তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে, ছোট সে কাজল গাঁয়,
গলাগলি ধরি কলা বন; যেন ঘিরিয়া রয়েছে তায়।
সরু পথ খানি সুতায় বাঁধিয়া
দূর পথিকেরে আনিছে টানিয়া।
বনের হাওয়ায়, গাছের ছায়ায়, ধরিয়া রাখিবে তায়,
বুকখানি তার ভরে দেবে বুঝি, মায়া আর মমতায়।
বেতস কেয়ার বনে ডাহুক মেয়ে আসর মাতায়।
ধান-কাউনের খেতের ভেতর দিয়ে যে দীর্ঘ সরু সুতার মতো বাঁকা পথ গেছে কবি সেই পথ দিয়ে পল্লি-দুলালের দেশে যাবেন।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন। পল্লিগ্রাম, প্রকৃতি যেন তাকে ঘিরে রেখেছে। তার বনের শীর্ষে আকাশ, পায়ের কাছে দিক-হারা মাঠ। কবি পল্লিগ্রামে যাওয়ার পথ কল্পনা করেছেন। কবির কল্পনার সেই পথকে হাবা মেয়ের এলো মাথার সিঁথির সঙ্গে তুলনা করেছেন। সেই পথ কোথাও সোজা কোথাও বাঁকা। সেই পথে গাঁয়ের মেয়ে কদম-কলি ছড়িয়ে হেঁটে চলে। কবি এই পথে পল্লি-দুলালের দেশে যাবেন।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার প্রকৃতির বর্ণনার সাদৃশ্য রয়েছে।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি এক স্বপ্নিল পল্লিজীবনের ছবি এঁকেছেন। আকাশ, মেঘ, বন আর নদীর মিলিত রূপে গঠিত সে দেশ কবির মনে প্রশান্তি আনে। কবি সেখানে যেতে চান যেখানে মাঠের ঘাসে শিশির পড়ে, বিজলী-ঝলকে মেঘেরা খেলা করে, আর হৃদয় ভরে যায় গ্রামীণ গন্ধে।
পল্লিপ্রকৃতি ও মানুষের সহজ-স্বাভাবিক রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে উদ্দীপক ও 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায়। 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি এক পল্লিগ্রামের অপরূপ রূপ ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন। কবি নানা অনুষঙ্গের সাহায্য নিয়ে তার অপূর্ব রূপ চিত্রায়ণ করেছেন। কবি এখানে বেত-কেয়ার বনে ডাহুক ডাকার কথা বলেছেন। এখানে ধান-কাউনের খেতের ভেতর দিয়ে সরু সুতার মতো দীর্ঘ পথের কথা বলেছেন। যে পথে গাঁয়ের মেয়ে কদম-কলি ছড়িয়ে হেঁটে চলে। কবি পল্লি-দুলালের সঙ্গে সেই পথে পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই ছোট কাজল গাঁয়ের রূপের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে যা কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। গলাগলি ধরা কলা বনের কথা বলা হয়েছে। সেখানে সরু পথ যেন সুতায় বেঁধে দূর পথিককে টেনে আনে এমনই অপরূপ সৌন্দর্য। বনের হাওয়া, গাছের ছায়া সমস্তই যেন মায়া-মমতায় জড়ানো। এ যেন আলোচ্য কবিতারই প্রতিচ্ছবি।
পল্লিপ্রকৃতির সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠার দিক দিয়ে "উদ্দীপকটির নিমন্ত্রণকারী যেন 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার পল্লি-দুলালের, অনুরূপ” মন্তব্যটি যথার্থ।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি পল্লিগ্রামে বেড়ে ওঠা এক বালকের কাছে গ্রামীণ জীবনের প্রতি এক গভীর আকর্ষণ ব্যক্ত করেছেন। পল্লি-দুলালের সঙ্গে তিনি যেতে চান সেই প্রকৃতির কোলে, যেখানে মাঠ-ঘাট, নদী, বনভূমি, আর মানুষের সরল হাসি মিশে আছে। কবির মন চায় গ্রামীণ স্নিগ্ধতায় হারিয়ে যেতে, প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভেসে থাকতে।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি আদরের পল্লি-দুলালের দেশ অর্থাৎ পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন। কবি গ্রামের নৈসর্গিক সৌন্দর্য অবলোকন করবেন। পল্লি-দুলালের কাঁধে হাত রেখে উদাস বেশে তিনি ঘুরে বেড়াবেন। গাছের শাখা দুলিয়ে হাজার রঙের-ফুল তুলবেন। তার সঙ্গে ঘুরতে ঘুরতে সন্ধ্যা নামবে। চারদিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসবে। নিরালা নিঝুম অন্ধকারে কবি পল্লি-দুলালের সঙ্গে পল্লিমায়ের অপরূপ সৌন্দর্য অন্বেষণ করবেন।
উদ্দীপকেও আমরা দেখতে পাই নিমন্ত্রণকারী যে গ্রামে নিয়ে যাবেন সেই গ্রামের বিবরণ দিচ্ছেন। নিমন্ত্রণকারী তার গ্রাম সম্পর্কে বলেন, ছোটো কাজল সে গাঁ, যেখানে কলা বন ঘিরে রেখেছে। গ্রামের সরু পথের সৌন্দর্য দূরের পথিককে টেনে আনে। গ্রামের বনের হাওয়া, গাছের ছায়া আমন্ত্রিত জনের বুকে মায়া-মমতার ভাবের সৃষ্টি করবে। উদ্দীপকের নিমন্ত্রণকারী যেমন তার প্রিয়জনকে পুরো গ্রাম ঘুরে দেখাতে চান, অনুরূপভাবে আলোচ্য কবিতার পল্লি-দুলালের সঙ্গে কবি ঘুরতে চেয়েছেন। তাই বলা যায়, নিমন্ত্রণকারী 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার পল্লি-দুলালের অনুরূপ।
