উদ্দীপক-১:
ঘরহীন ওরা, ঘুম নেই চোখে, যুদ্ধে ছিন্ন ঘর-বাড়ি দেশ,
মাথার ভিতরে বোমারু বিমান, এই কালোরাত কবে হবে শেষ?
উদ্দীপক-২:
কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে
ভূমিহীন মনুমিয়া গাইবে তৃপ্তির গান জ্যৈষ্ঠে-বোশেখে,
বাঁচবে যুদ্ধের শিশু সসম্মানে সাদা দুধে-ভাতে।
কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে
আমাদের সব দুঃখ জমা দেবো যৌথ-খামারে,
সম্মিলিত বৈজ্ঞানিক চাষাবাদে সমান সুখের ভাগ
সকলেই নিয়ে যাবো নিজের সংসারে।
মোল্লাবাড়ির এক বিধবা দগ্ধ ঘরের নড়বড়ে খুঁটি ধরে দাঁড়িয়ে আছে।
হানাদার বাহিনীর জলপাই রঙের ট্যাঙ্ক দানবের ক্ষিপ্রতায় কামানের গোলার তীব্র শব্দ নিয়ে শহরে প্রবেশ করেছিল বলে কবি সেটাকে দানব বলেছেন।
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় বর্বর পাকিস্তানি যুদ্ধবাজদের নির্মমতার চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। তারা বাঙালিদের ওপর নির্মম অত্যাচার চালায়। তারা ছাত্র, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সর্বসাধারণ মানুষকে হত্যা করে। জলপাই রঙের ট্যাঙ্ক রাস্তায় নেমে আসে। ট্যাঙ্কের কামানের গোলায় ছাত্রাবাস, বস্তি সব ধ্বংস করে দেয়। রূপকথার দানবের মতো চিৎকার করতে করতে সেই ট্যাঙ্ক গুলো ছুটে চলে শহরময়। এই প্রসঙ্গেই কবি জলপাই রঙের ট্যাঙ্ককে দানব বলেছেন।
উদ্দীপক-১-এর সঙ্গে 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার যুদ্ধে বিধ্বস্ত, নিপীড়িত বাঙালিদের স্বাধীনতা লাভের আকাঙ্ক্ষার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় ১৯৭১ সালের নারকীয় যুদ্ধের চিত্র ফুটে উঠেছে। পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচারে বহু বাঙালি প্রাণ হারিয়েছে। ছাত্রাবাস-বস্তি উজাড় হয়েছে। হরিদাসী স্বামীহারা হয়েছে, সাকিনা বিবি সম্ভ্রম হারিয়েছে, শিশু হারিয়েছে মা-বাবাকে। স্বাধীনতার প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছে বাঙালিরা।
উদ্দীপক-১-এ মুক্তিযুদ্ধকালীন ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশের অবস্থা চিত্রিত হয়েছে। বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে বিনিদ্র রাত কাটিয়েছে। ঘর-বাড়ি, সহায়-সম্বল হারিয়ে হয়েছে নিঃস্ব। তারা যুদ্ধের বিভীষিকাময় অন্ধকার রাত শেষ হওয়ার প্রত্যাশায় প্রহর গুনছে। 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় মুক্তিযুদ্ধের ধ্বংস যজ্ঞের চিত্র যেমন চিত্রায়িত হয়েছে, তেমনই বাঙালিদের স্বাধীনতা প্রত্যাশার দিকটিও উন্মোচিত হয়েছে। উদ্দীপকেও একই সুর ধ্বনিত হয়েছে। এভাবে উদ্দীপক-১-এর সঙ্গে 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার স্বাধীনতা লাভের আকাঙ্ক্ষার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
বাঙালির মুক্তির চেতনা ধারণ করায় "উদ্দীপক-২ 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার মূল চেতনাকে ধারণ করে"-মন্তব্যটি প্রাসঙ্গিক।
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতাটি মুক্তিযুদ্ধের এক অনবদ্য দলিল। ১৯৭১ সালে বাঙালিরা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কৃষক, শ্রমিক, জেলে, রিকশাওয়ালাসহ আপামর জনসাধারণ সেই সংগ্রামে শামিল হয়।
উদ্দীপকে স্বাধীনতা লাভের পর আপামর বাঙালির জীবনে সুদিন লাভের আশা ব্যক্ত হয়েছে। জন্মগতভাবে মানুষ স্বাধীনতা লাভের অধিকার পায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক বাঙালির এই অধিকারকে হরণ করা হয়েছিল। বাঙালিরা মুক্তির সংগ্রামে লিপ্ত হয়ে সেই অধিকার ছিনিয়ে এনেছে। স্বাধীনতা লাভ করলে বাঙালিদের সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হবে। দেশে আর কারও দুঃখ থাকবে না।
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় পাকিস্তানি বাহিনীর পাশবিক অত্যাচার ও হত্যাযজ্ঞের দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে। বাঙালিরা যুদ্ধ করে স্বাধীনতা সূর্য ছিনিয়ে আনার লক্ষ্যে অস্ত্রধারণ করেছে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভের আকাঙ্ক্ষায় আত্মত্যাগ স্বীকার করেছে। উদ্দীপকেও স্বাধীনতা লাভের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন ঘটেছে। তাই বলা যায় যে, "উদ্দীপক-২ 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার মূল চেতনাকে ধারণ করে।" মন্তব্যটি প্রাসঙ্গিক।
