-উদ্দীপক (i) প্রাণ ফিরে আসে সব
মৃত ফসলের মাঠে।
চাতক পাখির ঠোঁটে হীরকের মতো, বৃষ্টির জল
প্রাণবন্ত পৃথিবী! দেখি ঘুম ভাঙ্গা
রিমঝিম সব বৃষ্টির ফল।
উদ্দীপক (ii) এসো শ্যামল সুন্দর
আনো তব তপোহরা তৃষ্ণাহরা সঙ্গসুধা
বিরহিণী চাহিয়া আছে আকাশে
বকুল মুকুল রেখেছে গাঁথিয়া
বাজিছে অঙ্গনে মিলন বাঁশরি।
সওয়ার শব্দের অর্থ আরোহী।
'বৃষ্টি' কবিতায় 'বিষণ্ণ মেদুর' বলতে রুক্ষ প্রকৃতির প্রাণ ফিরে পাওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
'বৃষ্টি' কবিতায় দেখা যায় বৃষ্টিবিহীন প্রকৃতির রুক্ষতা বৃষ্টির আগমনে দূরীভূত হয়েছে। প্রকৃতি তাই স্নিগ্ধকোমল হয়ে চারদিক প্রাণোচ্ছল করে তুলেছে। প্রকৃতিতে বৃষ্টি না থাকলে প্রকৃতি তার স্বাভাবিক প্রাণোচ্ছলতা হারিয়ে ফেলে। প্রকৃতির সবকিছু বিষণ্ণ মনে হয়। কিন্তু প্রকৃতিতে যখন বৃষ্টির ছোঁয়া লাগে, তখন প্রকৃতি হারানো প্রাণ ফিরে পায়। সবকিছু সতেজ-সজীব হয়ে ওঠে। আলোচ্য কবিতায় 'বিষণ্ণ মেদর' বলতে প্রকৃতির সেই প্রাণ ফিরে পাওয়াকেই বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপক-(i)-এ 'বৃষ্টি কবিতায় উল্লিখিত বৃষ্টি আসার ফলে প্রকৃতিতে প্রাণস্পন্দন ফিরে আসার দিকটি ফুটে উঠেছে।
'বৃষ্টি' কবিতায় প্রকৃতি দীর্ঘ তাপপ্রবাহের পর বৃষ্টিকে আশীর্বাদ রূপে গ্রহণ করে। বৃষ্টি মাঠ, অরণ্য, নদী, তৃষিত বনকে নতুন প্রাণ দেয়। রুক্ষ মাটি বৃষ্টির সুরে জেগে ওঠে। আর আকাশ-বাতাসে তৈরি হয় বিষণ্ণ অথচ সজীব এক নবজাগরণের আবহ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বৃষ্টি আসার পর প্রকৃতি প্রাণ ফিরে পায়। ফসলের মাঠে সজীবতা ফিরে আসে। মাটি বহুদিন পর বৃষ্টির ছোঁয়ায় প্রাণ জুড়ায়। বৃষ্টি আসায় জগৎ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। 'বৃষ্টি' কবিতায়ও কবি বহু প্রতীক্ষিত বৃষ্টির কথা বলেছেন। বৃষ্টি এলে প্রকৃতিতে পূর্ণ জোয়ার আসে। বৃষ্টি এলে তৃষ্ণাকাতর মাঠ-ঘাট ও বনে প্রাণের জোয়ার দেখা যায়। বর্ষার ফুল চারদিকে মোহিত করে, রুক্ষ মাটি বৃষ্টিতে প্রাণ জুড়ায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপ-(i)-এ 'বৃষ্টি' কবিতায় উল্লিখিত বৃষ্টি আসার ফলে প্রকৃতির প্রাণস্পন্দন ফিরে আসার দিকটি ফুটে উঠেছে।
প্রকৃতি ও ব্যক্তিজীবনের সম্পর্কের বিবেচনায় "উদ্দীপক-(ii) 'বৃষ্টি' কবিতার প্রাকৃতিক রূপান্তর ও মানবজীবনের নিঃসঙ্গতা ও বেদনাকে মূর্ত করেছে" মন্তব্যটি যথার্থ।
'বৃষ্টি' কবিতায় বৃষ্টির সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। প্রকৃতিতে বর্ষা আসে প্রাণের সঞ্চার করতে। বৃষ্টির দিনে সংবেদনশীল মানুষও রসসিক্ত হয়ে ওঠে। এসময় ব্যক্তিমন স্মৃতিরোমন্থন করে। কারও মন আবার বিরহে কাতর হয়। মূলত বৃষ্টির সঙ্গে ব্যক্তিজীবনের সম্পৃক্ততার কাব্যরূপ এ কবিতায় ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে বৃষ্টির প্রভাবে প্রকৃতি ও মানবমন পরিবর্তন হওয়ার বিষয়টি লক্ষণীয়। সেখানে বিরহিণী বৃষ্টির প্রতীক্ষায় আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। সে তার প্রিয়জনের জন্য বকুল-মুকুল গেঁথে রেখেছে। প্রকৃতির রূপান্তরে যেন মিলনের আবহ তৈরি হয়েছে। বিরহিণীর মনে বৃষ্টির প্রভাব স্পষ্টত ফুটে ওঠে। 'বৃষ্টি' কবিতায় বৃষ্টির প্রভাবে প্রকৃতির পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যায়। বৃষ্টির ছোঁয়ায় মানবমনে তৈরি হয় সুখময় অতীত স্মৃতির আলপনা।
উদ্দীপকে বৃষ্টির প্রভাবে মানবমনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 'বৃষ্টি' কবিতায় দেখা যায়, বৃষ্টি শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা বা প্রাকৃতিক পালাবদলের নিয়ামক নয়, এর সঙ্গে ব্যক্তির জীবনও কতটা সম্পৃক্ত তারই কাব্যরূপ ? ফুটে উঠেছে। উদ্দীপক-(ii) ও কবিতায় বৃষ্টির প্রভাবে মানুষের মনের নানা পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যায়, যেমন- অতীত স্মৃতি জেগে ওঠে। মানুষের মন পুরানো স্মৃতিতে ফিরে গিয়ে ভালো লাগা বা বিরহ স্মৃতিতে ভাসতে থাকে। বৃষ্টির প্রভাব একাকী জীবনে বিরহ বাড়ায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপক-(ii) 'বৃষ্টি' কবিতার প্রাকৃতিক রূপান্তর ও মানবজীবনের নিঃসা ও বেদনাকে মূর্ত করেছে” মন্তব্যটি যথার্থ।
