উদ্দীপক X:
উদ্দীপক Y:
কমিয়োসিস কোষ বিভাজনের প্রোফেজ-১ এর প্যাকাইটিন উপপর্যায়ে একই ক্রোমোজোমের দুটি ক্রোমাটিডকে সিস্টার ক্রোমাটিড বলে।
ক্রেবস চক্র হলো একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া। ইংরেজ প্রাণরসায়নবিদ Sir Hans Krebs এ চক্রটি আবিষ্কার করেন বলে একে ক্রেবস চক্র বলা হয়। এ পর্যায়ে অ্যাসিটাইল Co-A মাইটোকন্ড্রিয়াতে প্রবেশ করে এবং ক্রেবস চক্রে অংশগ্রহণ করে। এ চক্রের সকল বিক্রিয়াই মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে সংঘটিত হয়। অ্যাসিটাইল Co-A অক্সালো অ্যাসিটিক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে সাইট্রিক এসিড তৈরি করে, যা পরবর্তীতে চক্রাকার পথে বিভিন্ন বিক্রিয়ার মাধ্যমে জারিত হয়ে কার্বন ডাইঅক্সাইড, পানি এবং ATP উৎপন্ন করে। এই চক্রে এক অণু অ্যাসিটাইল Co-A থেকে দুই অণু CO₂ তিন অণু NADH + H+এবং এক অণু FADH2 এবং এক অণু GTP উৎপন্ন হয়। উল্লেখ্য প্রাণিকোষের ক্রেবস চক্রে কখনো কখনো GTP এর পরিবর্তে সরাসরি ATP উৎপন্ন হতে পারে।
উদ্দীপক-X সমীকরণ দ্বারা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে বুঝানো হয়েছে এবং A ও B হলো যথাক্রমে সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল। এগুলো সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য উপাদান। নিচে সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের ভূমিকা ব্যাখ্যা করা হলো-
১. সালোকসংশ্লেষণে আলোর ভূমিকা: পানি ও CO₂ থেকে শর্করা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস আলো। সূর্যালোকের প্রভাবেই পত্ররন্ধ্র উন্মুক্ত হয়। CO₂ পাতার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে এবং খাদ্য প্রস্তুতকরণে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু পাতায় যেটুকু আলো পড়ে তার অতি সামান্য অংশই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। আলোকবর্ণালির লাল, নীল, কমলা ও বেগুনি অংশটুকুতেই সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়। সবুজ ও হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় না। সাধারণত 400 nm থেকে 480 nm এবং 680 mm তরঙ্গ দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয়।
২. সালোকসংশ্লেষণে ক্লোরোফিলের ভূমিকা: পাতার ক্লোরোফিলের পরিমাণের সাথে সালোকসংশ্লেষণের হারের সরাসরি সম্পর্ক বিদ্যমান। কারণ একমাত্র ক্লোরোফিলই আলোকশক্তি গ্রহণ করতে সক্ষম। ক্লোরোপ্লাস্টের উপাদান সৃষ্টির হারের উপর সালোকসংশ্লেষণের হার নির্ভরশীল। তবে কোষে খুব বেশি পরিমাণ ক্লোরোফিল থাকলে এনজাইমের অভাব দেখা দেয় এবং সালোকসংশ্লেষণ হ্রাস পায়।
উদ্দীপক 'X' ও 'Y' তে প্রদত্ত প্রক্রিয়াগুলো হলো যথাক্রমে সালোকসংশ্লেষণ এবং শ্বসন। নিচে সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন প্রক্রিয়ার গুরুত্ব বর্ণনা করা হলো-
সালোকসংশ্লেষণের গুরুত্ব: সালোকসংশ্লেষণ বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া। প্রকৃতিতে একমাত্র সবুজ উদ্ভিদই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করে খাদ্যের মধ্যে আবদ্ধ করতে পারে। কোনো প্রাণীই তার নিজের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে না। কাজেই খাদ্যের জন্য সমগ্র প্রাণিকুল সবুজ উদ্ভিদের উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল। সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডল থেকে CO₂ গ্রহণ করে এবং ০, ত্যাগ করে বলে এখনও বায়ুমণ্ডলে ০₂ ও CO₂ গ্যাসের সঠিক অনুপাত রক্ষিত হচ্ছে। তাই আমাদেরকে অবশ্যই অধিক হারে গাছ লাগাতে হবে। মানবসভ্যতার অগ্রগতি অনেকাংশে সালোকসংশ্লেষণের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। অন্ন, বস্ত্র, শিল্পসামগ্রী, ঔষধ, জ্বালানি কয়লা, পেট্রোল, গ্যাস প্রভৃতি উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায়। তাই সালোকসংশ্লেষণ না ঘটলে মানবসভ্যতা ধ্বংস হবে, বিলুপ্ত হবে জীবজগৎ।
শ্বসনের গুরুত্ব: শ্বসন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন শক্তি দিয়ে জীবের সব ধরনের ক্রিয়া-বিক্রিয়া ও কাজকর্ম পরিচালিত হয়। শ্বসনে নির্গত CO, জীবের প্রধান খাদ্য শর্করা উৎপন্নের জন্য সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়। এ প্রক্রিয়া উদ্ভিদের খনিজ লবণ পরিশোষণে সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও অন্যান্য জৈবিক প্রক্রিয়া চালু রাখে। কোষ বিভাজনের প্রয়োজনীয় শক্তি ও কিছু আনুষঙ্গিক পদার্থ শ্বসন প্রক্রিয়া হতে আসে। তাই এ প্রক্রিয়া জীবের দৈহিক বৃদ্ধিও নিয়ন্ত্রণ করে। কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেনের উপস্থিতিতে বাঁচতে পারে না। এদের শক্তি উৎপাদনের একমাত্র উপায় হলো অবাত শ্বসন। এ প্রক্রিয়ায় ইথাইল অ্যালকোহল তৈরি হয়, যা বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়। ল্যাকটিক এসিড ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দধি, পনির উৎপাদিত হয়। রুটি তৈরিতে এ প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়।
পরিবেশে বলা যায় যে, জীবজগতে উদ্ভিদ ও প্রাণী অর্থাৎ সকল জীবের জন্য সালোকসংশ্লেষণ এবং শ্বসন প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
