরা হাশেম আলি, হাতেম আলি, হকিকুল্লাহ ও জমিদার গিন্নি। বহিপীর মানুষের কুসংস্কার ও ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে তার ধর্মব্যবসা পরিচালনা করে। তাহেরা একদিকে প্রতিবাদী অন্যদিকে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে। হাশেম আলি অত্যন্ত শান্তভাবে বহিপীরের কূটচালকে মোকাবিলা করেছে। হকিকুল্লাহ বহিপীরের সহকারী এক ব্যক্তিত্বহীন চরিত্র। এসব চরিত্রকেন্দ্রিক কোনো ঘটনাই উদ্দীপকে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। উদ্দীপকে কেবল প্রতিবাদী চেতনার উল্লেখ আছে। তাই যথার্থই বলা যায়, উদ্দীপকের বক্তব্যে 'বহিপীর' নাটকের আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে।

9 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘তুড়ি মেরে উড়িয়ে…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩ – বহিপীর, নাটক, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”