| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘উদ্ভিদ কোষের বাইরের…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩ – কোষ ও এর গঠন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

উদ্ভিদ কোষের বাইরের দিকে দুই ধরনের আবরণ দেখা যায়। একটি জড় এবং অন্যটি সজীব ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
সাইটোপ্লাজমীয় মাতৃকা হলো একটি অর্ধ -তরল ,দানাদার ,অস্বচ্ছ ,সমধর্মী এবং কলয়ডাল পদার্থ যাকে সাইটোসোল বলা হয়।
আমরা জানি লাইসোজোমের এনজাইম সমূহ অম্ল পরিবেশে কার্যক্ষম হয় এরা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে এবং বিগলনকারী এনজাইম সমূহকে আবদ্ধ রেখে কোষের অন্যান্য অঙ্গানুকে রক্ষা করে। তীব্র খাদ্যের অভাবে অনেক সময় এর প্রাচীর ফেটে যায় এবং আবদ্ধকৃত এনজাইম বের হয়ে কোষের অন্যান্য অঙ্গানু গুলো বিনষ্ট করে দেয় । এই কাজকে বলা হয় স্ব - গ্রাস বা অটোফ্যাগী।
এবং এজন্যই দেহের অকেজো কোষগুলোকে অটোলাইসিস পদার্থের ধ্বংস করে বলে লাইসোজোমকে আত্মঘাতী থলিকা বা সুইসাইড ব্যাগ বলা হয়।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় ঝিল্লি অর্থাৎ সজীব ঝিল্লিটি হচ্ছে কোষ ঝিল্লি।
কোষ ঝিল্লির সবচেয়ে গ্রহণীয় মডেলটিকে বলা হয় ফ্লুইড মোজাইক মডেল। এ মডেল অনুযায়ী কোষ ঝিল্লি বীজ স্তর বিশিষ্ট প্রতিটি স্তর ফসফোলিপিড দিয়ে গঠিত এবং উভয় স্তরের হাইড্রোকার্বন লেজটি সামনাসামনি থাকে এবং হাইড্রোফিলিক অংশ বিপরীত দিকে থাকে । এখানে সেখানে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় থাকে এবং অন্যান্য উপাদান ও ফসফোলিপিডের মাধ্যমে এখানে সেখানে মিশে যেতে পারে ।
ফ্লুইড-মোজাইক মডেল অনুযায়ী কোষঝিল্লির গাঠনিক উপাদান নিম্নরূপ :
- ফসফোলিপিড বাইলেয়ার : এটি দুই স্তরবিশিষ্ট এবং ফসফোলিপিড (অণু) দিয়ে তৈরি। প্রতিটি ফসফোলিপিডে এক অণু গ্লিসারল থাকে এবং গ্লিসারলের সাথে দুটি ননপোলার ফ্যাটি অ্যাসিড লেজ এবং একটি পোলার ফসফেট হেড থাকে। ফসফেট হেড ও ফ্যাটি অ্যাসিড লেজের মাঝে গ্লিসারল থাকে।
- মেমব্রেন প্রোটিন : কোষঝিল্লিতে তিন ধরনের প্রোটিন শনাক্ত করা হয়েছে : (i) ইনটিগ্রাল প্রোটিন- এগুলো ঝিল্লির উভয় সার্ফেস পর্যন্ত ব্যাপ্ত থাকে। (ii) পেরিফেরাল প্রোটিন-এগুলো ঝিল্লির সার্কেসে থাকে এবং (iii) লিপিড সম্পৃক্ত প্রোটিন-এগুলো লিপিড কোর-এ সম্পৃক্ত থাকে ।
- গ্লাইকোক্যালিক্স : এটি ঝিল্লির ওপর একটি চিনির স্তর বিশেষ। ফসফোলিপিড অণুর সঙ্গে কার্বোহাইড্রেট শৃঙ্খল যুক্ত হয়ে গ্লাইকোলিপিড ও প্রোটিন অণুর সাথে কার্বোহাইড্রেট শৃঙ্খল যুক্ত হয়ে গ্লাইকোপ্রোটিন গঠন করে। গ্লাইকোপ্রোটিন এবং গ্লাইকোলিপিডকে মিলিতভাবে গ্লাইকোক্যালিক্স বলা হয়। কার্বোহাইড্রেট শৃঙ্খলগুলো সবসময় ঝিল্লির বহিঃস্তরে অবস্থান করে।
