| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘উচ্চ শ্রেণির জীবে…’ যশোর বোর্ড ২০১৯ – কোষ বিভাজন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

উচ্চ শ্রেণির জীবে দৈহিক বৃদ্ধি ও বংশ বৃদ্ধির জন্য A এবং B দু’ধরনের কোষ বিভাজন প্রয়োজন। A দৈহিক বৃদ্ধিতে এবং B জনন কোষ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। তবে নতুন বংশধর সৃষ্টিতে A ও B উভয় প্রক্রিয়ার ভূমিকা আবশ্যক।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
কোষ সৃষ্টি, এর বৃদ্ধি এবং পরবর্তীতে বিভাজন-এ তিনটি কাজ যে চক্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় তাকে বলা হয় কোষ চক্র।
যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস দু'বার এবং ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয় তাকে মায়োসিস কোষ বিভাজন বলে । এ কোষ বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়। এ কোষ বিভাজনে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হ্রাস পায় বলে মায়োসিসকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয় ।
উদ্দীপকে বর্ণিত A বিভাজন প্রক্রিয়াটি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া।
নিচে মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ার বৈশিষ্ট্যগুলো লিখে উপস্থাপন করা হলো—
১. মাইটোসিস কোষ বিভাজন দেহকোষে ঘটে।
২. এ প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি একবার বিভাজিত হয়।
৩. মাতৃকোষটি বিভাজিত হয়ে সমগুণসম্পন্ন দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে।
৪. এ ধরনের বিভাজনে মাতৃকোষের সংখ্যা এবং অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা সমান থাকে অর্থাৎ ক্রোমোজোম সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে।
৫. এ ধরনের বিভাজনে প্রতিটি ক্রোমোজোম লম্বালম্বিভাবে দুই ভাগে বিভক্ত হয়।
উদ্দীপকের A হলো মাইটোসিস এবং B হলো মিয়োসিস। নতুন বংশধর সৃষ্টিতে A ও B অর্থাৎ মাইটোসিস ও মিয়োসিস উভয় কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ার ভূমিকা আবশ্যক।
জীবের ডিপ্লয়েড জনন মাতৃকোষ মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে হ্যাপ্লয়েড অপত্য কোষ অর্থাৎ শুক্রাণু ও ডিম্বাণু গঠন করে। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনের ফলে জাইগোট তৈরি হয় । জাইগোটে ক্রমাগত মাইটোসিস বিভাজন হতে থাকে । ধীরে ধীরে ভ্রূণের বিকাশ ঘটতে থাকে। ভ্রূণ হতে মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় অসংখ্য কোষ সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ জীব গঠন করে। মাইটোসিস প্রক্রিয়া জীবে সবসময় চলতে থাকে। জীবের গঠন পরবর্তী বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ও বিকাশ সবই মাইটোসিসের মাধ্যমে হয়।
আবার, মিয়োসিসের ফলে জননকোষ উৎপন্ন হয়, তাই যৌন জননক্ষম জীবে মায়োসিস না ঘটলে বংশবৃদ্ধি অসম্ভব।প্রজাতিতে বংশানুক্রমে ক্রমোজোম সংখ্যা ধ্রুব রাখা শুধু এ প্রক্রিয়ার জন্য সম্ভব হচ্ছে। যৌন প্রজননসম্পন্ন কোনো দুটি জীবই হুবহু এক রকম হয় না। পৃথিবীর সকল মানুষ একই প্রজাতিভুক্ত হয়েও একে অন্যজন থেকে ভিন্নতর। মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় গ্যামেটে ক্রমোজোমের স্বাধীন বিন্যাস এবং ক্রসিংওভারের ফলে পৃথিবীতে এ বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়েছে। মিয়োসিস আনে বৈচিত্র্য, আর বৈচিত্র্য আনে অভিব্যক্তির ধারা ও প্রবাহ।মিয়োসিসের ফলে ক্রসিং ওভারের মাধ্যমে জিনগত বৈষম্যের সৃষ্টি হয়। উচ্চ শ্রেণির জীবে দৈহিক বৃদ্ধি ও বংশবৃদ্ধির জন্য মাইটোসিস ও মিয়োসিস দুই ধরনের কোষ বিভাজন প্রয়োজন। মাইটোসিস দৈহিক বৃদ্ধিতে এবং মিয়োসিস জননকোষ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।
সুতরাং বলা যায়, নতুন বংশধর সৃষ্টিতে মাইটোসিস ও মিয়োসিস উভয় প্রক্রিয়ার ভূমিকা আবশ্যক।