| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘”তুমি কি দেখেছ…’ যশোর বোর্ড ২০১৭ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

“তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়
দুঃখের দহনে করুণ রোদনে তিলে তিলে তার ক্ষয়।
আমি তো দেখেছি কত যে স্বপ্ন মুকুলেই ঝরে যায়
শুকনো পাতার মর্মরে বাজে কত সুর বেদনায়
আকাশে বাতাসে নিষ্ফল-আশা হাহাকার হয়ে রয়।”
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
সিরাজউদ্দৌলার মায়ের নাম- আমিনা বেগম।
ফরাসিরা আর ইংরেজরা এদেশে এসেছে মূলত বাণিজ্য করার নামে অবাধ লুণ্ঠন করতে, কেউ সজ্জন ব্যক্তি নন, তাদের লক্ষ্য অভিন্ন, সিরাজউদ্দৌলা একথাই বোঝাতে চেয়েছেন।
ইংরেজরা নবাব সিরাজউদ্দৌলার নিষেধ সত্ত্বেও ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যায়। ইংরেজদের এই নিয়ম বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে নবাব ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ দখল করে নেন এবং ওয়াটস ও হলওয়েলকে বন্দি করেন। বন্দিদের কাছে নবাবের নির্দেশ অমান্যের কারণ জানতে চাইলে হলওয়েল জানায়, তারা ফরাসিদের কাছ থেকে আত্মরক্ষার জন্য দুর্গ নির্মাণ করছিল। হলওয়েলের এ কথার প্রেক্ষিতে নবাব কটাক্ষ করে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।
উদ্দীপকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলার মর্মবেদনা প্রকাশ পেয়েছে।
বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা এক ভাগ্য বিড়ম্বিত ব্যক্তি। সব কিছু থাকতেও ষড়যন্ত্রের কারণে পরাজয়ের গ্লানি তাঁর পিছু ছাড়েনি। প্রগাঢ় দেশপ্রেম ও সাহস থাকা সত্ত্বেও প্রধান অমাত্যবর্গের বিশ্বাসঘাতকতায় তাঁর করুণ পরিণতি ঘটে। পলাশির প্রান্তরে মিরজাফর ও তার অনুগত সৈন্যদের বিশ্বাসঘাতকতায় বাংলার শেষ স্বাধীনতা-সূর্য অস্তমিত হয়। ফলে ভাগ্যবিড়ম্বিত অসহায় নবাবের স্বাধীনতা রক্ষার স্বপ্ন বিপন্ন হয় এবং তার ব্যক্তিজীবনে নেমে আসে মর্মান্তিক পরিণতি।
উদ্দীপকে জীবনযুদ্ধে পরাজিত ব্যক্তিমানসের মর্মবেদনা প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে দুঃখের দহনে তিলে তিলে জীবন কীভাবে নিঃশেষ হয়ে যায় তা মর্মন্তুদ ভাষায় বর্ণিত হয়েছে। উদ্দীপকের কবি অনেক স্বপ্নকে মুকুলেই ঝরে যেতে দেখেছেন। তিনি দেখেছেন ভাগ্যবিড়ম্বিত অসহায় মানুষের হাহাকার ধ্বনিত হতে। আর এই ভাগ্যাহত মানুষের বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাবের মাঝে।
বাংলার স্বাধীনতা হারিয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলার যে মর্মবেদনা প্রকাশ পেয়েছে উদ্দীপকটি কেবল সেই দিকটি ধারণ করায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকটির কাহিনি উপস্থাপিত হয়েছে নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং অন্যান্য চরিত্রের সংলাপের মধ্য দিয়ে। নাটকটি আবর্তিত হয়েছে পলাশির যুদ্ধের নানা ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে। এই যুদ্ধে দেশপ্রেমিক সিরাজউদ্দৌলার স্থির, প্রতিজ্ঞ, সাহসী সংকল্প নাটকের মূল উপজীব্য।
উদ্দীপকে দুঃখের দহনে তিলে তিলে জীবন কীভাবে নিঃশেষ হয়ে যায় তা করুণভাবে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে অনেক স্বপ্ন মুকুলেই ঝরে যায়, ভাগ্যবিড়ম্বিত অসহায় মানুষের হাহাকার আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত হয়। সর্বোপরি উদ্দীপকের বক্তব্যে জীবনযুদ্ধে পরাজিত ব্যক্তিমানসের হৃদয়াবেগ প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকটি মূলত পরাজিত নবাব সিরাজউদ্দৌলার মর্মবেদনাকে প্রকাশ করেছে। উদ্দীপকে উপস্থিত নেই নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের কারণ। আর সেটিই বাংলার ইতিহাসে কালো অধ্যায়। নবাব সিরাজউদ্দৌলার অমাত্যদের বিশ্বাসঘাতকতা ও অসহযোগিতা বাংলাকে বিপন্ন করেছিল। তাঁকে করেছিল ক্ষমতাচ্যুত। এসব প্রেক্ষাপট উদ্দীপকে আলোচিত হয়নি। ফলে উদ্দীপকে আলোচ্য নাটক সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ পায়নি। তাই যথার্থই বলা চলে, উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের আংশিক ভাব ধারণ করেছে।