উদ্দীপক-১ : “গ্রামের লোক আচ্ছে বোকা
টাকা দিয়ে খাচ্ছে ধোঁকা
মোরগ ছাগল দিচ্ছে খোকা
আস্ত ছাগল জবাই করে
খাচ্ছে পির পেট ভরে।”
উদ্দীপক-২: “এভাবে চলতে নেই,
ওভাবে চলতে নেই,
এটা বলতে নেই,
ওটা করতে নেই।
ব্যাস অনেক হয়েছে
এভাবে আর মেয়েদের দমিয়ে রাখা যায় না।”
মানুষ সময়ের দীর্ঘতা দিয়ে সব বিচার করে।
পির সাহেবরা খোদার বাণী মানুষের নিকট পৌছে দেন এবং খোদার ইবাদত করেন বলে তার ছায়ায় বাস করা সৌভাগ্যের।
পীর সাহেব সারাবছর বিভিন্ন জেলায় তার অনুসারীদের বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে বেড়ান এবং খোদার বাণী পৌছে দেন। পির সাহেব অনেক পুণ্যবান মানুষ এবং তিনি সকলের মঙ্গল কামনা করেন। তাই বহিপীরের কাছে তাহেরা ফিরে গেলে সুখেশান্তিতেই থাকবে। এ কারণেই খোদেজা বলেছিল যে পির সাহেবের ছায়ায় বাস করা সৌভাগ্যের ব্যাপার।
উদ্দীপক-১এর সঙ্গে 'বহিপীর' নাটকের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো ধর্মীয় গৌড়ামি ও কুসংস্কার।
‘বহিপীর’ নাটকে ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কার ফুটে উঠেছে। সাধারণ মানুষের মনে ভ্রান্ত ধারণা লুকিয়ে আছে। পিরপ্রথা ধর্মীয় বিশ্বাসের একটি অংশে পরিণত হয়েছে। যা সম্পূর্ণ ভুল বলেই প্রতীয়মান হয়। কারণ পিরপ্রথার সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি একটি ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কার মাত্র। ‘বহিপীর’ নাটকে তাহেরার বাবা-মা, খোদেজা ও হকিকুল্লাহ বহিপীরের অন্ধভক্ত। তারা বহিপীরকে অন্ধভাবে অনুকরণ করে থাকে। আর এটিকে তারা ধর্মীয় কাজ বলে মনে করে।
উদ্দীপক-১এ বলা হয়েছে, গ্রামের মানুষ আসলেই আস্ত বোকা। তারা পিরকে টাকা-পয়সা দিয়ে ধোকা খাচ্ছে। তারা মোরগ, ছাগল প্রভৃতি পিরের হাতে তুলে দিচ্ছে। আর পির এগুলো জবাই করে খাচ্ছে। গ্রামের মানুষ ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কারে জড়িয়ে আছে। তারা পিরের দরবারে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী পাঠিয়ে এটিকে ধর্মীয় পূণ্যের কাজ বলে মনে করছে। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি কুসংস্কার। ‘বহিপীর’ নাটকেও এমন ধর্মীয় গৌড়ামি ও কুসংস্কার লক্ষ করা যায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপক-১এর সঙ্গে 'বহিপীর' নাটকের ধর্মীয় গৌড়ামি ও কুসংস্কারের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপক-২এর ভাবার্থ ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরার মাঝে খুঁজে পাওয়া যায়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
‘বহিপীর’ নাটকে পিরপ্রথার অন্ধ অনুকরণের দিকটি ফুটে উঠেছে। বহিপীরের অসংখ্য মুদির রয়েছে। যারা তাকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে। কিন্তু তাহেরা বহিপীরের অন্ধভক্ত নয়। সে আত্মসচেতন, প্রতিবাদী ও কুসংস্কারমুক্ত একজন নারী। সে পিরপ্রথাকে পদদলিত করে সাহসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। বহিপীরের সাথে তার অসম বিয়ের বিষয়টি সে প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ তাহেরা একজন সচেতন নারী। তাই সচেতন নারী হিসেবে সে সমাজের প্রচলিত লৌকিকতাকে পরোয়া করেনি। সামাজিক কুপ্রথাকে সে মন্পোণে ঘৃণা করে।
উদ্দীপক-২এর মধ্যে আমরা দেখতে পাই মেয়েদেরকে দমিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন অজুহাত দেখানো হয়েছে। মেয়েরা এভাবে চলবে না, এটা করবে না, ওখানে যাবে না, এভাবে বসবে না- এককথায় বিভিন্ন কুপ্রথার বেড়াজালে মেয়েদেরকে বন্দি রাখার প্রচেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফলতা আসেনি। কারণ মেয়েরা এসব ভ্রান্ত বেড়াজালে বন্দি থাকতে চায় না। তাই তারা প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে- ব্যাস অনেক হয়েছে, এভাবে আর মেয়েদের দমিয়ে রাখা যায় না। মেয়েরা কোনো কুসংস্কারে নিজেদের জড়িয়ে রাখবে না। তারা সকল বাধাবিপত্তিকে অত্তিকম করবে।
উপরিউক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, উদ্দীপক-২এর ভাবার্থ ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরার মাঝে খুঁজে পাওয়া যায়। উদ্দীপক-২এর ভাবার্থে মেয়েদের প্রতিবাদী চেতনা ফুটে উঠেছে। তারা সামাজিক বিভিন্ন কুপ্রথাকে মানতে রাজে হয়নি। তাই তারা এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। অনুরূপভাবে ‘বহিপীর’ নাটকেও তাহেরা সামাজিক ও ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। পিরপ্রথাকে সে অনুস্মরণ করেনি। কারণ তাহেরা একজন সচেতন নারী। ধর্মীয় কুসংস্কার তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। উদ্দীপকের মেয়েরা যেভাবে সমাজের কুপ্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে সেভাবে তাহেরাও প্রতিবাদ করেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ভাবার্থ তাহেরা চরিত্রের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়।
