| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘উদ্ভিদ ‘P’ ও…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২১ – উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

উদ্ভিদ ‘P’ ও ‘Q’ প্রক্রিয়ায় খনিজ লবণ শোষণ করে। বিপাকীয় শক্তির ব্যবহারের উপর নির্ভর করে ‘P’ প্রক্রিয়ায় খনন হার বৃদ্ধি পেলেও ‘Q’ প্রক্রিয়ায় শ্বসন হার স্বাভাবিক থাকে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিকাশ ও জীবন ধারনের জন্য যেসব মৌল অধিক পরিমাণে লাগে সেগুলোই হলো ম্যাক্রোমৌল।
কতিপয় পদার্থের আয়ন কোষঝিল্লির মাধ্যমে ব্যাপন ঘটাতে পারে। না। যেমন- প্রোটিন অণুর আয়তনের কারণে কোষঝিল্লির মাধ্যমে এর ব্যাপন বাধাপ্রাপ্ত হয়। এরূপ আয়নকে যুক্ত আয়ন বলে। কোষঝিল্লির অভ্যন্তরীণ তলে বেশি পরিমাণ নেগেটিভ চার্জের প্রোটিন যুক্ত হলে একে নিরপেক্ষ করার জন্য বাহির থেকে ক্যাটায়ন কোষে প্রবেশ করে এবং আয়নের সাম্যতা আনয়ন করে। F.G.Donnan এর মতে, আয়নের ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত এভাবে আয়ন শোষণ চলতে থাকে। এ মতবাদকে ডোনান সাম্যাবস্থা বলা হয়।
উদ্দীপকের "P" প্রক্রিয়াটি হলো সক্রিয় পরিশোষণ প্রক্রিয়া। অধিকাংশ খনিজ লবণ সক্রিয় পরিশোষণ প্রক্রিয়াতেই সংঘটিত হ সক্রিয় পরিশোষণের বিভিন্ন মতবাদ প্রচলিত আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে আধুনিক মতবাদ হলো প্রোটন-অ্যানায়ন কো-ট্রান্সপোর্ট। নিচে আধুনিক মতবাদের সাহায্যে খনিজ লবণ পরিশোষণটি ব্যাখ্যা করা হলো- 1 প্রোটন অ্যানায়ন কো-ট্রান্সপোর্ট তত্ত্ব আধুনিক মতবাদ হিসেবে পরিচিত। এই আধুনিক মতবাদ অনুযায়ী আয়ন নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিনই বাহক আয়ন হিসেবে কাজ করে। বাইরের দ্রবণ থেকে প্রতিটি আয়ন কোষঝিল্লীর অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট প্রোটিন বাহক দিয়ে বাহিত হয়ে কোষের ভিতরে প্রবেশ করে। এতে যে চালিকাশক্তির প্রয়োজন হয় তা কোষঝিল্লি ATPase এনাজাইম কর্তৃক ATP ভেঙ্গে তৈরি হয়। এই ধারণা অনুযায়ী কোষঝিল্লির কোষমধ্য থেকে ATP-ase কর্তৃক ATP ভেঙ্গে এবং একই সঙ্গে একটি প্রোটন (H) পার্শ্ববর্তী কোষে নিক্ষিপ্ত হয় যাকে প্রোটন পাম্প বলে। এর ফলে কোষের বাইরের সাথে ভেতরের একটি pH gradient (কোষের বাইরে pH কম এবং ভেতরে pH বেশি) এবং Potential gradient (কোষের বাইরে +ve charge বেশি এবং ভেতরে +ve charge কম) তৈরি হয়। এরূপ অবস্থাকে একত্রে প্রোটন মোটিভ ফোর্স বা তড়িৎ রাসায়নিক বিভব বলে। প্রোটন মোটিভ ফোর্স তৈরি হলেই বাহক প্রোটিনগুলো সক্রিয় হয় এবং ক্যাটায়নের একক পরিবহন ঘটায়। আবার প্রোটনও বাইরে থেকে ভেতরে ঢুকতে চায় আর সে সময় অ্যানায়নগুলো প্রোটন অ্যানায়ন কো-ট্রান্সপোর্ট প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট বাহকের মাধ্যমে ভেতরে ঢুকে।
উদ্দীপকের 'P' ও 'Q' প্রক্রিয়া দুটি হলো যথাক্রমে সক্রিয় পরিশোষণ এবং নিষ্ক্রিয় পরিশোষণ। নিচে সক্রিয় পরিশোষণ এবং স্ক্রিয় পরিশোষণের মধ্যে বৈসাদৃশ্যসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো- বিপাকীয় শক্তির প্রত্যক্ষ প্রয়োগে সক্রিয় পরিশোষণ ঘটে। অপরদিকে নিষ্ক্রিয় পরিশোষণে বিপাকীয় শক্তির প্রত্যক্ষ প্রয়োজন পড়ে না। ২. সক্রিয় পরিশোষণে শ্বসন হার বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে নিষ্ক্রিয় পরিশোষণে শ্বসন হার বৃদ্ধি পায় না। ৩. সক্রিয় পরিশোষণে ক্যাটায়ন (+) ও অ্যানায়ন (-) এর শোষণ একই সঙ্গে ঘটে। কিন্তু নিষ্ক্রিয় পরিশোষণে ক্যাটায়ন (+) ও অ্যানায়ন (-) একই সঙ্গে শোষিত হয় না। ৪. সক্রিয় শোষণে বাহক আয়ন বা অণু দ্বারা সম্পন্ন হয়। অপরদিকে নিষ্ক্রিয় শোষণে কোনো বাহক আয়ন বা অণুর প্রয়োজন হয় না। ৫. সক্রিয় পরিশোষণে এনজাইম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু নিষ্ক্রিয় পরিশোষণে এনজাইমের কোনো ভূমিকা নেই।