উদ্দীপক :
আয় আর একটি বার-
আয়রে সখা প্রাণের মাঝে আয়
মোরা সুখের দুখের কথা কব
প্রাণ জুড়াবে তায়-
"জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে।"- কথাটি দ্বারা কবি কল্পনায় কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি শুনে ভুলের ছলনায় কান অর্থাৎ হৃদয় জুড়ানোর কথা বলেছেন।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবি খ্যাতি লাভের আশায় ইউরোপ চলে যান। কিন্তু দীর্ঘ প্রবাসজীবনে একসময় স্বদেশের প্রতি তাঁর তীব্র আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। তখন তিনি অবচেতন মনে প্রিয় নদ কপোতাক্ষের কলকল ধ্বনি শুনতে পান। তিনি স্বদেশে ফিরে আসতে চান। তিনি অবচেতন মনে নদের কলকল ধ্বনি শোনাকে "জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে" বলে উল্লেখ করেছেন।
উদ্দীপকে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার স্মৃতিকাতরতার দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি তাঁর জন্মভূমির প্রিয় কপোতাক্ষ নদের স্মৃতিচারণ করেছেন। সুদূর প্রবাস জীবনে শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি তার মনে কাতরতা জাগিয়েছে। তিনি যেমন বন্ধুভাবে তাকে স্নেহাদরে স্মরণ করেন, কপোতাক্ষও যেন প্রেমভাবে 'তাঁকে স্মরণ করে- সেই প্রত্যাশা করেছেন তিনি।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি তাঁর বন্ধুকে আর একটিবার প্রাণের মাঝে আহ্বান করেছেন। সুখ-দুঃখের কথা বলে প্রাণ জুড়াতে চেয়েছেন। আরেকবার বন্ধুকে আহ্বান করার মধ্য দিয়ে স্মৃতিকাতরতার প্রকাশ ঘটেছে। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায়ও কবি জন্মভূমির বেদনা-বিধুর স্মৃতিতে কাতর হয়েছেন। তিনি প্রবাসে বসেও যেন কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি শুনতে পান। কপোতাক্ষ নদ যেন তাঁকে সয়েহে স্মরণ করে সেই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন তিনি। এভাবে বলা যায়, উদ্দীপকে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার স্মৃতিকাতরতার দিকটির প্রতিফলনর ঘটেছে।
উদ্দীপকে স্মৃতিকাতরতা থাকলেও দেশপ্রেমের অনুপস্থিতির কারণে "উদ্দীপকে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার একটি অংশের প্রধান ভাব প্রকাশিত হলেও অপর অংশটি সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার আড়ালে দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে। তিনি সুদূর ফ্রান্সে বসেও শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি শুনতে পান। জন্মভূমির এই নদের মাধ্যমে তাঁর স্বদেশের প্রতি হৃদয়ের কাতরতা প্রকাশিত হয়েছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি তাঁর সখাকে প্রাণের মাঝে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তার সঙ্গে সুখ-দুঃখের কথা বলে প্রাণ জুড়াতে চান। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি জন্মভূমির প্রিয় নদের প্রতি স্মৃতিকাতরতা প্রকাশ করেছেন যা উদ্দীপকের ভাবের সঙ্গে। সংগতিপূর্ণ। তবে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার ভাব আরও বিস্তৃত।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির দেশপ্রেমের অসাধারণ বহিঃপ্রকাশ। ঘটেছে। এই কবিতায় তাঁর জন্মভূমির প্রিয় নদের প্রতি স্মৃতিকাতরতার দিকটি উন্মোচিত হয়েছে। উদ্দীপকেও কবিতার স্মৃতিকাতরতার বিষয়টি এসেছে। কিন্তু কবির জন্মভূমির কাছে ফিরে আসার ব্যাকুলতা এবং তাকে স্মরণে রাখার মিনতির ভাবটি উদ্দীপকে অনুপস্থিতি। যার মাধ্যমে তাঁর অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে, এই দেশপ্রেমের ভাবও উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার একটি অংশের প্রধান ভাব প্রকাশিত হলেও অপর অংশটি সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
