উদ্দীপক-১:
মুছে যাওয়া দিনগুলো আমায় যে পিছু ডাকে
স্মৃতি যেন আমার হৃদয়ে বেদনার রঙে রঙে ছবি আঁকে।
উদ্দীপক-২:
ধনধান্য পুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা,
তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা।
ও সে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা।
প্রশ্নোক্ত অংশে স্বদেশের স্মৃতিবিজড়িত নদের সঙ্গে আর দেখা হবে কি না সেই বিষয়ে কবিমনের সংশয় প্রকাশ পেয়েছে।
কবি সুদূর প্রবাসে অবস্থানকালে শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত নদের কথা স্মরণ করেছেন। নদের প্রতি কবির ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে কবিতায়। জন্মভূমির কপোতাক্ষ নদ তাঁকে স্নেহডোরে বেঁধেছে। কিন্তু তিনি তার কাছে ফিরে আসতে পারছেন না। কবির সঙ্গে প্রিয় নদের আর কখনো দেখা হবে কি না তা তিনি জানেন না। এ বিষয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন। কবিমনের এই অভিব্যক্তিই এখানে ব্যক্ত হয়েছে।
উদ্দীপক-১ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার স্মৃতিকাতরতার দিকটিকে ধারণ করে।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় উল্লিখিত কপোতাক্ষ নদের সাথে কবির সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। তাঁর শৈশব-কৈশোরে বেড়ে ওঠা এই নদের তীরবর্তী সাগরদাঁড়ি গ্রামে। তাই প্রবাসজীবনে এই নদকে ভুলতে পারেন না। তিনি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন।
উদ্দীপক-১-এ ফেলে আসা দিনের স্মৃতির কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশের কবিকে তাঁর ফেলে আসা দিনগুলো পিছু ডাকে। সেসব হারানো দিনের স্মৃতি তাঁকে বেদনাহত করে। এ বিষয়টি 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় প্রতিফলিত কবির স্মৃতিকাতরতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবি দূর প্রবাসে বসে মাতৃভূমির বুকে বয়ে চলা শৈশব-কৈশোরের প্রিয় কপোতাক্ষ নদকে স্মরণ করেন। এই নদের সঙ্গে জড়ানো তাঁর স্মৃতিময় দিনগুলোর কথা ভেবে তিনি আবেগে আপ্লুত হয়েছেন। অবচেতন মনে তিনি এই নদের কলকল' ধ্বনি শুনতে পান। তিনি ভাবেন, এই নদের জল ছাড়া তার স্নেহের তৃষ্ণা মিটবে না। উদ্দীপকেও এরূপ আবেগ প্রতিফলিত হয়েছে।
"উদ্দীপকের স্তবক-২ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার মূল চেতনাকে ধারণ করেছে।'- উক্তিটি যথার্থ।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি দেখিয়েছেন যে, জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। তাই মানুষ তার জন্মভূমি ছেড়ে যত দূরেই যাক না কেন, স্বদেশভূমিকে সে কখনই ভুলতে পারে না। জন্মভূমির প্রতি গভীর অনুরাগ, আবেগ, ভালোবাসা মানুষ কখনই হারিয়ে ফেলে না। তাই তো কবি প্রবাসজীবনে সাগরদাঁড়ি গ্রাম, তার কোল ঘেঁষে বয়ে চলা কপোতাক্ষ নদকে কোনোভাবেই ভুলতে পারেন না.।
উদ্দীপক-২-এ প্রিয় জন্মভূমির শ্রেষ্ঠত্বের কথা বলা হয়েছে। কবির প্রিয় দেশটি অতুলনীয়। এমন দেশ পৃথিবীর অন্য কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। কেননা কবি মনে করেন তাঁর জন্মভূমি সব দেশের রানি। এখানে মাতৃভূমির প্রতি কবির যে অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে তা 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায়ও প্রতিফলিত হয়েছে। আলোচ্য কবিতায় কবি স্বদেশে শৈশব-কৈশোরের আনন্দ-বেদনার সঙ্গে মিশে থাকা কপোতাক্ষ নদের কথা বলেছেন। 'কপোতাক্ষ নদ' কবির স্মৃতিতে চির উজ্জ্বল হয়ে আছে। এ নদের জল কবির কাছে মাতৃদুগ্ধের মতো। কপোতাক্ষের প্রতি কবির এ অনুরাগ ও স্মৃতিকাতরতার আবরণে তাঁর অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে, যা উদ্দীপক-২-এর মূলভাবকে নির্দেশ করে।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি তাঁর প্রবাসজীবনে জন্মভূমি থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে শৈশব-কৈশোরের প্রিয় নদকে স্মরণ করেছেন। এতে স্বদেশের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। এই স্বদেশ অনুরাগের দিকটি উদ্দীপক-২-এ প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপক-২-এ অপূর্ব সুন্দর রূপের যে দেশটির কথা বলা হয়েছে তা 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় প্রতিফলিত কবিরই দেশ। এই বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
