| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘উদ্ভিদ কোষের মধ্যে…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯ – কোষ ও এর গঠন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

উদ্ভিদ কোষের মধ্যে দুটি বিশেষ অঙ্গাণু রয়েছে। প্রথমটিতে ETS এবং দ্বিতীয়টিতে ফটোসিন্থেটিক ইউনিট বিদ্যমান।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
বর্তমানকালের কোনো জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীতকালের কোনো জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলসম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয় ।
হোল্ডফাস্ট ছাড়া অন্য যেকোনো কোষ আড়াআড়িভাবে বিভক্ত হতে পারে। ফলে ফিলামেন্ট দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। অন্যদিকে স্বপ্নার পর্যবেক্ষণকৃত ছত্রাকটি Agaricus। মাইসেলিয়াম থেকে ছাতার মতো বায়বীয় অংশ সৃষ্টিকে ফ্রুকটিফিকেশন বলে এবং ওই বায়বীয় অংশকে Agaricus-এর ফ্রুটবডি বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম অঙ্গাণুটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়া।
নিচে মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন চিত্রসহ বর্ণনা করা হলো-
মাইটোকন্ড্রিয়৷' একটি দ্বি-স্তরী আবরণী বা মেমব্রেন দ্বারা আবৃত। মেমব্রেনটি লিপোপ্রোটিন বাইলেয়ার প্রকৃতির। বাইরের মেমব্রেনটি মসৃণ কিন্তু ভেতারের মেমব্রেনটি কেন্দ্রের দিকে অনেক ভাঁজবিশিষ্ট আঙ্গুলের মতো প্রবর্ধক সৃষ্টি করে। এগুলোকে ক্রিস্টি বলে। দুই মেমব্রেনের মাঝখানের ফাঁকা স্থানকে বলা হয় বহিঃস্থ কক্ষ এবং ভেতরের মেমব্রেন দিয়ে আবদ্ধ কেন্দ্রীয় অঞ্চলকে বলা হয় অভ্যন্তরীণ কক্ষ। অভ্যন্তরীণ কক্ষ জেলীর ন্যায় ঘন সমসত্ব পদার্থ ম্যাট্রিক্স দ্বারা পূর্ণ থাকে। অন্তঃআবরণীর অন্তর্গাত্রে অসংখ্য অক্সিজোম থাকে। অক্সিসোম বৃন্তকে স্থানে স্থানে ATP Synthesis নামক গোলাকার বস্তু আছে। এতে ATP সংশ্লেষিত হয়। এছাড়া সমস্ত ক্রিস্টিব্যাপী অনেক ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন অবস্থিত। আগে এগুলোকে একত্রে অক্সিসোম নামে অভিহিত করা হতো। মাইটোকন্ড্রিয়ার নিজস্ব বৃত্তাকার DNA এবং রাইবোসোম রয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত দ্বিতীয় অঙ্গাণুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট।
জীবের অস্তিত্ব রক্ষায় পৃথিবীর সকল জীবকুল ক্লোরোপ্লাস্ট এর উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। এটি খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।ক্লোরোপ্লাস্ট জীবজগতের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ন ।এটি একটি কোষ অঙ্গাণু এবং সবুজ রঞ্জক পদার্থ ক্লোরোফিল ধারণ করে, তাই একে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার দ্বারা শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করা কোরোপ্লাস্টের প্রধান কাজ।এতে ফটোফসফোরাইলেশন অর্থাৎ, সূর্যের আলোর সহায়তায় ADP কে ATPতে রূপান্তর করে ।প্রোটিন ও নিউক্লিক এসিড তৈরি করে।কিছু RNA ও ফ্যাটি এসিড সংশ্লেষণ করে । এদের DNA থাকায় সাইটোপ্লাজমিক ইনহেরিটেন্স এ অংশ নেয়। বংশানুক্রমে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের স্বকীয়তা ধারণ করে রাখা। এটি ফটোরেসপিরেশন বা আলোক শ্বসন ঘটায়। একমাত্র সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমেই সৌরশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত হয়ে খাদ্যে আবদ্ধ হয়। এ কাজটি ক্লোরোপ্লাস্ট করে । এছাড়া ক্লোরোপ্লাস্টের ক্লোরোফিলের উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুর কার্বন ডাই অক্সাইড শোষিত হয় এবং অক্সিজেন উৎপন্ন হয়। ক্লোরোপ্লাস্ট প্রাণিকুলের জন্য ক্ষতিকর কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে এবং সকল জীবের শ্বসনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে জীবজগতকে নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে। এছাড়া ক্লোরোপ্লাস্ট এর সাহায্যে প্রস্তুতকৃত খাদ্য শর্করা উদ্ভিদে সঞ্চিত থাকে। যা প্রাণিকুলের খাদ্যের একমাত্র উৎস।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, জীবজগতের অস্তিত্ব রক্ষায় ক্লোরোপ্লাস্ট এর ভূমিকা অপরিসীম ।