A. Nayan
A. Nayan
29 May 2026 (4 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘’তুমি বন্ধু কালা…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৪ – পল্লিসাহিত্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
📘 ক্লাস: 9-10🎓 গ্রুপ: general📚 বই: বাংলা📖 ৮ম অধ্যায় : পল্লিসাহিত্য - মুহম্মদ শহীদুল্লাহ🔢 সৃজনশীল নং:🏫 বোর্ড: বরিশাল বোর্ড📅 সাল: ২০২৪⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

‘তুমি বন্ধু কালা পাখি

আমি যেন কী?

বসন্ত কালে তোমায় বলতে পারিনি।’

হাট-বাজারে এ রকম গান গেয়ে মানুষের মন আকর্ষণ করত বই বিক্রেতা হকার সেকেন্দার আলি। বই বিক্রির পাশাপাশি গ্রাম অঞ্চলে লোকমুখে প্রচলিত লোক-কাহিনি, মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়গাথা ইত্যাদি সংগ্রহ করে তা ফর্মাকারে ছেপে বিক্রি করত। একসময় তার বেচা-বিক্রি ভালো হলেও ইদানীং তার বই আর তেমন কেউ কেনে না। সেকেন্দারও মনের দুঃখে পেশা পরিবর্তন করেছে।  

উত্তর:

'দেওয়ানা-মদিনা' লোকগাথার প্রখ্যাত কবি মনসুর বয়াতি। 

উত্তর:

সংগ্রহের অভাবে এবং আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রোতে লোকে ছড়া ভুলে যাচ্ছে।

বাংলা সাহিত্যের অফুরন্ত ভান্ডার ছড়িয়ে আছে পল্লির পরতে পরতে। এগুলো যেমন চমৎকার তেমনই আবার প্রাণের কথা বলে। ছড়া হলো সরস প্রাণের জীবন্ত উৎস। কিন্তু আজ দুঃখে দৈন্যে প্রাণে সুখ নেই। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে গিয়ে তারা প্রাণের আবেদনকে ভুলে যাচ্ছে। এগুলোকে সংগ্রহ করে বাঁচিয়ে রাখার বা বইয়ের পাতায় অমর করে রাখার কেউ নেই বলে লোকে ছড়া ভুলে যাচ্ছে। 

উত্তর:

উদ্দীপকের গানের অংশটি 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধের পল্লিগানের দিককে নির্দেশ করে।

আমাদের সাহিত্যের এক অফুরন্ত উৎস হলো পল্লিসাহিত্য। পল্লির মাঠে-ঘাটে, পল্লির আলো-বাতাসে, পল্লির প্রত্যেক পরতে পরতে সাহিত্য ছড়িয়ে আছে। পল্লির এসব সাহিত্যের সাহিত্যভান্ডার একান্তই আমাদের, যা বাঙালির মৌলিকত্বের কথা বলে।

পল্লিসাহিত্যের একটি বিশেষ শাখা হলো পল্লিগান। পল্লিসাহিত্যের মধ্যে এই গানগুলো অমূল্য রত্নবিশেষ। পল্লির জারি গান, সারি গান, ভাটিয়ালি গানের এক অফুরন্ত ভান্ডার পল্লির ঘাটে-মাঠে ছড়ানো রয়েছে। এসব গানে যে কত প্রেম, কত আনন্দ, কত সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে তার ইয়ত্তা নেই। এসব গান গাওয়ার জন্য কোনো আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন হতো না। লোকেরা রাস্তাঘাটে হেঁটে বেড়ানোর সময় জমায়েত হয়ে গান শুনত। উদ্দীপকে যে গানের কথা বলা হয়েছে সেটিও পল্লিগানকেই নির্দেশ করছে। সেকেন্দার আলি হাটে-বাজারে ঘুরে ঘুরে এরকম গান গায়। আর গানের যে মর্মার্থ সেখানেও আলোচ্য প্রবন্ধের পল্লিগানের সাদৃশ্য খুঁজে পাই। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের গানের অংশটি 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধের পল্লিগান বা পল্লিগীতিকে নির্দেশ করে।

উত্তর:

'উদ্দীপকের সেকেন্দার আলির কর্মকাণ্ডগুলো যদি সংরক্ষণ করা যেত তাহলে 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের প্রত্যাশা পূর্ণ হতো।"- কথাটি যথার্থ।

পল্লিসাহিত্য একটি দেশের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। কিন্তু সাহিত্যের এই মহামূল্যবান সম্পদ আজ বিলুপ্তির পথে। আমাদের উচিত পল্লির এসব সাহিত্য সংগ্রহ করে সংরক্ষণের মাধ্যমে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা।

উদ্দীপকের সেকেন্দার আলিকে দেখা যায় যে, সে হাটে-বাজারে গান গেয়ে লোকের মনোযোগ আকর্ষণ করে বই বিক্রি করে। এছাড়াও গ্রাম অঞ্চলে প্রচলিত লোককাহিনি, মুক্তিযুদ্ধের বিজয়গাথা ইত্যাদি সংগ্রহ করে তা ফর্মাকারে ছেপে বিক্রি করত। সেকেন্দার যে জিনিসগুলো ছেপে বিক্রি করত সেগুলো লোকসাহিত্য। এগুলো বাঙালি জাতির একান্ত সম্পদ। আলোচ্য প্রবন্ধে এই লোকসাহিত্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ওপরই জোর দেওয়া হয়েছে।

'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক মূলত পল্লির হারিয়ে যাওয়া সম্পদ সংরক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি প্রথমে পল্লিসাহিত্যের বিশেষ কয়েকটি দিক সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তারপর সেগুলো সংগ্রহের প্রতি মনোযোগী হওয়ার কথা বলেছেন। একদিন এক বিরাট পল্লিসাহিত্য বাংলাদেশে ছিল। কিন্তু উপযুক্ত গবেষক ও সংগ্রাহকের অভাবে এগুলো আজ বিলুপ্তির পথে। এগুলো যদি পুরোপুরি হারিয়ে যায় তাহলে বাঙালি তার মৌলিকত্ব হারাবে। তাই প্রাবন্ধিক এগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষণের প্রতি মনোযোগী হওয়ার কথা বলেছেন প্রবন্ধজুড়ে। উদ্দীপকের সেকেন্দার আলির কর্মকান্ড ও পাল্লিসাহিত্য সম্পর্কিত। এগুলো সংরক্ষণ করলে পল্লিসাহিত্য সংগ্রহ করা হতো। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সেকেন্দার আলির কর্মকাণ্ডগুলো যদি সংরক্ষণ করা যেত তাহলে 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের প্রত্যাশা পূর্ণ হতো।

10 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘’তুমি বন্ধু কালা…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৪ – পল্লিসাহিত্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”