| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘উদ্দীপক :(১) অসম্পূর্ণ…’ ঢাকা বোর্ড ২০২২ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

উদ্দীপক :
(১) অসম্পূর্ণ প্রকটতা
(২) সমপ্রকটতা
(৩) লিখাল জিন
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
একটি জিন যখন অন্য একটি নন-অ্যালিলিক জিনের কার্যকারিতা প্রকাশে বাধা দেয় তখন এ প্রক্রিয়াটিই হচ্ছে এপিস্ট্যাসিস।
মানুষের যেসব জিন নিয়ন্ত্রিত বংশগতীয় রোগ সেক্স ক্রোমোসোমের (X ও Y) মাধ্যমে বংশ পরস্পরায় সঞ্চারিত হয় সেসব রোগকে লিঙ্গজড়িত জটিলতা বলে। মানুষের X ক্রোমোসোমে বিদ্যমান প্রকট জিন চোখের রেটিনার বর্ণ শনাক্তকারী কোন কোষগুলোর স্বাভাবিক গঠন নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু মিউটেশনের কারণে এই জিনের একটি প্রচ্ছন্ন অ্যালিল সৃষ্টি হয় যা রেটিনার লাল-সবুজ বর্ণ সংবেদী কোনো কোষের গঠন ব্যাহত করে এবং বর্ণান্ধতা রোগের সৃষ্টি করে। X ক্রোমোসোম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কারণে বর্ণান্ধতাকে লিঙ্গজড়িত জটিলতা বলা হয়।
১নং উদ্দীপকে অসম্পূর্ণ প্রকটতার উল্লেখ করা হয়েছে, যা মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ব্যতিক্রম। অসম্পূর্ণ প্রকটতার কারণে মেন্ডেলের মনোহাইব্রিড ক্রসের অনুপাত ৩: ১ এর পরিবর্তে ১: ২: ১ হয়। নিচে অসম্পূর্ণ প্রকটতার জিনতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দেওয়া হলো-
জিনতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা: হেটারোজাইগাস অবস্থায় প্রকট অ্যালিল প্রচ্ছন্ন অ্যালিলের ক্রিয়াকে সম্পূর্ণ দমন করতে ব্যর্থ হয় বা নিজ বৈশিষ্ট্য আংশিকভাবে প্রকাশ করতে পারে। তার ফলে F1 জনুতে একটা নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হয়। আর এটা মূলত অসম্পূর্ণ প্রকটতার কারণে হয়ে থাকে। ধরা যাক, লাল ফুলের প্রতীক = R; লাল ফুলের জিনোটাইপ = RR; সাদা ফুলের প্রতীক = r; সাদা ফুলের জিনোটাইপ = rr
অর্থাৎ ১টি লাল, ২টি গোলাপি এবং ১টি সাদা (অনুপাত ১: ২: ১) চেকার বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, F₂ জনুতে ২৫% লাল, ৫০% গোলাপি এবং ২৫% সাদা ফুলের উদ্ভিদ রয়েছে।
আর জিনোটাইপিক অনুপাত মেন্ডেলের ১ম সূত্রের ৩: ১ এর পরিবর্তে ১:২:১ হয়েছে। অর্থাৎ F₂ জনুতে হেটারোজাইগাস (Rr) উদ্ভিদে R জিনের অসম্পূর্ণ প্রকটতার জন্যই এরূপ ঘটনা ঘটেছে।
উদ্দীপকের সকল উদ্দীপক মেন্ডেলের সূত্রের ব্যতিক্রম। নিচে বিশ্লেষণপূর্বক মন্তব্য করা হলো-
মেন্ডেলের সূত্র আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন বংশগতীয় পরীক্ষায় মন্ডেলীয় অনুপাতের ব্যতিক্রম লক্ষ করা যায়। মেন্ডেলের ১ম ও ২য় সূত্রের বেশ কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। এদের মধ্যে অসম্পূর্ণ প্রকটতা, সমপ্রকটতা ও লিথাল জিন মেন্ডেলের ১ম সূত্রের ব্যতিক্রম।
মেন্ডেলের ১ম সূত্র অনুযায়ী, দুইটি জীবের মিলন ঘটলে F₂ জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত হয় ৩ : ১। তবে অসম্পূর্ণ প্রকটতা, সমপ্রকটতা ও লিথাল জিনের প্রভাবে এই অনুপাতে পরিবর্তন দেখা যায়। অসম্পূর্ণ প্রকটতার ক্ষেত্রে প্রচ্ছন্ন অ্যালিলের ক্রিয়াকে প্রকট অ্যালিল সম্পূর্ণ দমন বা নিজ বৈশিষ্ট্য আংশিকভাবে প্রকাশ করতে পারে। ফলে F₁ জনুতে একটি নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টির কারণে মেন্ডেলের মনোহাইব্রিড ক্রসের - অনুপাত ৩ : ১ এর পরিবর্তে ১ : ২: ১ হয়। আবার, সমপ্রকটতার ক্ষেত্রে সংকর জীবে অনেক সময় দুটি বিপরিতধর্মী জিনের দুটি বৈশিষ্ট্যই সমভাবে প্রকাশিত হয়। সমপ্রকটতার কারণে মেন্ডেলের ৩ : ১ অনুপাত পরিবর্তিত হয়ে ১ : ২ : ১ হয়। অন্যদিকে লিথাল বা মারণ জিনগুলো হলো মিউট্যান্ট জিন'। এসব জিন প্রকট বা প্রচ্ছন্ন উভয় অবস্থায় থাকে। লিথাল জিনের কারণে হোমোজাইগাস বা হেটারোজাইগাস যেকোনো অবস্থায় জীবের মৃত্যু হতে পারে। এক্ষেত্রে
মেন্ডেলের ৩: ১ অনুপাতের স্থলে ২: ১ অনুপাত হয়।
উপরিউক্ত আলোচনা হতে বলা যায়, অসম্পূর্ণ প্রকটতা, সমপ্রকটতা ও লিথাল জিন সবগুলোই মেন্ডেলের সূত্রের ব্যতিক্রম।