| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘উদ্ভিদ ‘K’ দ্ব্যাগ্র…’ রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ ২০২৬ – ব্রায়োফাইটা ও টেরেডোফাইটা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

উদ্ভিদ ‘K’ দ্ব্যাগ্র শাখাবিশিষ্ট এবং এতে মধ্যশিরা ও অগ্রস্থ খাঁজ বিদ্যমান। উদ্ভিদ ‘L’ এ পিনা, র্যাকিস এবং রাইজোম বিদ্যমান। উভয় উদ্ভিদই বাস্তুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
যেসব উদ্ভিদ স্থলজ পরিবেশে জন্মালেও জীবনচক্র সম্পন্ন করার জন্য পানি প্রয়োজন হয়, সেসব উদ্ভিদই হলো উভচর উদ্ভিদ।
ফার্ন প্রোথ্যালাস হলো Pteris উদ্ভিদের গ্যামিটোফাইট দশার পূর্ণাঙ্গ দেহ। এটি সবুজ বর্ণের, বহুকোষী, স্বাধীন ও স্বভোজী। এর নিম্নাংশ হতে রাইজয়েড উৎপন্ন হয়ে প্রোথ্যালাসকে মাটির সাথে সংযুক্ত রাখে এবং মাটি হতে পুষ্টি গ্রহণ করে। প্রোথ্যালাসের উপরের দিকে একটি খাঁজ থাকে, একে অগ্রস্থ খাঁজ বলে। প্রোথ্যালাসের অঙ্কীয় তলে অগ্রস্থ খাঁজের কাছে স্ত্রীজননাঙ্গ বা আর্কিগোনিয়াম এবং রাইজয়েডের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় পুংজননাঙ্গ বা অ্যান্থেরিডিয়াম উৎপন্ন হয়। একই দেহে পুংজননাঙ্গ ও স্ত্রীজননাঙ্গ অবস্থান করে বলে প্রোথ্যালাস উভলিঙ্গ প্রকৃতির।
উদ্দীপকে 'K' দ্বারা Riccia উদ্ভিদকে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে চিত্রসহ এর অন্তর্গঠন বর্ণনা করা হলো-
Riccia উদ্ভিদের অন্তর্গঠনে দুটি ভিন্ন অঞ্চল দেখা যায়- উপরের দিকে সালোকসংশ্লেষী অঞ্চল এবং নিচের দিকে সঞ্চয়ী অঞ্চল। সালোকসংশ্লেষী অঞ্চলটি লম্বালম্বিভাবে সাজানো ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত কোষের সারি দিয়ে গঠিত, যার মধ্যবর্তী বায়ুপূর্ণ স্থানটি বায়ুপ্রকোষ্ঠ নামে পরিচিত এবং এটি বায়ুরন্দ্রের মাধ্যমে বাইরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে। এই অঞ্চলের ঠিক নিচেই বর্ণহীন ও 'ঘনসন্নিবিষ্ট প্যারেনকাইমা কোষ দিয়ে গঠিত সঞ্চয়ী অঞ্চল অবস্থিত, যেখানে প্রচুর পরিমাণে শ্বেতসার বা স্টার্চ দানা খাদ্য হিসেবে জমা থাকে। থ্যালাসের উপরিভাগে একসারি বর্ণহীন কোষ দ্বারা ঊর্ধ্বত্বক এবং নিম্নভাগে নিম্নত্বক গঠিত হয়। নিম্নত্বক থেকে এককোষী রাইজয়েড এবং বহুকোষী স্কেল নির্গত হয়, যা উদ্ভিদকে মাটির সাথে আটকে রাখতে ও পানি শোষণে সাহায্য করে।
উদ্দীপকে 'L' উদ্ভিদ বলতে Pteris উদ্ভিদকে বোঝানো হয়েছে। Pteris উদ্ভিদের প্রধান দেহ স্পোরোফাইট। এর দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। নিচে Pteris উদ্ভিদের স্পোরোফাইটের গঠন বিশ্লেষণ করা হলো-
কান্ড: Pteris উদ্ভিদের কাণ্ড ছোট, দৃঢ়, শায়িত এবং রাইজোমে রূপান্তরিত। রাইজোম সাধারণত শাখাহীন। সম্পূর্ণ রাইজোম বাদামি বর্ণের শল্কপত্র দিয়ে আবৃত। এদের র্যামেন্টা বলে।
মূল: রাইজোমের নিম্নপৃষ্ঠ থেকে প্রচুর অস্থানিক মূল তৈরি হয়। মূলগুলো সরু ও শাখাযুক্ত।
পাতা: Pteris-এর পাতা পক্ষল, যৌগিক এবং সাধারণত সচূড়। এদের পাতাকে ফ্রন্ড বলে। পাতা কচি অবস্থায় কুণ্ডলিত থাকে। কুণ্ডলিত পাতাকে সারসিনেট ভার্নেশন বলে। আর কুণ্ডলিত কচি পাতাকে ক্রোজিয়ার বলে। প্রতিটি পাতায় র্যাকিসের দু'পার্শ্বে জোড়ায় জোড়ায় অনেকগুলো শাখাহীন অণুফলক বা পিনা সজ্জিত থাকে। অনুফলকগুলো অবৃন্তক, বল্লমাকার ও কিনারা মসৃণ হয়ে থাকে। প্রতিটি অনুফলকের মাঝে একটি স্পষ্ট মধ্যশিরা থাকে। প্রত্যেক পাতায় র্যাকিসের শীর্ষে একটি অনুফলক চূড়া সৃষ্টি করে এবং সেটাই সবচেয়ে লম্বা। Pteris-এর রাইজোমে ভাস্কুলার বান্ডলের প্রকৃতি সোলেনোস্টিলি বা ডিক্টিয়োস্টিলি।