উদ্দীপক অংশ-১: ধনাঢ্য ব্যবসায়ী রাকিব সাহেব বাড়ি ফেরার পথে রোগা এক লোককে মাল বোঝাই ঠেলা ঠেলতে দেখলেন। লোকটির কষ্ট দেখে তিনি দেরি না করে গাড়ি থেকে নেমে লোকটির ঠেলাগাড়িতে হাত লাগালেন এবং গন্তব্যে পৌছে দিলেন।
উদ্দীপক অংশ-২: বাড়ি ফিরে এসে রাকিব সাহেব দেখেন তাঁর ছেলে অবৈধ মালামাল ঘরে এনে রেখেছে। তিনি কালবিলম্ব না করে পুলিশকে খবর দেন এবং অপরাধী ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
'সাইমুম' হলো শুকনো উত্তপ্ত শ্বাসরোধকারী প্রবল হাওয়া, বিশেষত মরুভূমির হাওয়া।
"তোমার স্মৃতি যে আজানের ধ্বনি জানে না মুয়াজ্জিন” – চরণটিতে নামাজের জন্য প্রকাশ্যে আজান দেওয়ার বিষয়টি কীভাবে হজরত উমর (রা)-এর সঙ্গে জড়িত মুয়াজ্জিন তা না জানার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
'উমর ফারুক' কবিতায় কবি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর ফারুক (রা)-এর জীবনাদর্শ, চরিত্র-মাহাত্ম্য, মানবিকতা, সাহসিকতা, ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। হজরত উমরের ইসলাম গ্রহণের পূর্বে কোরেশদের ভয়ে মুসলমানরা উচ্চ রবে আজান দিতেন না। তখন উমর ছিলেন কোরেশদের শ্রেষ্ঠ বীর। তিনি যখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন, তখন থেকেই প্রকাশ্যে আজান দেওয়ার রীতি চালু হয়। মুসলমানদের প্রকাশ্যে আজানের দেওয়ার সঙ্গে উমরের স্মৃতি জড়িত, যা অনেক মুয়াজ্জিন জানেন না।
খলিফা উমর (রা)-এর চরিত্রের অন্যতম গুণ ছিল আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা যা উদ্দীপকের ঘটনা-২-এর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'উমর ফারুক' কবিতায় কবি হজরত উমর (রা.)-এর রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের প্রতি কঠোর ও শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। প্রজাপালনে তিনি আদর্শ জীবন পরিচালিত করেন। তিনি মহৎ প্রাণ ও আদর্শ মানব চরিত্রের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
খলিফা উমর (রা) ছিলেন ন্যায়বান, সুশাসক। তিনি সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ দেখিয়েছেন। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তিনি আপন-পর ভেদাভেদ করেননি। আর সেই কারণে মদ্যপানের অপরাধে নিজ হাতে পুত্রকে বেত্রাঘাত করেছেন, মৃত্যু হয়েছে পুত্রের। কিন্তু তিনি আইনের অপমান করেননি। উদ্দীপকের ঘটনা-২-এর রাকিব সাহেব আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ায় বাড়িতে অবৈধ মালামাল রাখার অপরাধে পুলিশ ডেকে ছেলেকে ধরিয়ে দেন। এভাবে রায়হান সাহেবের চরিত্রে হজরত উমর (রা) চরিত্রের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উদ্দীপকের ঘটনা-১ ও ঘটনা-২-এর মাধ্যমে খলিফার চরিত্রের সামগ্রিক দিক প্রকাশ পায় না। তিনি অনেক গুণের অধিকারী। উদ্দীপকে কেবল খলিফার মানবতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতার দুটি বৈশিষ্ট্যেরই পরিচয় পাওয়া যায়।
'উমর ফারুক' কবিতায় উল্লিখিত হজরত উমর (রা.) সত্যের একজন দৃঢ় উপাসক ছিলেন। তিনি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করতে পারতেন। একজন ন্যায়নিষ্ঠ, নির্ভীক ও গণতন্ত্রমনা ইসলামি রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি খ্যাতিমান। তিনি মানবকল্যাণে ব্রত হয়ে জগতের প্রভূত উন্নতি সাধন করেন।
উদ্দীপকের ঘটনা-১-এ উমর চরিত্রের মানবতার প্রতিফলন দেখা যায় এবং ঘটনা-২-এ দেখা যায়, রাকিব সাহেব তাঁর দুর্নীতিগ্রস্ত পুত্রকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেন যা আমরা 'উমর ফারুক' কবিতায় খলিফার চরিত্রে দেখতে পাই। খলিফা তাঁর মাদকাসক্ত পুত্রকে বেত্রাঘাতের মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। শুধু এ দুটি বৈশিষ্ট্যই উমর চরিত্রকে মহিমান্বিত করেনি। তিনি একাধারে অনেক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন।
উদ্দীপকের ঘটনা-১ ও ঘটনা-২-এ খলিফার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মানবতাবোধ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা এ দুটি রূপ দেখতে পাই। মূলত 'উমর ফারুক' কবিতায় এ দুটি রূপ ছাড়াও উমরের জীবনাদর্শ, চারিত্রিক মাহাত্ম্য, সাম্যবাদ, বীরত্ব, কোমলতা, অনাড়ম্বর জীবনযাপনের বিভিন্ন দিক প্রতিফলিত হয়েছে।
