| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘উদ্দীপক ১: আশা…’ a – অর্ধাঙ্গী, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

উদ্দীপক ১: আশা দেখিল, বিনোদিনী সর্বপ্রকার গৃহকর্মে সুনিপুণ- প্রভুত্ব যেন তাহার পক্ষে নিতান্ত সহজ স্বভাবসিদ্ধ- দাস- দাসীদিগকে কর্মে নিয়োগ করিতে, ভৎসনা করিতে ও আদেশ করিতে সে লেশমাত্র কুষ্ঠিত নহে। এই সমস্ত দেখিয়া আশা বিনোদিনীর কাছে নিজেকে নিতান্ত ক্ষুদ্র মনে করিল।
উদ্দীপক ২: মহেন্দ্র একদিন বিরক্ত হইয়া তাহার মাকে ডাকিয়া কহিল, “একি ভালো হইতেছে? পরের ঘরের যুবতি বিধবাকে আনিয়া একটা দায় ঘাড়ে করিবার দরকার কী। আমার তো ইহাতে মত নাই- কী জানি কখন কী সংকট ঘটিতে পারে।”
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
রামচন্দ্রের অর্ধাঙ্গীর নাম সীতা।
➤ "রামচন্দ্র স্বামিত্বের ষোলো আনা পরিচয় দিয়াছেন।"- কথাটির মাধ্যমে লেখক রামচন্দ্রের কৃতিত্ব নির্দেশ করে সীতার অবস্থান নির্ণয় করার বিষয়টি বুঝিয়েছেন।
➤ 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখক পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর প্রতি অবহেলা এবং তাদের জাগরণের প্রত্যাশা করেছেন। তিনি এখানে পৌরাণিক বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে নারী ও পুরুষের অবস্থান সম্পর্কে নির্দেশ করেছেন। সীতা রামচন্দ্রের অর্ধাঙ্গী, রানি, প্রণয়িনী এবং সহচরী। তা সত্ত্বেও রামচন্দ্র স্বামিত্বটা পূর্ণমাত্রায় দেখানোর জন্য সীতার অনুভবকে গুরুত্ব দিতে চাননি। কারণ সীতার অনুভব শক্তি বুঝতে গেলে তিনি অমন পবিত্র হৃদয়খানি অবিশ্বাসের পদাঘাতে দলিত ও চূর্ণ করতে পারতেন না।
সারকথা: স্বামিত্ব ভাবটা পূর্ণমাত্রায় দেখাতেই সীতার অনুভবকে রামচন্দ্র গুরুত্ব দেননি। প্রশ্নোক্ত কথায় এটাই বোঝানো হয়েছে।
➤ উদ্দীপক ১-এর বিনোদিনীর সঙ্গে 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের নারীদের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
➤ মানুষের জীবনে ব্যক্তিত্ব গুরুত্বপূর্ণ দিক। ব্যক্তিত্বহীনরা সমাজে ঠাঁই পায় না। সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।
➤ উদ্দীপক ১-এর বিনোদিনী কাজকর্মে অত্যন্ত দক্ষ। শুরু তাই নয়, প্রভুত্ব যেন তার স্বভাবের অংশ। দাস-দাসীদের কাজের হুকুম করতে, ভর্ৎসনা করতে তার কোনো জড়তা নেই। এমনকি আদেশ করে কাজ হাসিলেও তার কোনো কুণ্ঠাবোধ নেই। উদ্দীপকের বিনোদিনী পুরুষের প্রভুত্ব স্বীকার করে নেওয়া বা নিজেকে কুণ্ঠিত করে রাখার মতো নারী নন। তিনি অনেক সাবলীল, কর্মক্ষম ও দক্ষ। এই দিকটি 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। এখানে নারীরা পুরুষশাসিত সমাজের দ্বারা নানাভাবে অবহেলার শিকার এবং তারা যে স্বামীর সমকক্ষ নয় তা বিভিন্নভাবে পুরুষরা প্রকাশ করতে চায়। লেখক রাম ও সীতার বিষয়টি প্রসঙ্গক্রমে আলোচনা করে তা বুঝিয়ে দিয়েছেন। পুরুষরা তাদের নিদারুণ স্বার্থপরতা ও আধিপত্যকামী মনোভাব দ্বারা নারীদের দমিয়ে রাখে। এভাবে উদ্দীপক ১-এর বিনোদিনীর সঙ্গে 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের নারীদের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
সারকথা: অধিকার ও আত্মমর্যাদা রক্ষার দিক থেকে উদ্দীপক ১-এর বিনোদিনীর সঙ্গে 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের নারীদের বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
➤ "উদ্দীপক ২-এ 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বর্ণিত নারীর প্রতি অবহেলার প্রতিফলন দেখা যায়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ আমাদের সমাজে নারীদের বরাবরই বোঝা হিসেবে দেখা হয়। সমাজ-সংসারে নারীদের ন্যায্য অধিকার দেওয়া হয় না। তারা যথার্থ মূল্য ও মর্যাদা থেকেও বঞ্চিত থাকে।
➤ উদ্দীপক ২-এ বাড়িতে এক নারীকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে মহেন্দ্র তার মায়ের ওপর বিরক্তি প্রকাশ করেছে। তার কাছে মনে হয়েছে, এতে যেকোনো সময় যেকোনো সংকট-সমস্যা ঘটে যেতে পারে। মহেন্দ্রর রুথায় মূলত বিধবার প্রতি সমাজের অবহেলা, হীন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। এই দিকটি 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের নারীর প্রতি অবহেলা ও অমর্যাদার দিকটির সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। এই প্রবন্ধে নারীর প্রতি পুরুষশাসিত সমাজের অবহেলা প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষ করে মুসলমান নারীরা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের হীন মানসিকতার শিকার হয়েছে।
➤ 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখক পরিবার ও সমাজ জীবনে নারীরা যে স্বাভাবিকভাবে অগ্রসর হতে পারছে না এবং তারা যে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সমাজের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন থেকে বঞ্চিত হয়ে আছে তা তুলে ধরেছেন। উদ্দীপক ২-এ বঞ্চনার প্রতিফলন ঘটেছে মায়ের ওপর মহেন্দ্রর বিরক্তি প্রকাশের মাধ্যমে। এ দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: নারীর প্রতি অবহেলা ও অমর্যাদার দিক থেকে উদ্দীপক ২-এর মূলভাব প্রবন্ধে প্রতিফলিত নারীর প্রতি পুরুষের অবহেলার দিকটি একসূত্রে গাঁথা। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।