- কোলেস্টেরল : এটি লিপিড জাতীয় পদার্থ। ফসফোলিপিড অণুর ফাঁকে ফাঁকে এগুলো অবস্থান করে। প্রাণি কোষের ঝিল্লিতে এটি অপেক্ষাকৃত বেশি থাকে। সেল সার্ফেস (cell surfaces)-এ ভেদ্যতা (permeability) ও এনজাইমের লিপি কার্যকারিতা পরিবর্তনশীল হতে দেখা যায়। এতে বোঝা যায়, সার্ফেস এলাকা এবং এর উপাদান উভয়ই পরিবর্তনযোগ্য। লিপি, ফ্লুইড-মোজাইক মডেল অনুযায়ী এসব পরিবর্তনশীলতা ঘটা সম্ভব। এ মডেল অনুযায়ী প্রোটিন এবং গঠন উপাদানসমূহকে স্থির (fixed) ধরা হয় না, বরং মনে করা হয় এরা ফসফোলিপিডে ভেসে থাকে। ফলে বস্তুর একটি মোজাইক তৈরি হয়। প্রোটিনসমূহ আংশিক পানিগ্রাহী (hydrophilic -যখন ঝিল্লির সার্ফেস-এ থাকে) এবং আংশিক পানিরোধী (hydrophobic- যখন লিপিডের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় মাঝের দিকে থাকে) হতে পারে। এ মডেল কোষঝিল্লির কার্বোহাইড্রেট এবং প্রোটিন হতে উৎপন্ন অন্যান্য দ্রব্যাদির (protein derivatives) উপস্থিতি সমর্থন করে।
উদ্দীপকের ঝিল্লী দুটি হলো ঃ কোষ প্রাচীর এবং কোষ ঝিল্লী ।
একটি উদ্ভিদ কোষ অপেক্ষাকৃত শক্ত জড় আবরণ দিয়ে আবৃত থাকে, যাকে বলা হয় কোষ প্রাচীর । উদ্ভিদ কোষের মধ্য পর্দা এবং কোষঝিলের মাঝখানে জড় প্রাচীরের অবস্থান হয়। এককোষী উদ্ভিদ বা ব্যাকটেরিয়াতে কোষঝিলের বাইরে জড় প্রাচীরটির অবস্থান থাকে। কোষ প্রাচীর প্যাকটিক এসিড ক্যালসিয়াম পেকটেট এবং ম্যাগনেসিয়াম লবণ দিয়ে গঠিত হয় এছাড়াও তাতে অল্প পরিমাণে প্রোটোপেকটিন থাকে।
কোষ ঝিল্লি একটি সেলের অংশ যা সেলটির বাইরের সীমা দেওয়া থাকে। এটি সেলটির রক্ষা করে, সেলের অবস্থান স্থাপন করে। কোষ ঝিল্লি সেলটির প্রাচীর এবং সেলের অত্যন্ত দুর্বল অংশের সুরক্ষা ও ভিত্তি প্রদান করে। এটি সেলের অভ্যন্তরীণ সংযোগ প্রদান করে ।
প্রতিটি উদ্ভিদ কোষ সাধারণত বাইরের দিকে একটি নির্জীব জড় আবরণী দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকে। কোষ প্রাচীর ও কোষ ঝিল্লীর মধ্যে পার্থক্য নিম্নরুপ-
১। কোষ প্রাচীর কোষের নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদান করে। অন্যদিকে কোষ ঝিল্লীর কোষকে নির্দিষ্ট আকার দান করে।
২। কোষ প্রাচীর বাইরের প্রতিকূল পরিবেশ থেকে প্রোটোপ্লাজমকে রক্ষা করে। অন্যদিকে কোষ ঝিল্লীর কোষ এর আভ্যন্তরীণ সকল বস্তুকে বেষ্টন করে রাখে।
৩। কোষ প্রাচীরের প্রয়োজনীয় শক্তি ও দৃঢ়তা প্রদান করে। অন্যদিকে কোষ ঝিল্লীর বাইরের সকল প্রতিকূল অবস্থা থেকে অভ্যন্তরীণ বস্তুকে রক্ষা করে।
৪। কোষ প্রাচীর কোষের ভেতরে ও বাইরে পানি ও খনিজ লবণ যাতায়াত কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে কোষ ঝিল্লী কোষের বাইরে এবং ভেতরে পদার্থের স্থানান্তর নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় করে (ভেদ্য, অভেদ্য বা অর্ধভেদ্য হিসেবে)।
৫। কোষ প্রাচীরের কোষগুলোকে পরস্পর থেকে পৃথক রাখে। অন্যদিকে কোষ ঝিল্লীর বিভিন্ন বৃহদাণু সংশ্লেষ করতে পারে।