| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘উদ্ভিদ কোষের মধ্যে…’ সিলেট বোর্ড ২০২৩ – কোষ ও এর গঠন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

উদ্ভিদ কোষের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন অংশের মধ্যে একটিতে “কোষের মস্তিষ্ক” এবং অন্যটিকে “কোষের রান্নাঘর” বলা হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
এক অনু পেন্টোস স্যুগার ও এক অণু নাইট্রোজেন বেস যুক্ত হয়ে যে যৌগ গঠন করে তাই নিউক্লিওসাইড।
যে কোডন প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় অ্যামিনো এসিড এর সংকেত বহন করে না অর্থাৎ পলিপেপটাইড চেইন সংশ্লেষ বন্ধ করা নির্দেশ করে বা সংকেত প্রদান করে,তাকে সমাপনী কোডন বা ননসেন্স কোডন বলে। ৬৪ টি কোডের মধ্যে তিনটি কোড কোন অ্যামিনো এসিডকে কোড করে না। এরা পলিপেপটাইড সংশ্লেষণের সমাপ্তি সংকেত প্রদান করে। -UAA,UAG এবং UGA.
উদ্দীপকের প্রথমে উল্লেখিত অংশটি দ্বারা নিউক্লিয়াসকে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে নিউক্লিয়াসের গঠন বর্ণনা করা হলো-
নিউক্লিয়াস হচ্ছে কোষের সেই অঙ্গানু যা বংশগতি উপাদানকে ধারণ করে এবং বিভাজনের মাধ্যমে অপত্য কোষের সঞ্চার করে। সকল প্রকার ইনক্যারিওটিক কোষের নিউক্লিয়াস পাওয়া যায়। নিউক্লিয়াসকে কোষের প্রাণকেন্দ্র, মস্তিষ্ক, কেন্দ্রিকা ইত্যাদি বলা হয়।
একটি আদর্শ নিউক্লিয়াস চারটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। যথা-
১. নিউক্লিয়ার আবরণী বা নিউক্লিয়াস এনভেলপ: যে সজীব, অর্ধভেদ্য, লিপোপ্রটিন নির্মিত দ্বি-স্তরী আবরণী দ্বারা নিউক্লিয়াস আবৃত থাকে, তাকে নিউক্লিয়ার আবরণী বা নিউক্লিয়ার মেমব্রেন বলে। এটি বহিঃস্তরী অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত, ছিদ্র গুলোকে নিউক্লিয়ার রন্ধ্র বলে। প্রতিটি ছিদ্র সংকোচন প্রসারণশীল। এ বহিঃস্তরের রাইবোজোম ও এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ও যুক্ত থাকে।
২. নিউক্লিওপ্লাজম: নিউক্লিয়াস মধ্যস্থ সমসত্ব, স্বচ্ছ, অর্ধতরন ও দানাদার ধাত্র পদার্থ, যার মধ্যে নিউক্লিয়াস ও ক্রোমাটিন তন্তু অবস্থান করে তাকে নিউক্লিওপ্লাজম বা ক্যারিওলিম্ফ বলে। এর প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো পানি, RNA, DNA, ফসফোপ্রোটিন, হিস্টোন, এনজাইম ও খনিজ লবণ ইত্যাদি।
৩. নিউক্লিয়াস: নিউক্লিয়াসের ভেতর যে ছোট অধিকতর ঘন গোলাকার ও অপেক্ষাকৃত উজ্জ্বল বস্তু দেখা যায় তাই নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াস সাধারণত নির্দিষ্ট ক্রোমোজোমের একটি নির্দিষ্ট স্থানে লাগানো থাকে সেই স্থানটিকে বলা হয় SAT বা স্যাটেলাইট। প্রতিটি নিউক্লিয়াসের একটি নিউক্লিওলাস থাকে। রাসায়নিকভাবে এতে প্রোটিন, লিপিড, DNA, RNA, কয়েক ধরনের এনজাইম, সামান্য খনিজ লবণ ইত্যাদি থাকে।
৪. ক্রোমোটিন জালিকা: ইন্টারফেস দশায় নিউক্লিওপ্লাজমে অবস্থিত যে সূক্ষ্মসূত্রাকার অংশ গুলো জালিকাকারে বিন্যস্ত থাকে তাদের ক্রোমোটিন তন্তু বা নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম বলে। প্রোমোটিন সূত্রগুলো নিউক্লিক অ্যাসিড এবং প্রোটিন দ্বারা গঠিত। কোষ বিভাজনের সময় এই ক্রোমোটিন জালিকা খুলে কতগুলো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সরু সুতার মতো অংশে পরিণত হয়, এদের ক্রোমোজোম বলে। কোষ বিভাজন অবস্থায় ক্রোমোটিন তন্তুগুলো ক্রমাগত কুন্ডলিত হয়ে অপেক্ষাকৃত খাটো ও মোটা হয়ে পৃথক পৃথকভাবে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ও আকৃতিতে দৃশ্যমান হয় তখন এদের ক্রোমোজোম বলে। ক্রোমোজোমে জিন অবস্থিত এবং জীন গুলোই প্রজাতির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশের জন্য দায়ী।
উদ্দীপকের শেষে লিখিত অংশটি দ্বারা ক্লোরোপ্লাস্টকে নির্দেশ করা হয়েছে। প্রাণিজগতের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে ক্লোরোপ্লাস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
ক্লোরোপ্লাস্ট এক ধরনের সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড। ক্লোরোপ্লাস্ট লিপিড ও প্রোটিনের দ্বি-স্তর বিশিষ্ট পর্দার ভেতরে স্ট্রোমা নামক জলীয় মাধ্যমে অসংখ্য ফলে সদৃশ চাকতির সমন্বয়ে গঠিত এ চাকতির ভিতরে রয়েছে, ATP তৈরির যাবতীয় এনজাইম। এছাড়াও ফটোসিন্থেটিক ইউনিটে রয়েছে ক্লোরোফিল-এ, ক্লোরোফিল-বি, ক্যারেটিন এবং জ্যান্থোফিল।
ক্লোরোপ্লাস্ট এর প্রধান কাজ হল সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় CO2 ও পানির সাহায্যে শর্করা উৎপন্ন করা। এজন্য সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত কাজও করে থাকে ক্লোরোপ্লাস্ট। যেকোনো সবুজ উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির জন্য এ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা উৎপন্ন করার সময় O2 উৎপন্ন করে। O2 ছাড়া কোন জীব বেঁচে থাকতে পারে না।
যেহেতু, এ প্রক্রিয়াগুলোর সাথে ক্লোরোপ্লাস প্রত্যক্ষভাবে জড়িত তাই জীবের অস্তিত্ব রক্ষায় এ কোষীয় অঙ্গাণুটি অপরিহার্য। আর এভাবেই ক্লোরোপ্লাস্ট জীবের অস্তিত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।